"একজন ঘুমন্ত ব্যক্তি অপর একজন ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগ্রত করতে পারে না, একজন মূর্খ ব্যক্তি অপর মূর্খ ব্যক্তিকে কিছু শিখাতে পারে না।"
— হযরত শেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি

মূলভাব:
যে নিজে জ্ঞানী নয়, মহান আল্লাহ পাক উনার পথে জাগ্রত নয়, হেদায়েত প্রাপ্ত নয়, সে অন্য কাউকে জ্ঞান দিতে পারে না, হেদায়েতের পথ দেখাতে পারে না। আলো দিতে হলে নিজের মধ্যে প্রথমে আলো থাকতে হয়।

একটু বিস্তারিতভাবে বললে এভাবে বলতে হবে-

পৃথিবীতে প্রতিটি কাজের জন্য যোগ্যতা লাগে। ডাক্তার হতে হলে নিজেকে আগে ডাক্তারি পড়তে হয়। শিক্ষক হতে হলে নিজেকে আগে শিক্ষিত হতে হয়। ঠিক তেমনিভাবে আত্মার ডাক্তার, মানুষের হেদায়েতের কাজও একই নিয়মে চলে।

"ঘুমন্ত" বলতে এখানে দুই ধরনের ঘুম বোঝানো হয়েছে। একটা হলো চোখের ঘুম, আরেকটা হলো দিলের ঘুম তথা গাফলত। যে ব্যক্তি নিজেই গাফেল, নামায-কালাম নাই, আখিরাতের ফিকির নাই, সে অন্য গাফেলকে কীভাবে নামাযের দিকে ডাকবে? তার কথায় কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ তার নিজের জীবনেই ইসলামের নূর নাই।

আবার "মূর্খ" বলতে শুধু অশিক্ষিত বোঝায় না। পবিত্র দ্বীন ইসলামের ইলম না থাকাটাও সবচেয়ে বড় মূর্খতা। যে নিজেই কুরআন-হাদীছ জানে না, হালাল-হারাম চেনে না, সে অন্য কাউকে কী শিখাবে? উল্টো ভুল মাসআলা শিখিয়ে নিজেও গোমরাহ হবে, অপরকেও গোমরাহ করবে।

হযরত শেখ সাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই উক্তির মাধ্যমে আমাদেরকে ২টা শিক্ষা দিলেন:
১. আগে নিজে সংশোধন হও, তারপর অন্যের সংশোধনের ফিকির করো।
২. ইলম ও আমলওয়ালা ব্যক্তির সোহবত ইখতিয়ার করো।* কারণ আলোকিত প্রদীপই পারে অন্য প্রদীপ জ্বালাতে। নিভা প্রদীপ দিয়ে আরেকটা নিভা প্রদীপ জ্বালানো যায় না।

তাই বন্ধুরা, আসুন, আমরা আগে নিজে জাগ্রত হই। নিজে ইলম অর্জন করি, আমল করি। তারপর দাওয়াতের কাজ করি। তাহলেই আমাদের কথা মানুষের দিলে আছর করবে ইনশাআল্লাহ। নতুবা "খালি কলসি বাজে বেশি" এর মতো অবস্থা হবে।

মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে জাগ্রত ও জ্ঞানী বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমীন।