আমি একদিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারকে যিকির দেখাতে গিয়েছিলাম। কয়েকজন ছাত্রী পীরবোন যিকির দেখানোর পর আমিও যিকির দেখালাম। যিকির দেখানোর পর আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে বললাম, "আম্মাজী! আমার শরীরে অনেক এলার্জী আবার অনেক জায়গায় দাদ আছে। এগুলো অনেক চুলকায়। স্কীনের ডাক্তার দেখিয়েছি কিন্তু তাতেও কমে না'। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে বললেন, "এগুলোর জন্য কাঁচা হলুদ খাবে। হলুদ খেলে চুলকানি কমে"। তখন আমি আমার হাত উনাকে দেখালাম এবং বললাম, 'এখানেও চুলকানি আছে'। তিনি বললেন, "ইশ!" আমি বললাম, 'এগুলো অনেক চুলকায়, কাপড় ধুলে অনেক ব্যথা পাই আবার খাবার খেলেও জ্বলে'। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে বললেন, "এগুলো এভাবে করতে হয় না। কতগুলো গ্লাভস পাওয়া যায়। ঐগুলো পরে কাজ করবে"। পাঠক! একটু চিন্তা করুন, কত মমতায় ভরা উনার অন্তর! তিনি এত আদর-যত্ন করে, মমতামাখা কথাগুলো বললেন! সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি যখন আমাকে কথাগুলো বলছিলেন তখন আমার যে কেমন খুশি লেগেছিলো, তা ভাষায় বুঝাতে পারবো না। কারণ কেউই এর পূর্বে এত আদর-সোহাগ দিয়ে বুঝিয়ে দেয়নি। যাই হোক, তারপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, "যে জায়গায় দাদ আছে সেখানে পড়া তেল লাগিয়ে রোদে বসে থাকলে কমতো। তারপর বললেন, ভিটামিন-ডি মলম পাওয়া যায়। ভিটামিন-ডি মলম লাগাতে হবে, ভিটামিন-ডি খেতেও হবে। রোদের অভাবে এগুলো হয়ে থাকে"। আমি বললাম, 'আম্মাজী! হলুদ কিভাবে খাবো?' তিনি বললেন, "বেটে রস করেও খেতে পারো আবার চিবিয়েও খেতে পারো"। আমি বললাম, 'আম্মাজী! রাতে যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ শেষ হয় তখন তো সবাই ঘুমাতে যায়। তখন কি বাটতে পারবো? তখন তিনি বললেন, "সকালে খালি পেটে খেলে ভালো হয়"। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, 'চিবিয়ে খাবো'? তিনি বললেন, "হ্যাঁ, চিবিয়ে খেলে ভালো। তাহলে আর বাটাবাটির ঝামেলা হবে না। একটু হলুদ খেয়ে একটা বিস্কুট খেলে আর এত খারাপ লাগবে না"।
পাঠক! আপনারা কি কিছু উপলব্ধি করতে পারছেন? তিনি কত দয়ালু ও মমতাময়ী! কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ তাও তিনি বলে দিলেন। কোন ডাক্তারও কখনো এভাবে বলতো না। তিনি সবকিছু ভালো ভাবে বুঝিয়ে দিলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এমন মা যিনি আমাদেরকে সমস্ত প্রকার রোগ-শোক, বিপদ-আপদ, বালা-মুছীবত সমস্ত কিছু দূর করে দেন। এগুলো থেকে কিভাবে শিফা লাভ করতে হয় তাও তিনি বলে দেন।
প্রিয় পাঠক পাঠিকাগণ! আপনারা হয়তো আমার এই বিষয়টা পড়ে বলবেন, এটা খুব সামান্য বিষয়। কিন্তু আসলে এটা এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা নিজের চোখে দেখা ছাড়া অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
পাঠক! আপনারা কি এই বিষয়টা লক্ষ্য করছেন? সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি কতটা ইলম মুবারক উনার অধিকারী! তিনি আমাকে যেসব টিপসগুলো দিয়েছেন সেটা আজ পর্যন্ত কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারও দেয়নি। শুধু আমি নইয় এমনই আরও অসংখ্য পীরবোন আছেন যারা উনার নিকট দোয়া মুবারক চেয়ে অনেক কঠিন রোগ থেকে শেফা লাভকরেছেন।
- আহমাদ মারইয়াম (আমানবাড়িয়া)