#একটি মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ কী?”—কেউ বলবে টাকা, কেউ বলবে বাড়ি, কেউ বলবে ব্যবসা, কেউ বলবে জ্ঞান, আবার কেউ বলবে সম্মান ও ক্ষমতা। কিন্তু একজন মানুষ আছেন, যাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল এসবের কোনোটিই নয়। তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল—আল্লাহর দেওয়া হিকমত এবং সেই হিকমতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক।
তিনি ছিলেন লোকমান (রহ.)।
লোকমান (রহ.)-এর জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত ঐতিহাসিক তথ্য খুব বেশি নির্ভরযোগ্যভাবে সংরক্ষিত নেই। কিন্তু কুরআন তাঁর এমন কিছু কথা ও শিক্ষা আমাদের সামনে তুলে ধরেছে, যা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য পথনির্দেশ হয়ে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি অবশ্যই লোকমানকে হিকমত দান করেছিলাম—‘আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো।’ আর যে শুকরিয়া আদায় করে, সে নিজের কল্যাণের জন্যই শুকরিয়া আদায় করে।” (সূরা লুকমান: ১২)
এই আয়াতটি শুধু লোকমান (রহ.)-এর প্রশংসা নয়; বরং মানুষের জীবনের একটি বিশাল সত্য প্রকাশ করে—আল্লাহ যখন কাউকে কোনো নেয়ামত দেন, তখন সেই নেয়ামতের আসল পরীক্ষা হলো সে কীভাবে তা ব্যবহার করে।
ধরুন, একজন মানুষকে আল্লাহ অর্থ দিলেন। সেই অর্থ তাকে অহংকারীও করতে পারে, আবার দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমও হতে পারে।
কাউকে আল্লাহ জ্ঞান দিলেন। সেই জ্ঞান তাকে অন্যকে তুচ্ছ করার কারণও হতে পারে, আবার মানুষকে সত্যের পথে ডাকার মাধ্যমও হতে পারে।
কাউকে আল্লাহ ক্ষমতা দিলেন। সে ক্ষমতা দিয়ে মানুষের ওপর জুলুমও করতে পারে, আবার মানুষের অধিকার রক্ষা করতেও পারে।
কাউকে আল্লাহ সুন্দর কণ্ঠ দিলেন। সে কণ্ঠ দিয়ে মিথ্যা ও অশ্লীলতা ছড়াতে পারে, আবার ভালো কথা বলেও মানুষের হৃদয় পরিবর্তন করতে পারে।
অর্থাৎ নেয়ামত নিজে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নয়। বরং নেয়ামত পেয়ে মানুষ কী করে—সেটিই তার পরীক্ষার বিষয়।
লোকমান (রহ.)-কে আল্লাহ হিকমত দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এই হিকমতকে নিজের ব্যক্তিগত কৃতিত্ব মনে করেননি। তাঁর প্রথম শিক্ষা ছিল—শুকরিয়া আদায় করা।
এখানেই একজন জ্ঞানী ও অহংকারী মানুষের মধ্যে পার্থক্য।
অহংকারী মানুষ কিছু অর্জন করলে বলে, “আমি করেছি।”
জ্ঞানী মুমিন বলে, “আল্লাহ আমাকে করার সুযোগ দিয়েছেন।”
অহংকারী মানুষ বলে, “আমি এত কিছু জানি।”
শুকরগুজার মানুষ ভাবে, “আল্লাহ আমাকে জ্ঞান দিয়েছেন; এখন আমাকে দেখতে হবে এই জ্ঞান দিয়ে আমি কী করছি।”
এই শিক্ষা আজকের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একজন ছাত্র ভালো ফল করল। সে হয়তো বলল, “আমি সবার চেয়ে মেধাবী।”
কিন্তু সে যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা করে, তাহলে বুঝবে—তার বুদ্ধি কে দিয়েছে? তার সুস্থ শরীর কে দিয়েছে? তার চোখ, কান ও স্মৃতিশক্তি কে দিয়েছে? তাকে পড়ার সুযোগ কে দিয়েছে?
মানুষ চেষ্টা করে, পরিশ্রম করে—এগুলো সত্য। কিন্তু সেই চেষ্টা করার সামর্থ্যও আল্লাহর নেয়ামত।
একজন ব্যবসায়ী অনেক টাকা উপার্জন করল। সে যদি মনে করে, “আমার বুদ্ধি ও কৌশল ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়,” তাহলে তার অন্তরে অহংকার জন্ম নিতে পারে। কিন্তু সে যদি ভাবে, “আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু রিজিকের দরজা আল্লাহ খুলেছেন,” তাহলে তার হৃদয়ে শুকরিয়া জন্ম নেবে।
লোকমান (রহ.)-এর হিকমত আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গিই শেখায়।
একদিন একজন মানুষ নিজের সাফল্য নিয়ে খুব গর্ব করছিল। সে তার পরিচিতদের বলছিল, “আমি নিজের যোগ্যতায় আজ এই অবস্থানে এসেছি। আমার মতো পরিশ্রম আর কেউ করেনি।”
তার পাশে বসা একজন বৃদ্ধ চুপচাপ তার কথা শুনছিলেন।
লোকটি বলল, “আমি কাউকে সাহায্য ছাড়া এতদূর এসেছি।”
বৃদ্ধ তখন বললেন, “তুমি কি একা একা জন্মেছিলে?”
