সত্যের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতে বহু পথ পেরিয়ে, হোঁচট খেতে খেতে অবশেষে আমি পেয়েছি আমার প্রাণপ্রিয়া সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে।
তিনি অতুলনীয়া এক মমতাময়ী মা। হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সন্তানদের জন্য ফিকির করতে ক্লান্তি বোধ করেন না। রাতের পর রাত, দিনের পর দিন উনাকে নির্ঘুম কাটাতে দেখেছি। অনেক সময় ছাত্রী বোনদের ব্যাপারে অথবা মহিলাদের জরুরী কোনো বিষয় জানাতে গিয়ে দেখতাম, উনার চোখে ঘুম ঘুম ভাব তখন বলতাম, থাক পরে না হয় জানাব কিন্তু তিনি বলতেন "না তুমি বল, আমি শুনছি"। ছোট বড় সকলের বিষয় মনোযোগের সাথে শুনে উপযুক্ত সমাধান দিয়ে দিতেন।
সকল মুরীদই উনার রূহানী সন্তান, হোক মহিলা বা পুরুষ। সকলের প্রতি উনার মমত্ববোধ অসাধারণ। উনার পবিত্র যবান মুবারক থেকে শুনেছি যে, "ছেলেও আমার, মেয়েও আমার। আমি মা, সবাই আমার কাছে সমান।" তিনি উনার রূহানী সন্তানদের যে কত মুহব্বত করেন তা একটি ঘটনা বললে বোঝা যাবে। একবার এক মহিলা (মুরীদ নয়), এক পীর ভাই এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন, 'আপনি তাকে কিছু বলতে পারেন না!' উত্তরে তিনি তাকে বললেন, "সে একটা পাগল, আর সন্তান পাগল হলে মা কি তাকে ফেলে দেয়"?
আমি নিজেও পেয়েছি উনার কাছ থেকে অসীম, অবারিত মুহাব্বত মুবারক। যদিও তা পাওয়ার যোগ্য আমি ছিলাম না।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে দেখেছি, সুন্দরভাবে উনার সংসার মুবারক পরিচালনার পাশাপাশি মহিলাদের তা'লীম-তালক্বীনও অব্যাহত রেখেছেন। কখনো একটির কারণে আরেকটি ছেড়ে দেননি। সবই করেছেন দক্ষতার সহিত। শুরুর দিকে আমরা দেখেছি মুহাম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা মাদরাসা উনার মুবারক রান্না তিনি নিজহাত মুবারকে করতেন। সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দেখাশোনা করা থেকে শুরু করে সবকিছুই তিনি গুরুত্বের সহিত করেন।
স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহ মিটানোর ক্ষেত্রে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ইহসান মুবারক অনস্বীকার্য। আমি দেখেছি অনেক ভাই-বোনদের পারিবারিক কলহের কারণে তাদের সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে কিন্তু সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি তা শক্ত করে জোড়া লাগিয়ে দিয়েছেন, পুনরায় মিল-মুহাব্বত স্থাপন করে দিয়েছেন।
আমি দেখেছি, হঠাৎ গৃহহীন হয়ে যাওয়া বিপদগ্রস্থ পরিবারকে তিনি দিনের পর দিন আশ্রয় দিয়েছেন। এই নির্মমতার যুগে এমনটা কেউ কখনো করেছে বলে দেখিনি। সুবহানাল্লাহ!
আহমাদ নাদিমা খানম