সম্মানিত দরবার শরীফের তৃতীয় তলায় তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম এবং আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র হুজরা শরীফ ছিলো। এক জুমুয়া শরীফে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি উনার কিছু খাদিমাসহ তৃতীয় তলার রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। আমার আম্মুও সেখানে ছিলেন। সাধারণত প্রতি জুমুয়া শরীফে মহিলারা সাদা পোশাক পরিধান করতেন, তাই সবাই সেখানে সাদা পোশাক পরিহিতা অবস্থায় ছিলেন। এমন সময় আমি কোথাও থেকে দৌড়ে এসে রান্নাঘরের দরজার সামনে দাঁড়ানো যিনি ছিলেন উনাকে জড়িয়ে ধরেই বললাম, "আম্মু আমার ক্ষুধা লেগেছে"। আমি খেয়াল করিনি কাকে জড়িয়ে ধরেছি। আমি তখন অনেক ছোট... বয়স তিন কি চার বছর, এর বেশি নয়। আমি যখন মাথা উঠিয়ে উনার চেহারা মুবারক দেখলাম, তখন ভয় আর লজ্জায় জমে গেলাম। কারণ আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে আমার আম্মু ভেবে জড়িয়ে ধরেছিলাম। শায়েখ হিসেবে আমরা স্বাভাবিকভাবে যে আদব উনার প্রতি প্রদর্শন করি সে অভ্যাস অনুযায়ী বিষয়টি ব্যতিক্রম ঘটে গেছে। তাই আমি অনেক ভয় পেয়েছিলাম। কিন্তু মমতাময়ী মা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমার পিঠের উপর হাত মুবারকদ্বয় রেখেছিলেন, স্নেহের হাসি মুবারক দিয়েছিলেন। আমি অনেক ছোট ছিলাম বিধায় বিষয়টা বুঝতে পারিনি। কিন্তু বড় হওয়ার পর উপলব্ধি করতে পারছি যে, তিনি আমাকে কত মমতা দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন, কত স্নেহ করেছেন এবং করছেন।

আমার জন্মের আগে থেকেই আমি উনার মমতায় বেড়ে উঠেছি। আমার আম্মুর প্রেগন্যান্সির কয়েকমাসের মধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমার নাম রেখেছিলেন।

আমার আম্মু যখন সাত মাসের প্রেগন্যান্ট ছিলেন তখন কুরবানী ঈদের সময় গোশতের বড় বড় হাড়িগুলো আমার আম্মুকে উঠাতে নিষেধ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, "তুমি এগুলো উঠিয়ো না, তোমার কোমর ব্যথা করয়ে"।

আমি যখন অনেক ছোট ছিলাম তখন আমার আম্মু মুবারক গোলামীতে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় আমাকে কান্নাকাটি করতে দেখলে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উন্মুল। উমাম আলাইহাস সালাম তিনি কৌটা থেকে টোস্ট বিস্কুট নিয়ে উনার মুখ। মুবারক দিয়ে চিবিয়ে গুঁড়ো করে আমাকে খেতে দিতেন। আমাকে অনেক স্নেহ মুবারক করতেন। অনেক কথা মুবারক বলতেন আমার সাথে। মুলত সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি যে কত মমতাময়ী, স্নেহশীল, অনুগ্রহশীল "মা" তা বলার যোগ্যতা আমার নেই।

আমার জীবনের শুরু থেকে এখন অবধি পুরোটাই উনার ইহসান মুবারকে, মমতা মুবারকে ভরপুর। উনার ইহসান মুবারক ছাড়া এক কদম অগ্রদর হওয়াও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি আমার মতো অযোগ্য নাদানদেরকে এমনভাবে স্নেহ-মমতা দিয়ে রেখেছেন যার কোনো মেছাল নেই। তিনি সত্যিই বেমেছাল। কবির ভাষায় যে শান ফুটে উঠেছে-

আছে মোদের হয়তো জন্মসূত্রের মাতা কোটি মিলেও হবেনা আপনার কণার সমতা বিন্দু ও সাগর সমান কি হবে তা? বিন্দু ও সাগর সমান তো হবে না। আপনি তো আম্মাজী কুবরা হে আম্মা।....