সন্তানের নাম ‘মুহম্মদ’ কিংবা ‘আহমদ’ রাখা সুন্নত মুবারক

মাতা-পিতার অন্যতম দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, সন্তান জন্মগ্রহণের সপ্তম দিনে সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা। নামের তাছির বা প্রভাব সন্তানের উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। সেক্ষেত্রে ‘মুহম্মদ’ কিংবা ‘আহমদ’ নাম রাখা খাছ সুন্নত মুবারক। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জাতী নাম মুবারক ‘মুহম্মদ’ এবং ‘আহমদ’। তিনি উনার পবিত্র নাম মুবারকে সন্তানের নাম রাখতে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

سَمُّوْا بِاسْمِي

অর্থ: “আমার মুবারক নামে নামকরণ করো।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

সন্তানের নাম ‘মুহম্মদ’ অথবা ‘আহমদ’ রাখা খাছ সুন্নত। উলামায়ে ‘সূ’ ওহাবী, খারিজী, বিদ্য়াতী, বদ আক্বীদার লোকদের দৌরাত্মের কারণে এই পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার বিলুপ্তি ঘটেছিলো। মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার তাজদীদ বা সংস্করণের প্রভাবে বিদয়াতীদের চেষ্টা-কোশেশ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। সর্বত্র এই সুন্নত মুবারক জারী হয়েছে। সবাই এর গুরুত্ব-তাৎপর্য ফযীলত উপলব্ধি করতঃ স্বীয় সন্তানের নাম ‘মুহম্মদ’ অথবা ‘আহমদ’ নাম মুবারকে নামকরণ করে থাকে। সুবহানাল্লাহ!

স্মর্তব্য যে, দুনিয়াতে যে নামে নামকরণ করা হবে ক্বিয়ামতের দিন তাকে সে নামেই ডাকা হবে।

বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবু দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

إِنَّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْ

অর্থ: নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের নাম এবং তোমাদের পিতার নাম ধরে ডাকা হবে। কাজেই, তোমরা তোমাদের সুন্দর বা ভাল নাম রাখবে। (আহমদ শরীফ, আবু দাউদ শরীফ)

মূলতঃ প্রত্যেক মুসলমানের মূল নামই হওয়া উচিত ‘মুহম্মদ’ কিংবা ‘আহমদ’। সমাজে পরিচিতির জন্য ‘মুহম্মদ’ বা ‘আহমদ’ উনার সাথে সংযুক্ত করে সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা যেতে পারে। পূর্ববর্তী হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়াযে কিরামগণ সেটাই করেছেন।

অর্থাৎ মূল নাম ‘মুহম্মদ’ অথবা ‘আহমদ’। আর তার পূর্বে বা পরে সংযুক্ত অংশটুকু পরিচিতিজ্ঞাপক।

হযরত আবু উমামা বাহিলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مَنْ وُّلِدَ لَهٗ مُوْلُوْدٌ فَسَمَّاهُ مُحَمَّدًا حُبًّالِّى وَتَبَرُّكًا بِاِسْمِى كَانَ هُوَ وَمَوْلُوْدُهٗ فِى الْجَنَّةِ

অর্থ: যার কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করে সে আমার মুহব্বতে এবং আমার মুবারক নামের বরকত হাছিলের জন্য তার সন্তানের নাম ‘মুহম্মদ’ রাখবে, সে ব্যক্তি এবং তার সন্তান উভয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সুবহানাল্লাহ!

image