মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে খরচ করার ফজিলত (৩৩)
মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে উনার বুলন্দি শান মুবারক আলোচনা করার বাস্তব ফলাফল
মাওলিদে বারজানজি শরীফের মাহাত্ম্য
ইমাম জাফর আল-বারজানজি রচিত‘মাওলিদে বারজানজি’
عَقْدُ الْجَوْهَرِ فِي مَوْلِدِ النَّبِيِّ الْأَزْهَرِ
সম্পর্কে আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার جواهر البحار في فضائل النبي المختار কিতাবে উল্লেখ রয়েছে—
عَقْدُ الْجَوْهَرِ فِي مَوْلِدِ النَّبِيِّ الْأَزْهَرِ، لِمُفْتِي الْمَدِينَةِ الْمُنَوَّرَةِ وَأَدِيبِهَا السَّيِّدِ جَعْفَرِ بْنِ حَسَنِ الْبَرْزَنْجِيِّ... لَيْسَ لَهُ نَظِيرٌ، وَيَكْفِيكَ أَنَّهُ لَا يُتْلَى بِالْحَرَمَيْنِ الشَّرِيفَيْنِ سِوَاهُ، وَكَانَ لَا يَخْتَصُّ سَرْدُهُ عِنْدَهُمْ بِرَبِيعِ الْأَوَّلِ بَلْ فِي سَائِرِ أَوْقَاتِ الْعَامِ.
অর্থ: উজ্জ্বল নবীজির জন্মবৃত্তান্তে মুক্তার মালা বা মাওলিদে বারজানজি—যার কোনো তুলনা বা বিকল্প নেই। পবিত্র হারামাইন শরীফাইন-এ এটি ব্যতীত অন্য কোনো মিলাদগ্রন্থ সচরাচর পাঠ করা হতো না এবং এর পাঠ শুধু রবিউল আউয়াল মাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বছরের অন্যান্য সময়েও পাঠ করা হতো।
মহাসংকটে মিলাদ শরীফের আমল ও অন্তরের সংকল্প
আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) উনার কিতাবে উল্লেখ করেছেন—
وَقَدْ صَرَّحَ الْأَعْلَامُ بِأَنَّ عَمَلَ الْمَوْلِدِ أَمَانٌ فِي ذَلِكَ الْعَامِ، وَبُشْرَى عَاجِلَةٌ لِنَيْلِ الْبُغْيَةِ وَالْمَرَامِ.
অর্থ: আইম্মায়ে কেরাম ও ওলামায়ে কেরাম স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, মিলাদ শরীফের আমল সেই বছরের জন্য পরম নিরাপত্তা এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দেশ্য পূরণের এক দ্রুত সুসংবাদ।

এমনকি কোনো ব্যক্তি মহাসংকটে পতিত হলে এবং তার অন্তরে মিলাদ শরীফের আমলের বিষয়টি জাগ্রত হলে তার মুক্তির ব্যাপারে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে—

وَحَكَى بَعْضُهُمْ: أَنَّهُ وَقَعَ فِي خَطْبٍ عَظِيمٍ فَرَزَقَهُ اللهُ النَّجَاةَ مِنْ أَهْوَالِهِ بِمُجَرَّدِ أَنْ خَطَرَ عَمَلُ الْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ بِبَالِهِ.
অর্থ: তাদের কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার এক মহাসংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে এর ভয়াবহতা থেকে মুক্তি দান করেন, যখন কেবল মিলাদে নববীর আমলের বিষয়টি তাঁর অন্তরে জাগ্রত হয়েছিল।
সমুদ্রযাত্রায় নিরাপত্তা ও জাহাজ ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা
মিলাদ শরীফের বরকত ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় সম্পর্কের মাধ্যমে জাহাজ, কাফেলা, ঘর ও মালামাল নিরাপদ থাকার বিষয়ে কিতাবে উল্লেখ রয়েছে—

أَمَانٌ مِنَ النَّظْرَةِ وَالسِّحْرِ... وَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي جَيْشٍ فَهُمِزَ، وَلَا فِي قَافِلَةٍ فَنُهِبَتْ، وَلَا فِي سَفِينَةٍ فَغَرِقَتْ، وَلَا فِي بَيْتٍ فَأُحْرِقَ، وَلَا فِي مَتَاعٍ فَسُرِقَ، وَذَلِكَ بِبَرَكَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: এটি বদনজর ও যাদু থেকে সুরক্ষাস্বরূপ। কোনো সৈন্যদলে এটি থাকলে তারা পরাজিত হতো না; কোনো কাফেলায় থাকলে তা লুণ্ঠিত হতো না; কোনো জাহাজে থাকলে তা ডুবত না; কোনো ঘরে থাকলে তা আগুনে পুড়ত না এবং কোনো মালামালের সাথে থাকলে তা চুরি হতো না। আর এসবই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতের কারণে।
লোহিত সাগরের সমুদ্রযাত্রার ঘটনা
বর্ণিত আছে, ইয়েমেন ও এডেন বন্দর থেকে মক্কার জেদ্দা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রারত একটি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ লোহিত সাগরের মাঝপথে প্রচণ্ড সামুদ্রিক ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে। বাতাসের তীব্রতায় জাহাজের মাস্তুল ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং জাহাজের ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে।

এ অবস্থায় জাহাজে থাকা এক সুফি আলেম সবাইকে একত্রিত করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে মিলাদ শরীফ, দরুদ শরীফ, সালাম মুবারক এবং উনার বুলন্দি শান মোবারক আলোচনা করার প্রতি আহ্বান জানান।
এরপর জাহাজের যাত্রী ও নাবিকেরা অত্যন্ত মুহব্বতের সঙ্গে মিলাদ শরীফ ও দরুদ শরীফ পাঠ এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুরুত তাশরীফ মুবারকের গৌরবময় মুজিযাসমূহ আলোচনা করতে থাকেন।

বর্ণনা অনুযায়ী, মিলাদ শরীফের মজলিস শেষ হওয়ার পর সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ শান্ত হয়ে যায়, ঝড় থেমে যায় এবং জাহাজটি কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে জেদ্দা বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

বর্ণিত বক্তব্য অনুযায়ী, আরব উপদ্বীপ, হাদরামাউত, হেজাজ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রগামী নাবিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে দরুদ শরীফ ও বুলন্দি শান মোবারকের কিতাব সঙ্গে রাখার প্রচলন ছিল।
ঝড়-তুফানের সময় তাঁরা জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে ভক্তি ও সমস্বরে তা পাঠ করতেন এবং জাহাজে মিলাদ শরীফ ও দরুদ শরীফের মজলিস কায়েম করতেন।

এভাবে মাওলিদ শরীফ, দরুদ শরীফ এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় শান মোবারক আলোচনার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও বরকত লাভের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম জাফর আল-বারজানজি রচিত ‘মাওলিদে বারজানজি’ কিতাবে উপরোক্ত ফজিলত বর্ণিত আছে ।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে ও সম্মানে খুশি প্রকাশ করে ৯০ দিনব্যাপী আযীমুশশান সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিলের বরকতময় তাবারুকে হাদিয়া করুন।
হাদিয়া করুন: ১২০০ / ১২০০০ / ১২০০০০+
সরাসরি শুনুন: http://Sm40.com
আজ ৭১তম দিন
বিকাশ এজেন্ট (মাহফিল-অফিসিয়াল): 01739466730