মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পেতে দান ছদকা করতে হবে।
দুটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীছ শরীফ -----
১. مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ
উচ্চারণ: মা না-ক্বাছাত ছদাক্বাতুম মিম মাল
অর্থ: ছদক্বা করলে সম্পদ কমে না।
২. اَلصَّدَقَةُ تَرُدُّ الْبَلَاءَ
উচ্চারণ: আছ-ছদাক্বাতু তারুদ্দুল বালা-আ
অর্থ: ছদক্বা বালা-মুছিবতকে দূর করে দেয়।
---
প্রথম হাদীছ শরীফের হাক্বীক্বী ব্যাখ্যা: مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
> مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ، وَمَا زَادَ اللهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلَّا عِزًّا، وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللهُ
> অর্থ: "ছদক্বা করলে সম্পদ কমে না, ক্ষমা করলে মহান আল্লাহ পাক বান্দার সম্মান বৃদ্ধি করে দেন, আর কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য বিনয়ী হলে মহান আল্লাহ পাক তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।" [মুসলিম শরীফ: ২৫৮৮]
ব্যাখ্যা: বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হয়, ১০০০ টাকা থেকে ১০০ টাকা ছদক্বা করলে ৯০০ টাকা থাকলো, অর্থাৎ কমে গেল। কিন্তু হাক্বীক্বতে কমে না। কিভাবে?
- বরকত বৃদ্ধি হয়: মহান আল্লাহ পাক অবশিষ্ট ৯০০ টাকার মধ্যে এমন বরকত দেন, যা ১০০০ টাকাতেও ছিল না। সেই টাকা দিয়ে বান্দার প্রয়োজন আরও সুন্দরভাবে মিটে যায়।
- আখিরাতের ব্যাংকে জমা হয়: যে অংশ ছদক্বা করা হলো, সেটা আসলে কমলো না, বরং আখিরাতের জন্য জমা হয়ে গেল, যা কিয়ামতের দিন পাহাড় পরিমাণ হয়ে ফেরত আসবে।
- বালা-মুছিবতের খরচ থেকে বাঁচায়:
ছদক্বা না করলে হয়তো অসুখ-বিসুখে বা অন্য কোন ক্ষতিতে ৫০০ টাকা খরচ হতো। ছদক্বার কারণে মহান আল্লাহ পাক সেটা থেকে হিফাযত করেন।
দ্বিতীয় হাদীছ শরীফের হাক্বীক্বী ব্যাখ্যা: اَلصَّدَقَةُ تَرُدُّ الْبَلَاءَ
এই হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে, ছদক্বা বালা-মুছিবতকে ফিরিয়ে দেয়।
এর ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফে আরও এসেছে,
> بَاكِرُوا بِالصَّدَقَةِ فَإِنَّ الْبَلَاءَ لَا يَتَخَطَّاهَا
> অর্থ: "তোমরা সকাল সকাল ছদক্বা করো, কেননা বালা-মুছিবত ছদক্বাকে অতিক্রম করতে পারে না।" [তাবারানী শরীফ]
> اِنَّ الصَّدَقَةَ لَتُطْفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ وَتَدْفَعُ مِيتَةَ السُّوْءِ
> অর্থ: "নিশ্চয়ই ছদক্বা মহান আল্লাহ পাক উনার গোস্বা মুবারককে ঠান্ডা করে দেয় এবং অপমৃত্যু থেকে হিফাযত করে।" [তিরমিযী শরীফ]
ব্যাখ্যা: প্রতিটি মানুষের জন্য তাক্বদীরে অনেক বালা-মুছিবত লিপিবদ্ধ থাকে - যেমন এক্সিডেন্ট, অসুস্থতা, ক্ষতি, দুশ্চিন্তা। যখন বান্দা খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় ছদক্বা করে, তখন মহান আল্লাহ পাক খুশি হয়ে সেই আসমানী বালাকে জমিনে নাযিল হতে দেন না। ছদক্বা ঢালের মতো বান্দাকে হিফাযত করে।
সারকথা:
ছদক্বা করলে সম্পদ কমে না বরং বাড়ে, এবং দুনিয়ার বালা-মুছিবত ও আখিরাতের কঠিন আযাব থেকে বান্দা হিফাযত থাকে। তাই প্রতিদিন অল্প হলেও ছদক্বা করার অভ্যাস করা উচিত।