2 hrs

স্মরণীয় সেই সময়টি ছিল ১৪৪১ হিজরীর পবিত্র মাহে মুহাররমুল হারাম শরীফ। এই মহাসম্মানিত মাসের প্রারম্ভে, একদিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতে আমরা কয়েকজন গেলাম এবং 'নছীহতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম' কিতাব ও অন্যান্য বিষয়ে কিছু লিখা পেশ করলাম। ছোহবত মুবারক উনার এক পর্যায়ে তিনি আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, "লিখিত বিষয়বস্তু গুলো আরো মার্জিত ও সাবলীল ভাষায় লিখতে হবে এবং সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে হবে"। কথা মুবারকটি শুনার পর, আমরা সকলেই বলাবলি করতে থাকি, "ইশ! আমরা যদি এ বিষয়টি সরাসরি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কাছ থেকে শিখতে পারতাম!"

উল্লেখ্য, প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের আরজু এমনই থাকে। কেননা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার এক মহান শান হলো, তিনি প্রতিটি বিষয় সালিকাদের হাতে-কলমে শিখিয়ে একজন আদর্শ নারী হিসেবে গড়ে তোলেন। দেখা গেল, এ ক্ষেত্রেও উনার অনুরূপ শান মুবারকের বহিঃপ্রকাশ ঘটলো। তিনি নগন্য গোলামদের এই আরজুটিও কবুল করে নিলেন। ঠিক পরদিন থেকেই আমরা উনার কাছ থেকে লিখালিখি করার তরতীব শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেলাম। খুবই আশ্চর্যের বিষয় হলো, ছোহবত মুবারকে যখন কম্পিউটারে টাইপ করা বিষয়বস্তুগুলো উনার মুবারক খিদমতে পেশ করা হল, তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি সেই লিখাগুলি দেখার জন্য কম্পিউটারের সামনে বসলেন; আর আমরা গোলামরা মাত্র এক হাত পরিমাণ দুরত্ব রেখে একই স্থানে বসলাম! সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, ছোহবত দানের সময় তিনি আমাদেরকে অত্যন্ত দূর্লভ, মনোমুগ্ধকর এবং হৃদয়স্পর্শী নছীহত মুবারক করেন; এমনকি বিভিন্ন বিষয়ে মজা করে কথা মুবারকও বলেন। সুবহানাল্লাহ!! এককথায়, এই বিশেষ ছোহবত মুবারকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি উনার এক বেমেছাল শান মুবারক প্রকাশ করেন, যা সাধারণত অন্য সময় পরিলক্ষিত হয় না। এভাবেই বা'দ আছর থেকে মাগরীব পর্যন্ত সুদীর্ঘ সময় ধরে তিনি দিনের পর দিন আজ অবধি আমাদেরকে শুধু লিখালিখির তরতীবই নয় বরং ইলমে শরীয়ত-তরীক্বত ও ইলমে হাক্বীক্বতসহ সমস্ত প্রকার ইলম মুবারক দানে ধন্য করেই যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! মূলত, এটা এমন একটি অভূতপূর্ব পরিবেশ, যা দুনিয়াতেই জান্নাতী পরিবেশকেও হার মানায়! যে পরিবেশ শুধু অনুভব করা যায় কিন্তু পৃথিবীর কোনো ভাষা দ্বারা বর্ণনা করা সম্ভব নয়। যে নিয়ামত মুবারক আমাদের গোলামদের দোজাহানে পরম চাওয়া ও পাওয়া।

সম্মানিত পাঠক! গোলামের তরে মালিকায়ে কায়িনাত, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার এরূপ অতুলনীয় দিদার মুবারক অতি আনন্দের হলেও একটি বিষয় বড়ই ফিকিরের হয়ে দাঁড়ায়। তা হলো, মালিকা ও গোলামদের একই স্থানে উপবেশন!!! পরক্ষণেই স্মরণে পড়ে যায় ইতিহাসের পাতায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা। যিনি কুল-কায়িনাতের মহাসম্মানিত ইমাম হওয়া সত্ত্বেও মাঝে মাঝে একজন গোলাম হযরত যায়েদ বিন আসলাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলমী মজলিসে বসতেন অর্থাৎ মজলিসকে বরকতময় করতেন। তা দেখে হযরত ইমাম নাফে' রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আশ্চর্য হয়ে বললেন, "মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করুন, আপনি সমস্ত মানুষের সাইয়্যিদ এবং সকলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অথচ আপনি একজন গোলামের মজলিসে বসেন!” প্রতিউত্তরে তিনি বলেন, "ইলমী মজলিসের ক্ষেত্রে এমন মনোভাব থাকা সমীচীন নয়। বরং যেখানে ইলমী মজলিস হবে সেখানেই উপস্থিত থাকা উচিত।” সুবহানাল্লাহ!

আমরা সকলেই জানি, আমাদের প্রাণপ্রিয়া শায়েখ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্যতম এক সুউজ্জ্বল তারকা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! আর তাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অতুলনীয় সেই খুছুছিয়াত মুবারক উনার মাঝে বিদ্যমান থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। সুবহানাল্লাহ!!

মূলত, আমাদের মাথার তাজ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সমস্ত গুণে গুণান্বিত অর্থাৎ আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শানে তিনি শানদার। তবে আক্কল সমঝের কমতির কারণে আমাদের পক্ষে উনার অনেক বেমেছাল শান-মান মুবারক অনুধাবন করা ও ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সাদিয়া আহমাদ মাহরুবা

image