নামাজে যখন দাঁড়াই, আল্লাহ তখন কোথায় থাকেন?

কখনো কি জায়নামাজে দাঁড়িয়ে "আল্লাহু আকবার" বলার পর ভেবে দেখেছেন—আমার আল্লাহ পাক  ঠিক কোথায় আছেন? হয়তো প্রশ্নটা মাথায় আসেনি, কিংবা আসলেও উত্তর খোঁজার সাহস হয়নি।

আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে এক সাহাবী মহানবী ﷺ-কে এই একই প্রশ্ন করেছিলেন। আর সেই উত্তর শুনে ভয়ে ও লজ্জায় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।

এক জোছনাধোয়া রাতে মদিনার মসজিদে নববীতে প্রদীপ জ্বলছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবীদের মাঝে বসা। হযরত আবু যর গিফারী (রা.) মনের দীর্ঘদিনের এক লজ্জা ও কৌতূহল চেপে না রাখতে পেরে অনুচ্চ স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ... নামাজে যখন আমি দাঁড়াই, আমার রব তখন কোথায় থাকেন?"

মসজিদে এক গভীর নীরবতা নেমে এলো। রাসুলুল্লাহ ﷺ মায়াভরা চোখে তাকিয়ে বললেন, "আল্লাহ তা'আলা বান্দার দিকে সরাসরি মুখ করে থাকেন, যতক্ষণ না বান্দা অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দেয়। " (সুনানে নাসায়ী: ১১৯৫)

কথাটা শোনামাত্র আবু যর (রা.)-এর চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরতে লাগলো, শরীর কাঁপতে শুরু করলো। তিনি ভাবলেন—যাঁর এক ইশারায় আস্ত মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে, সেই মহান আল্লাহ আমার মতো তুচ্ছ বান্দার দিকে মুখ করে থাকেন! আর আমি নামাজে দাঁড়িয়ে দুনিয়াদারি, সংসার আর হিসাব-নিকাশের চিন্তায় মশগুল থাকি! এই তীব্র লজ্জা ও অনুশোচনা সহ্য করতে না পেরে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, "আমি মানুষের ঘাড়ের রগ থেকেও বেশি কাছে।" (সূরা ক্বাফ: ১৬)

অন্য হাদিসে এসেছে, বান্দা নামাজে দাঁড়ালে আল্লাহ তার মুখোমুখি থাকেন। সে ডানে-বামে তাকালে আল্লাহর দৃষ্টিও সেদিকে যায়, আবার সামনে তাকালে আল্লাহও তার সামনে। (মুসনাদে আহমাদ)

রাসুলুল্লাহ ﷺ সাহাবীদের আরও বলেছিলেন, "বান্দা যখন নামাজে থাকে, সে তার রবের সাথে সরাসরি কথা বলে। তাই তার ভাবা উচিত সে কীভাবে কথা বলছে।" (মুস্তাদরাকে হাকিম)

আমরা কোনো সাধারণ মানুষের সাথে দেখা করতেই কত সাজগোজ ও গুছিয়ে কথা বলার প্রস্তুতি নিই! অথচ বিশ্বজাহানের মালিকের সামনে দাঁড়িয়ে আমাদের মন পড়ে থাকে বাজার, মোবাইল কিংবা ব্যবসায়!

আজকের পর থেকে যখনই নামাজে দাঁড়াবেন, অন্তত ২ সেকেন্ডের জন্য একটু থামুন। চোখ দুটো বন্ধ করে ভাবুন—মহান আল্লাহ এখন ঠিক আপনার সামনে। তিনি আপনার ঠোঁটের নড়াচড়া দেখছেন, আপনার চোখের পানি আর মনের গোপন কান্না শুনছেন।

"এমনভাবে ইবাদত করো যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছো; আর তুমি না দেখলেও তিনি নিশ্চিতভাবেই তোমাকে দেখছেন।" — এটাই হলো 'এহসান' (সহিহ মুসলিম)।

লেখাটি নিজে পড়ুন এবং প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন। হয়তো আজকের পর থেকে আমাদের প্রত্যেকের নামাজ আরও অনেক বেশি অর্থপূর্ণ ও একাগ্র হয়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।