মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (১)
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
اُدْخُلُوْا فِى السِّلْمِ كَافَّةً
অর্থ : তোমরা পরিপূর্ণভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করো। (পবিত্র সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ২০৮)
আর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সর্বোতভাবেই নিন্মোক্ত চারটি উছূলের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেগুলোর বাইরে দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোন বিষয়ই গ্রহণযোগ্য নয়। আর তাহলো- যেমন কিতাবে উল্লেখ করা হয়,
اُصُوْلُ الشَّرْعِ ثَلَاثَةٌ اَلْقُرْاٰنَ الشَّرِيْفُ وَالْـحَدِيْثُ الشَّرِيْفُ وَالْاِجْـمَاعُ وَرَابِعُهَا الْقِيَاسُ
অর্থ : সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দলীল মোট চারটি (১) পবিত্র কুরআন শরীফ (২) পবিত্র হাদীছ শরীফ (৩) পবিত্র ইজমা শরীফ ও (৪) পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ। সুবহানাল্লাহ! (নূরুল আনওয়ার, উছূলুশ শাশী)
আমাদের সমাজের কিছু নামধারী তথাকথিত ইসলামী চিন্তাবিদ হিসাবে পরিচয় দানকারী ব্যক্তিবর্গ নিজেদেরকে সুন্নী অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অনুসারী দাবী করা সত্ত্বেও দুনিয়াবী স্বার্থ সিদ্ধির লক্ষ্যে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কয়েকটি পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের ও কয়েকটি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ভুল, মনগড়া, বিভ্রান্তিমূলক অপব্যাখ্যা করে সরলপ্রাণ মুসলমান উনাদের মধ্যে ফিৎনার সৃষ্টি করছে এবং মসজিদে পুরুষের সাথে সাথে মহিলাদের জামায়াত কায়েম করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার আম ফতওয়া মুতাবিক সম্পূর্ণরূপে মাকরূহ্ তাহরীমী আর খাছ ফতওয়া মুতাবিক হারাম ও কুফরী।
প্রকাশ থাকে যে, মহিলাদের জন্য স্বীয় ঘর বা বাড়ীর বাইরে বের হওয়াটা আমভাবেই নিষেধ। তাদেরকে ঘর-বাড়ীতে অবস্থান করার জন্য আদেশ মুবারক করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَقَرْنَ فِىْ بُيُوْتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْـجَاهِلِيَّةِ الْاُوْلٰى
অর্থ : মহিলারা তোমরা তোমাদের ঘরে বা বাড়ির মধ্যে অবস্থান করো এবং তোমরা জাহিলী যুগের মহিলাদের মতো বেপর্দাভাবে বাইরে বের হয়ো না। (পবিত্র সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩৩)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা মুসলমান মহিলাদেরকে সাধারণতঃ ঘর-বাড়ী থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।
জানা আবশ্যক, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শুরুতে মহিলাদের জন্য নামাযের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়াটা মুবাহ ছিল। যেমন এ সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুাবরক করেন-
لَا تَـمْنَعُوْا اِمَاءَ اللهِ مَسَاجِدَ اللهِ وَلْيَخْرُجْنَ اِذَا خَرَجْنَ تَفِلَاتٍ اَيْ غَيْرِ مُتَطَيِّبَاتٍ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দীদেরকে মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে তোমরা নিষেধ করো না, তবে তারা সুগন্ধি ব্যবহার করা ব্যতীত সাধারণভাবে যদি যায়, যেতে পারবে। (মুহীতুল বুরহানী, শুবহাতুল ওয়ারদূদ ইত্যাদি)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনার পর ফিতনার আশঙ্কায় মহিলাদেরকে নামাযের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِيْنَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِيْنَ
অর্থ : আর আমি অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের সম্পর্কেও জানি এবং অবশ্যই আমি তোমাদের পরবর্তীদের সম্পর্কেও জানি। (পবিত্র সূরা হিজর : আয়াত শরীফ ২৪)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফখানা (মুসলমান) মহিলাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। নাযিল হওয়ার কারণ স্বরূপ বলা হয়, যখন মুনাফিকরা নামাযের জামায়াতে আসা মহিলাদের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করতে শুরু করে দিল তখনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে না আসার জন্য উনাদেরকে উৎসাহ প্রদান করতঃ ইরশাদ মুবারক করেছেন।
-আল্লামা মুফতী শুয়াইব আহমদ।