লোকটি অবাক হয়ে বলল, “না।”
“তোমার বাবা-মা কি তোমাকে বড় করেননি?”
“করেছেন।”
“তোমার শরীরের শক্তি তুমি নিজে বানিয়েছ?”
লোকটি চুপ করে গেল।
বৃদ্ধ বললেন, “তোমার চোখের দৃষ্টি? তোমার বুদ্ধি? তোমার শ্বাস? তোমার হৃদস্পন্দন? তোমার জীবনের প্রতিটি সকাল?”
লোকটি কোনো উত্তর দিতে পারল না।
বৃদ্ধ বললেন, “মানুষের চেষ্টা অস্বীকার করো না; কিন্তু চেষ্টা করার সামর্থ্য যিনি দিয়েছেন, তাঁকে ভুলে যেও না।”
এই কথাটিই লোকমান (রহ.)-এর হিকমতের অন্যতম গভীর শিক্ষা—শুকরিয়া মানে নিজের পরিশ্রম অস্বীকার করা নয়; বরং নিজের সামর্থ্যের আসল মালিককে স্বীকার করা।
তারপর আসে আরও বড় প্রশ্ন—শুকরিয়া কীভাবে করতে হয়?
শুধু মুখে “আলহামদুলিল্লাহ” বললেই কি শুকরিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যায়?
মুখের শুকরিয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নেয়ামতের প্রকৃত শুকরিয়া হলো—নেয়ামতকে এমন কাজে ব্যবহার করা, যা আল্লাহ পছন্দ করেন।
আল্লাহ কাউকে অর্থ দিয়েছেন—সে যদি সেই অর্থ দিয়ে হারাম কাজে ব্যয় করে, তাহলে শুধু মুখে শুকরিয়া বললেই হবে না।
আল্লাহ কাউকে জ্ঞান দিয়েছেন—সে যদি সেই জ্ঞান দিয়ে মানুষকে অপমান করে, তাহলে তার জ্ঞান তার জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।
আল্লাহ কাউকে ক্ষমতা দিয়েছেন—সে যদি দুর্বলদের অধিকার নষ্ট করে, তাহলে সেই ক্ষমতা তার জন্য পরীক্ষা।
আল্লাহ কাউকে সময় দিয়েছেন—সে যদি পুরো সময় অর্থহীন কাজে নষ্ট করে, তাহলে সেই নেয়ামতের হিসাব তাকে দিতে হবে।
এ কারণেই লোকমান (রহ.)-এর হিকমত শুধু কিছু সুন্দর কথা নয়। এগুলো জীবনের ব্যবহারিক শিক্ষা।
তিনি নিজের সন্তানকে এমন শিক্ষা দিয়েছিলেন, যাতে সে বুঝতে পারে—আল্লাহর নেয়ামত পাওয়া মানে দায়িত্বও পাওয়া।
তারপর লোকমান (রহ.)-এর উপদেশের ধারায় আমরা দেখতে পাই, তিনি আল্লাহর সঙ্গে শরিক না করার শিক্ষা দিয়েছেন, নামাজ কায়েম করতে বলেছেন, সৎকাজের নির্দেশ দিতে বলেছেন, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতে বলেছেন, বিপদে ধৈর্য ধরতে বলেছেন, অহংকার থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন এবং মানুষের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করতে বলেছেন।
এগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন শিক্ষা নয়।
এর শুরু আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দিয়ে।
তারপর আসে ইবাদত।
তারপর চরিত্র।
তারপর সমাজের প্রতি দায়িত্ব।
তারপর ধৈর্য ও আত্মসংযম।
অর্থাৎ লোকমান (রহ.)-এর হিকমত মানুষকে শুধু ভালো কথা শেখায় না; বরং একজন মানুষের পুরো জীবনকে সুন্দর করার পথ দেখায়।
একজন মানুষ যদি আল্লাহকে স্মরণ করে কিন্তু মানুষের সঙ্গে অহংকার করে, তার চরিত্রে সমস্যা রয়েছে।
কেউ যদি অনেক জ্ঞান অর্জন করে কিন্তু নামাজের ব্যাপারে উদাসীন হয়, তার জ্ঞানের বাস্তব প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন আছে।
কেউ যদি দান করে কিন্তু মানুষকে অপমান করে, তার দানের মধ্যে আত্মশুদ্ধির ঘাটতি থাকতে পারে।
কেউ যদি অন্যকে উপদেশ দেয় কিন্তু নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে তাকে নিজের কাছেও ফিরে তাকাতে হবে।
লোকমান (রহ.)-এর শিক্ষা তাই শুধু “কী বলব”—এটা নয়; বরং “আমি কেমন মানুষ হব?”
