4 hrs

ইমাম জাফর আল-বারজানজি রচিত 'মাওলিদে বারজানজি' এবং আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) উনার 'جواهر البحار' (جواهر البحار في فضائل النبي المختار - জাওয়াহিরুল বিহার) কিতাব থেকে সমুদ্রের ঢেউ শান্ত হওয়া, ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা এবং জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে বাঁচানোর বাস্তব ও পরীক্ষিত বিষয়ের মূল আরবী ইবারত (আরবি পাঠ্য) নিচে হুবহু দেওয়া হলো:
১. 'মাওলিদে বারজানজি' (عقد الجوهر في مولد النبي الأزهر) এর মাহাত্ম্য সম্পর্কে আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) উনার 'جواهر البحار' কিতাবের ইবারত [৩, ৪]:
"عَقْدُ الْجَوْهَرِ فِي مَوْلِدِ النَّبِيِّ الْأَزْهَرِ، لِمُفْتِي الْمَدِينَةِ الْمُنَوَّرَةِ وَأَدِيبِهَا السَّيِّدِ جَعْفَرِ بْنِ حَسَنِ الْبَرْزَنْجِيِّ... لَيْسَ لَهُ نَظِيرٌ، وَيَكْفِيكَ أَنَّهُ لَا يُتْلَى بِالْحَرَمَيْنِ الشَّرِيفَيْنِ سِوَاهُ، وَكَانَ لَا يَخْتَصُّ سَرْدُهُ عِنْدَهُمْ بِرَبِيعِ الْأَوَّلِ بَلْ فِي سَائِرِ أَوْقَاتِ الْعَامِ."
(অর্থ: উজ্জ্বল নবীজির জন্ম বৃত্তান্তে মুক্তার মালা বা মাওলিদে বারজানজি—যার কোনো তুলনা বা বিকল্প নেই। আপনার জানার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, পবিত্র হারামাইন শরীফাইন-এ এটি ব্যতীত অন্য কোনো মিলাদগ্রন্থ সচরাচর পাঠ করা হতো না এবং এটি পাঠ করা শুধু রবিউল আউয়াল মাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বছরের যেকোনো সময়েই পাঠ করা হতো [৩]।)
২. মিলাদ শরীফ ও দরুদ শরীফ পাঠ এবং অন্তরে এর সংকল্প করার উসিলায় সমুদ্রের ঝড়-তুফান ও মহাসংকট থেকে অলৌকিক রক্ষা পাওয়ার আরবী ইবারত [৪]:
মিলাদ শরীফ পাঠের বরকত যে বছরের জন্য পরম নিরাপত্তা এবং যেকোনো বিপদে সুরক্ষাস্বরূপ, তা কিতাবে এভাবে বর্ণিত হয়েছে:
"وَقَدْ صَرَّحَ الْأَعْلَامُ بِأَنَّ عَمَلَ الْمَوْلِدِ أَمَانٌ فِي ذَلِكَ الْعَامِ، وَبُشْرَى عَاجِلَةٌ لِنَيْلِ الْبُغْيَةِ وَالْمَرَامِ."
(অর্থ: এবং আইম্মায়ে কেরাম ও ওলামায়ে কিরাম স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, মিলাদ শরীফের আমল হচ্ছে সেই বছরের জন্য পরম নিরাপত্তা এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দেশ্য পূরণের এক দ্রুত সুসংবাদ [৪]।)
যদি কেউ মহাসংকটে পতিত হয়ে কেবল মনে মনেও মিলাদ শরীফ করার নিয়ত বা সংকল্প করে, তার অলৌকিক মুক্তির ব্যাপারে বর্ণিত ইবারত:
"وَحَكَى بَعْضُهُمْ: أَنَّهُ وَقَعَ فِي خَطْبٍ عَظِيمٍ فَرَزَقَهُ اللهُ النَّجَاةَ مِنْ أَهْوَالِهِ بِمُجَرَّدِ أَنْ خَطَرَ عَمَلُ الْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ بِبَالِهِ."
(অর্থ: এবং তাদের কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার এক মহাসংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন; অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে এর সমস্ত ভয়াবহতা থেকে অলৌকিক মুক্তি দান করেন, যখনই কেবল প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মিলাদ শরীফ করার বিষয়টি উনার অন্তরে জাগ্রত হয়েছিল [৪]।)
৩. জাহাজ পানিতে ডুবে যাওয়া (الغرق) ও সামুদ্রিক জলদস্যুদের (اللصوص) আক্রমণ থেকে পরম নিরাপত্তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উসিলার আরবী ইবারত [৪]:
সমুদ্রগামী জাহাজ পানিতে ডুবে যাওয়া এবং জলদস্যুদের লুণ্ঠন থেকে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় উসিলায় অলৌকিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের পরীক্ষিত ইবারত:
"أَمَانٌ مِنَ النَّظْرَةِ وَالسِّحْرِ... وَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي جَيْشٍ فَهُمِزَ، وَلَا فِي قَافِلَةٍ فَنُهِبَتْ، وَلَا فِي سَفِينَةٍ فَغَرِقَتْ، وَلَا فِي بَيْتٍ فَأُحْرِقَ، وَلَا فِي مَتَاعٍ فَسُرِقَ، وَذَلِكَ بِبَرَكَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ."
(অর্থ: এটি বদনজর ও যাদু থেকে সুরক্ষাস্বরূপ... এবং কোনো সৈন্যদলে এটি থাকলে তারা পরাজিত হতো না, কোনো কাফেলায় থাকলে তা লুণ্ঠিত হতো না (জলদস্যু বা ডাকাতের আক্রমণ হতো না), কোনো জাহাজে থাকলে তা পানিতে ডুবত না (الغرق বা ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেত), কোনো ঘরে থাকলে তা আগুনে পুড়ত না এবং কোনো মালামালের সাথে থাকলে তা চুরি হতো না; আর এসবই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরম বরকতের কারণে [৪]।)