5 hrs

১৯৯৫ সালের কথা। সামনে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা। সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না পরীক্ষা দিবো নাকি দিবো না। কারণ একদিকে নিজের ইচ্ছার সাথে সাথে আব্বার দিক থেকেও কিছুটা চাপ ছিলো অন্যদিকে আহালের দিক থেকে পরীক্ষা না দেয়ার তাগাদা ছিলো। ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে বিয়ে হয়েছিলো। বিয়ের পর থেকেই আহালের দিক থেকে পর্দার কারণে দুনিয়াবী পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়ার জন্যই তাগাদা আসছিলো। কিন্তু এক বছর হয়ে গেল সেই ফিকির আমার মধ্যে আসছিলো না যে, কি কারণে আমি পরীক্ষা দিবো না? কারণ আমি তো বোরকা পরছি, হাত-মোজা, পা-মোজা পরছি তবে তিনি (আহাল) কেন নিষেধ করছেন! উনার কথা, 'রিকশাওয়ালার সাথে কথা বললে পর্দা ঠিক থাকে না। দুনিয়াবী পড়াশুনার জন্য এভাবে কলেজে যাওয়া যাবে না'। কিন্তু আমি এটা মেনে নিতে পারলাম না। যাহোক, সিদ্ধান্ত নিলাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাবো এবং ফায়সালা নিবো। এই চিন্তা করে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারকে গেলাম। বিষয়টি উনার কাছে পেশ করলাম। খুব অল্প কথায় তিনি আমাকে এমন নছীহত মুবারক করলেন যার অর্থ মুবারক ছিলো অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আমাকে নছীহত মুবারক করলেন, (আমি নিজের ভাষায় বলছি) "বান্দা যেদিকে যেতে চায় মহান আল্লাহপাক তিনি তাকে সেদিকেই ফেরান। তুমি যদি মনে করো তোমার পড়ালেখার প্রয়োজন আছে, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তোমার জন্য সে ব্যবস্থাই করবেন"।

মূলত তিনি হচ্ছেন হুবহু পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মিছদাক্ব। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, "সে কথাই উত্তম যা অল্প কিন্তু বোঝায় বেশি।” তখন আমার ফিকিরে আসলো, দুনিয়াবী পড়ালেখা শেষ করলে আমি হয়তো একটা চাকুরী করার মতো যোগ্যতা অর্জন করবো। তখন যদি আল্লাহ পাক না করুন আমার আহালের কিছু হয়ে যায় তখন কি হবে! আমি চাই না আমার দুনিয়াবী উপার্জন। আমার আহাল দীর্ঘজীবী হোক। তিনি আমার ব্যবস্থা করবেন এটাই আমি চাই। সেদিন অল্প কথায় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে যে নছীহত মুবারক করেছিলেন তা আমার অন্তর পর্যন্ত পৌঁছেছিলো। যার ফলে আমি নফসানিয়ত ছাড়তে পেরেছিলাম এবং দুনিয়াবী শিক্ষা অর্জন করাটাকে চিরজীবনের জন্য বিদায় জানাতে পেরেছিলাম। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন সারা কায়িনাতের মহাসম্মানিতা মা। ক্বায়িম-মাক্কামে উম্মাহাতুল মু'মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি

একবার কোনো একটা কারণে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে গিয়েছিলাম। কথা শেষ হলে তিনি আমাকে বললেন, "তোমাকে এত মলিন দেখাচ্ছে কেন?" (আমার নিজের ভাষায় বলা)। আমি উত্তর দিলাম, 'আম্মাজী! গত রাতে ঘুম কম হয়েছে সেজন্য হতে পারে'। আমি ছোহবত মুবারক থেকে চলে আসলাম। এরপর আমি অনুভব করলাম, আমার বিষফোঁড়া উঠেছে এবং ব্যথা করছে। তখন আমি আমার নিজের সমস্যার কথা বুঝতে পারলাম। তিনি আসলেই মমতাময়ী মা, তাই সন্তানের বুঝার আগেই তিনি বুঝেছেন। সন্তানের সমস্যা কোথায় এবং সেটা কিভাবে সমাধান হবে সেটাও তিনি বুঝে থাকেন। যিকির ঠিকমতো না করায় ফিকিরও হয়না। আক্কল-সমঝ লোপ পায়। এই অবস্থার মধ্যে একবার আমিও পড়েছিলাম। নফসানিয়তের কারণে নিজের ত্রুটিগুলো বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু তিনি তো মহান আল্লাহ পাক উনার রঙ্গে রঞ্জিত। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন বান্দার অন্তরের খবর জানেন ঠিক তেমনি তিনিও আমাদের সমস্ত মুরীদদের অন্তরের খবর জানেন। তিনি বুঝতে পারলেন এভাবে যদি চলতে থাকে তবে ধ্বংস ছাড়া উপায় থাকবে না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন উনার উম্মতকে জাহান্নামের কিনার থেকে সরিয়ে জান্নাতের দিকে নিয়ে যান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনিও তেমনি করেই উনার সমস্ত সালিক-সালিকাগণকে জাহান্নামের কিনার থেকে সরিয়ে জান্নাতের দিকে নিয়ে যান। যেহেতু কর্তৃত্ব, বড়ত্ব ইত্যাদি বদ খাছলতের কারণে আমার রোগ বৃদ্ধি পেয়েছিলো তাই তিনি শিফা স্বরূপ যথোপযুক্ত প্রতিকারের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তাতেই আমি ফিকির করতে সক্ষম হয়েছিলাম যে, আমার নফস কত মোটা তাজা হয়ে গিয়েছিলো। মূলত তিনি জামালী অথবা জালালী শান মুবারক যেটাই প্রকাশ করেন না কেন তা অবশ্যই সালিক-সালিকাদের ভালোর জন্যই প্রকাশ করে থাকেন।

আহমাদ শামীমা তানভীন এ্যানি

imageimage