একবার কল্পনা করুন, একজন মানুষ তার জীবনের শেষদিকে দাঁড়িয়ে নিজের সম্পদ, বাড়ি, ব্যবসা, পরিচিতি সবকিছুর দিকে তাকাচ্ছে। তার ব্যাংকে টাকা আছে, ঘরে মূল্যবান জিনিস আছে, মানুষ তাকে সম্মান করে। কিন্তু তার অন্তরে যদি আল্লাহর শুকরিয়া না থাকে, তাহলে এসব নেয়ামত তাকে প্রকৃত শান্তি দিতে পারবে না।
অন্যদিকে একজন সাধারণ মানুষ হয়তো খুব বেশি সম্পদের মালিক নয়। কিন্তু প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বলে, “আলহামদুলিল্লাহ।” সে নিজের পরিবারকে ভালোবাসে, হালাল রিজিকের চেষ্টা করে, নামাজ পড়ে, অন্যের হক নষ্ট করে না, সামান্য পেলেও শুকরিয়া আদায় করে।
এই মানুষটি হয়তো দুনিয়ার চোখে বড় নয়, কিন্তু তার হৃদয় নেয়ামতের প্রকৃত মূল্য বুঝতে পেরেছে।
লোকমান (রহ.)-এর হিকমত আমাদের শেখায়—শুকরিয়া শুধু বেশি পাওয়ার জন্য নয়; বরং যা পেয়েছি তার মূল্য বোঝার জন্য।
আজ একজন মানুষ তার মোবাইল নিয়ে অভিযোগ করে, অথচ সে জানে না পৃথিবীর কত মানুষ যোগাযোগের সামান্য সুযোগের জন্য কষ্ট করে।
কেউ খাবারের স্বাদ নিয়ে অভিযোগ করে, অথচ পৃথিবীতে কত মানুষ একবেলা খাবারের অপেক্ষায় থাকে।
কেউ নিজের ছোট ঘর নিয়ে অসন্তুষ্ট, অথচ কত মানুষ মাথা গোঁজার জায়গা খুঁজছে।
কেউ নিজের সাধারণ পোশাক নিয়ে লজ্জিত, অথচ কত মানুষ পোশাকের মৌলিক প্রয়োজনটুকুও পূরণ করতে পারে না।
সমস্যা হলো—আমরা অনেক সময় নেয়ামতকে নেয়ামত হিসেবে দেখি না; যতক্ষণ না সেটি হারিয়ে যায়।
চোখের দৃষ্টি হারানোর আগে চোখের মূল্য বুঝি না।
স্বাস্থ্যের সমস্যা হওয়ার আগে সুস্থতার মূল্য বুঝি না।
সময় চলে যাওয়ার আগে সময়ের মূল্য বুঝি না।
প্রিয় মানুষ দূরে চলে যাওয়ার আগে তার উপস্থিতির মূল্য বুঝি না।
এ কারণেই লোকমান (রহ.)-এর প্রথম শিক্ষাগুলোর একটি এত গুরুত্বপূর্ণ—“আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো।”
শুকরিয়া মানুষকে অভাবের মাঝেও শান্ত থাকতে শেখায়।
শুকরিয়া মানুষকে অহংকার থেকে রক্ষা করে।
শুকরিয়া মানুষকে অন্যের নেয়ামত দেখে হিংসা করা থেকে দূরে রাখে।
শুকরিয়া মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—আমার যা আছে, তা আমার নিজের তৈরি নয়।
আর সবচেয়ে বড় কথা, শুকরিয়া মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত রাখে।
### লোকমান (রহ.)-এর হিকমত থেকে ১০টি গভীর শিক্ষা
১. নেয়ামত পাওয়া মানেই পরীক্ষা শুরু হওয়া।
আল্লাহ অর্থ দিলে পরীক্ষা করেন—কীভাবে ব্যয় করো। জ্ঞান দিলে পরীক্ষা করেন—কীভাবে ব্যবহার করো। ক্ষমতা দিলে পরীক্ষা করেন—দুর্বলদের সঙ্গে কেমন আচরণ করো।
২. নিজের যোগ্যতাকে অস্বীকার নয়, কিন্তু কৃতিত্বের অহংকার থেকেও বাঁচতে হবে।
পরিশ্রম করা আমাদের দায়িত্ব; ফলাফল আল্লাহর হাতে।
৩. শুকরিয়া শুধু মুখের কথা নয়।
আল্লাহ যে নেয়ামত দিয়েছেন, তা আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার করাই শুকরিয়ার বাস্তব প্রকাশ।
৪. জ্ঞান অহংকারের কারণ নয়।
আল্লাহ লোকমান (রহ.)-কে হিকমত দিয়েছিলেন এবং শুকরিয়া আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই জ্ঞান যত বাড়বে, বিনয়ও তত বাড়া উচিত।
৫. নেয়ামত কম মনে হলে অন্যের দিকে নয়, নিজের জীবনের দিকে তাকাও।
মানুষের যা নেই তার হিসাব করলে অশান্তি বাড়ে; যা আছে তার হিসাব করলে শুকরিয়া বাড়ে।
৬. আল্লাহর নেয়ামত চিনতে শেখা হৃদয়ের বড় ইবাদত।
প্রতিদিনের সাধারণ বিষয়—শ্বাস, দৃষ্টি, শ্রবণ, পরিবার, নিরাপত্তা, সময়—এসবও নেয়ামত।
৭. শুকরিয়া মানুষকে হিংসা থেকে রক্ষা করে।
যে ব্যক্তি জানে তার রিজিক আল্লাহর হাতে, সে অন্যের নেয়ামত দেখে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে না।
৮. অহংকারের বিপরীত হলো নিজের আসল অবস্থান বোঝা।
আমাদের যা আছে, সবই আল্লাহর দান। তাই মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর কোনো কারণ নেই।
৯. হিকমত মানে শুধু অনেক কিছু জানা নয়।
সঠিক জ্ঞানকে সঠিক সময়ে, সঠিক কাজে ব্যবহার করার নামও হিকমত।
১০. জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো নেয়ামতকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যবহার করা।
সম্পদ, জ্ঞান, সময়, শক্তি, প্রতিভা—সবকিছুরই একদিন হিসাব দিতে হবে।
শেষ পর্যন্ত লোকমান হাকিম (রহ.)-এর জীবনের এই শিক্ষা আমাদের একটি কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়—
“আল্লাহ আমাকে কী দিয়েছেন?”
আমরা হয়তো উত্তর দেব—অর্থ, পরিবার, জ্ঞান, সময়, স্বাস্থ্য, প্রতিভা, সুযোগ।
কিন্তু এরপর আরও একটি প্রশ্ন করতে হবে—
“আল্লাহ যা দিয়েছেন, আমি তা কী কাজে ব্যবহার করছি?”
আমার টাকা কি শুধু আমার বিলাসিতার জন্য, নাকি কোনো অসহায় মানুষের মুখেও হাসি আনছে?
আমার জ্ঞান কি শুধু নিজের অহংকার বাড়াচ্ছে, নাকি কাউকে উপকার করছে?
আমার সময় কি শুধু বিনোদনে চলে যাচ্ছে, নাকি আল্লাহর জন্যও সময় রাখছি?
আমার শক্তি কি দুর্বলকে দমন করছে, নাকি দুর্বলের পাশে দাঁড়াচ্ছে?
আমার জিহ্বা কি মানুষকে আহত করছে, নাকি ভালো কথা বলছে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই বলে দেবে—আমরা নেয়ামতের মালিকানা দাবি করছি, নাকি নেয়ামতের আমানতদার হওয়ার চেষ্টা করছি।
লোকমান (রহ.)-এর হিকমতের সবচেয়ে সুন্দর শিক্ষা তাই হতে পারে—নেয়ামত পেয়ে নিজেকে বড় মনে করো না; বরং নেয়ামতদাতাকে চিনে আরও বিনয়ী হয়ে যাও।
কারণ মানুষ যখন নিজের কৃতিত্ব দেখতে দেখতে আল্লাহর দান ভুলে যায়, তখন নেয়ামত তার জন্য অহংকারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর যখন মানুষ নিজের সামর্থ্যের পেছনে আল্লাহর অনুগ্রহ দেখতে পায়, তখন সেই নেয়ামতই তার জন্য শুকরিয়া, বিনয় এবং আল্লাহর নৈকট্যের পথ হয়ে ওঠে।
আল্লাহ আমাদের এমন হৃদয় দান করুন, যে হৃদয় নেয়ামত পেলে অহংকার না করে শুকরিয়া আদায় করে, বিপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে এবং জ্ঞান পেলে নিজেকে বড় না ভেবে আল্লাহর সামনে আরও বিনয়ী হয়ে যায়। আমিন।
#purestoryhub