এ এক বিরল নজির! এক বিরল অভিজ্ঞতা। একই সাথে দশজনের বিয়ে। এটা একজন সাধারণ মানুষের জন্য আসলেই অসম্ভব। যা কিনা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি জাঁকজমক ভাবে ও সুশৃংখলতার সাথে সম্পন্ন করেছেন। তিনি আমাদেরকে বিয়ের দিন খাইয়ে পর্যন্ত দিয়েছেন। দূরের মানুষদের বিদায় করা তারপর কাছের মানুষদের বিদায় দেয়া সব কিছু নিজের হাতে করেছেন। শুধু কি তিনি বিয়েই দিয়েছেন! একজন মেয়ের বিয়ের পর কিভাবে চলতে হয় যেমন: স্বামী বাসায় আসার পর স্বামীকে ঠাণ্ডা শরবত বা ঠান্ডা পানি দেয়া, শশুড়বাড়ির মানুষদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক ঠিক রাখা। স্বামীর রাগের সময় কথা না বলা, স্বামী বাসায় আসার আগে নিজেকে পরিপাটি রাখা, স্বামী আসলে স্বামীর সাথে খাওয়া ইত্যাদি বিষয়েও তিনি আমাদেরকে তা'লীম মুবারক দিয়েছেন। তার আগে বিষয়গুলো এত বিস্তারিতভাবে জানতাম না। তিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে আমাদেরকে বিয়ের আগে ছোহবত মুবারক দান করে এসব বিষয় শিখিয়ে দিয়েছেন। তিনি শুধু মমতাময়ীই নন তিনি বাহরুল উলুম! তিনি জ্ঞানের মহাসমুদ্র! সুবহানাল্লাহ!

তিনি 'ইলমে লাদুন্নি' প্রাপ্ত অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনাকে বিশেষ ইলম মুবারক হাদিয়া করেছেন। যাহিরী-বাতিনী সমস্ত ইলম মুবারকই উনার জানা এমনকি চিকিৎসার বিষয়েও উনার গভীর ইলম মুবারক রয়েছে। বর্তমানে সিজারে বাচ্চা হওয়াটা নিতান্তই স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এসময়ে নরমাল ডেলিভারির বিষয়ে একমাত্র তিনিই আমাদেরকে তা'লীম মুবারক দিয়েছেন যে, কিভাবে নরমাল ডেলিভারির জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়। আমার প্রথম বাচ্চা কনসিভ করার পর আমি কিছুই খেতে পারছিলাম না। বমি হতো, ঔষধও খেতে পারতাম না। উনাকে জানানোর পর তিনি আমাকে বলেছিলেন, 'ফলিক এসিড' এর ঔষধগুলো ঠিকমত খেলে আস্তে আস্তে বমি ভাব কমে আসবে। তিনি বলার পর থেকে আমি ঠিকমত ঔষধ খেতে পেরেছি যদিও খাবার তেমন খেতে পারতাম না। তবুও আগের অবস্থা থেকে অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। কনসিভের শুরুর দিকে আমার কিছুই ভালো লাগত না, এ বিষয়েও উনাকে জানানোর পর আমার মানসিক অবস্থার অনেক উন্নতি ঘটেছিল। তারপর মাঝামাঝি সময়ে তিনি আমাদের মধ্যে যারা কনসিভকরেছিলো তাদেরকে ছোহবত মুবারক দান করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাচ্চা পেটে থাকলে কিভাবে তেল মালিশ করতে হয়। বাচ্চাদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যাপারেও উনার গভীর ইলম মুবারক রয়েছে। যেমন, আমাদের জানা ছিল না বাচ্চাদের কিভাবে এবং কত বছর পর্যন্ত তেল মালিশ করতে হয়। সাধারণত সবাই বাচ্চাদের হাত-পা মালিশ করার সময় ডান-বাম দিকে মুচড়িয়ে মুচড়িয়ে মালিশ করে থাকে। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন ডান থেকে বামে, বাম থেকে ডানে, উপর থেকে নিচে, নিচ থেকে উপরে এভাবে করে দুই বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের তেল মালিশ করতে হয়। বাচ্চাদের কিভাবে এবং কোথায় কোথায় সেঁক দিতে হয় সে বিষয়টিও তিনি বলে দিয়েছেন। বুকে সেঁক দিলে ঠাণ্ডা লাগে না, পেটে সেঁক দিলে পেট খারাপ হয় না। বাচ্চাদের হাতে পায়ে এবং কোমরে সেঁক দেয়ার বিষয়েও প্রথম উনার থেকেই জেনেছি। তিনি জানালেন, বাচ্চারা সবসময় শুয়ে থাকতে থাকতে তাদের কোমরটা ব্যথা হয়ে যায়। কোমরে সেঁক দিলে তাদের আরাম লাগে। আবার বাচ্চাদের শরীরে রোদ লাগালে ডাক্তাররা চোখে রোদ লাগাতে নিষেধ করে কিন্তু তিনি জানালেন মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ অবস্থায় রোদ লাগালে তাদের চোখের ময়লা বের হয়ে যায়।

শিশু থেকে বৃদ্ধ অর্থাৎ হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত মানুষকে চলতে গেলে যা যা করতে হয় তার উল্লেখযোগ্য সকল কিছুই তিনি আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। সমস্ত দিক থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই ক্বায়িম-মাক্বাম হিসেবে যেমন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি, ঠিক তেমনই উম্মাহাতুল মু'মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ক্বায়িম-মাক্বাম হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

আহমাদ মুসলিমা সুমি

image