সাইয়্যিদ আব্বাস ইবনে আলাভী আল-মালিকী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, তিনি যখন ছোট ছিলেন, তখন মক্কার লোকেরা বছরে দু’বার বড় বড় কাফেলা নিয়ে মদিনা মুনাওয়ারার উদ্দেশে সফর করতেন। তাঁদের বিদায় জানাতে যেন গোটা মক্কা নগরীই বেরিয়ে আসত। প্রিয় রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি গভীর আকুলতা ও ভালোবাসায় সকলের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠত। কারণ দূরত্ব ও সফরের প্রয়োজনীয় সামর্থ্যের অভাবে অনেকের পক্ষেই মদিনায় যাওয়া সম্ভব হতো না।

তাঁরা গাধা ও ঘোড়ায় চড়ে এবং পায়ে হেঁটে সফর করতেন। সফরের প্রতিটি মুহূর্ত মুখর থাকত প্রিয় রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রশংসায় রচিত নাশিদ, মাওলিদ ও আনন্দময় মাহফিলে। মক্কার লোকেরা পুরো সফরজুড়ে সুন্দর সুন্দর কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং ‘ইয়া নবী সালাম!’ ধ্বনিতে পথ মুখরিত করে রাখতেন। মরুভূমিতে তাঁবু খাটিয়ে রাতযাপন করতেন। অনেকের জন্য এই সফর সম্পন্ন করতে দশ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত।

তাঁরা যখন মদিনা মুনাওয়ারা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পৌঁছতেন, তখন সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং নিজেদের সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। মদিনাবাসী শহরের উপকণ্ঠে এসে তাঁদের স্বাগত জানাতেন। তাঁরা পরস্পরকে আলিঙ্গন করতেন এবং আগত মেহমানদের খাবার ও পানীয় পরিবেশন করতেন। সেই সঙ্গে তাঁরা গাইতেন—‘তালা‘আল বাদরু ‘আলাইনা’ (طلع البدر علينا)। দিনটি যেন এক আনন্দোৎসবের দিনে পরিণত হতো।

এরপর সবাই মুখে দরুদ ও সালাম পাঠ করতে করতে মদিনা মুনাওয়ারায় প্রবেশ করতেন এবং ‘বাবুস সালাম’-এর দিকে এগিয়ে যেতেন। এই দরজায় পৌঁছার পর গোটা শহর যেন দাঁড়িয়ে যেত। তাঁরা তাঁদের সর্বোত্তম কবিতাগুলো আবৃত্তি করতেন এবং বলতেন—‘ইনি আমাদের সরদার মুহাম্মদ ﷺ, কিয়ামতের দিনের মুক্তির ওসিলা!’

এরপর তাঁরা অশ্রুসিক্ত চোখ ও বিগলিত হৃদয়ে প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর দরবারে সালাম পেশ করতেন।

এসব ঘটনা আজ থেকে আশি বছরেরও কম সময় আগের। আহা! কী অপূর্ব ও ভালোবাসায় ভরা দিনই না ছিল সেসব!

-সায়্যিদুনা মুহাম্মদ বিন আলাভী আল মালেকি রাহিমাহুল্লাহ, মক্কা শরিফের বিশিষ্ট সুফি এবং গত শতাব্দীর মক্কা শরিফের অন্যতম বিখ্যাত ফকিহ এবং আহলে বাইতে রাসূল।
লেখা সংগ্রহ