8 ساعة

মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে খরচ করার ফজিলত (৩২)

সমুদ্রগামী জাহাজ পানিতে ডুবে যাওয়া,সামুদ্রিক জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা ,হিংস্র সিংহ পথ চিনিয়ে দেয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা! সুবহানাল্লাহ

১,সমুদ্রপথে মাওলিদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম তথা মিলাদ শরীফ মজলিসের বাস্তব ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার যে বিবরণটুকু হুবহু উল্লেখ আছে, তা নিচে দেওয়া হলো:
প্রাচীনকাল থেকেই আরব উপদ্বীপ, হাদরামাউত, হেজাজ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রগামী নাবিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এই আমলটি বাস্তব অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে গভীরভাবে প্রচলিত ছিল ।
তাঁরা সমুদ্রযাত্রার সময় বরকত ও সুরক্ষার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে দরুদ শরীফ,বুলন্দি শান মোবারক এর কিতাব রাখত।
ঝড়ের কবলে বাণিজ্যিক জাহাজ: একবার ইয়েমেন ও এডেন বন্দর থেকে মক্কার জেদ্দা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ লোহিত সাগরের মাঝপথে প্রচণ্ড সামুদ্রিক ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে। বাতাসের তীব্রতায় জাহাজের মাস্তুল ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং জাহাজের ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে।
বাঁচার আশা ত্যাগ ।আরোহী ও নাবিকেরা যখন বাঁচার সমস্ত আশা ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন, তখন জাহাজে থাকা এক সুফি আলেম সবাইকে একত্রিত করে বলেন, মহান আল্লাহর দরবারে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের কাছে মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে উনার নুরুত তাশরীফ মুবারক এর সময়ের খুশির আলোচনা ও দুরুদ শলীফ এর চেয়ে বড় কোনো উসিলা নেই। উনার কথামতো জাহাজের সমস্ত যাত্রী ও নাবিক ক্রন্দনরত অবস্থায় অত্যন্ত মুহব্বতের সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে দরুদ শরীফ, সালাম মুবারক,বুলন্দি শান মোবারক ,নুরুত তাশরীফ মুবারক এর গৌরবময় মুজিযাসমুহ আলোচনা শুরু করেন। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, মিলাদ শরীফের মজলিস শেষ হতে না হতেই অলৌকিকভাবে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ শান্ত হয়ে যায়, ঝড় সম্পূর্ণ থেমে যায় এবং জাহাজটি কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে জেদ্দা বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এই ধরনের অসংখ্য পরীক্ষিত ও বাস্তব ঘটনার আলোকেই পরবর্তী সময়ে ই সামুদ্রিক অলৌকিক নিরাপত্তার বাস্তব অভিজ্ঞতার কারণে আরব ও সুদূর ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়ার নাবিকেরা সমুদ্রযাত্রার সময় সবসময় ইমাম জাফর আল-বারজানজি রচিত মিলাদগ্রন্থ 'মাওলিদে বারজানজি' (যার মূল নাম 'عقد الجوهر في مولد النبي الأزهر' বা 'উজ্জ্বল নবীজির জন্ম বৃত্তান্তে মুক্তার মালা) সাথে রাখতেন এবং ঝড়-তুফানের সময় জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে এটি সমস্বরে পাঠ করতেন।বসে মিলাদ শরীফ ও দুরুদ শরীফ মজলিস করতেন
কিতাবের নামকরণের রহস্য: আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) মিলাদ, দুরুদ ও সালাতের এই সমুদ্রসম অলৌকিক বরকত ও কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি সংকলন করে তাঁর বিখ্যাত কিতাবের নাম রেখেছেন "جواهر البحار" (জাওয়াহিরুল বিহার) যার শাব্দিক অর্থ হলো "সমুদ্রের রত্নসমূহ"। এর মাধ্যমে তিনি মূলত নবীজির শানে মিলাদ ও দুরুদের মাধ্যমে সমুদ্রপথে অর্জিত অলৌকিক রহমত ও রত্নরাজির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) তাঁর কিতাবে দেখিয়েছেন যে, এই মিলাদ শরীফ পাঠের বাস্তব ফল বা অভিজ্ঞতা হিসেবে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ শান্ত হয়ে যেত এবং জাহাজটি নিশ্চিত পানিতে ডুবি (الغرق) ও সামুদ্রিক জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেত ।