আক্বাঈদে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত
আক্বাঈদে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত
, ২১ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৮ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আক্বায়িদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত
আক্বাঈদে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত
৭৬. প্রসঙ্গ : আযীযুল হককে ‘হদস’ আমীনীকে ‘কমিনী’ ও মুহিউদ্দীনকে ‘মাহিউদ্দীন’ বলা দলীলসম্মত
বাতিলপন্থীদের বক্তব্য : তারা বলে থাকে যে, কারো নাম পরিবর্তন করে ‘খারাপ’ নামে সম্বোধন করা জায়িয নেই।
দ্বীন ইসলাম উনার ফতওয়া : সকলেরই জানা যে, আবূ জাহিলের প্রকৃত নাম ছিল আমর বিন হিশাম। তার দুনিয়াবী প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার কারণে তাকে ‘আবুল হিকাম তথা জ্ঞানের পিতা’ উপাধি দেয়া হয়। কিন্তু সত্যকে প্রত্যাখান করায় আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার উপাধি ‘আবূল হিকাম’কে পরিবর্তন করে নতুন উপাধি দিয়েছিলেন ‘আবূ জাহিল’ অর্থাৎ মুর্খের পিতা।
এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোন ভাল উপাধিধারী ব্যক্তিও যদি হক্বের বিরোধিতা করে এবং না হক্ব কাজে মশগুল থাকে, তবে তার ভাল উপাধি পরিবর্তন করে ‘খারাপ’ উপাধি প্রদান করা ‘সুন্নতে রসূল’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আযীযুল হক, আমিনী ও মুহিউদ্দীন যেহেতু অনবরত হক্বের বিরোধিতা করছে এবং প্রকাশ্যে নাহক্ব বা শরীয়ত বিরোধী কাজে মশগুল রয়েছে যেমন, ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া, হরতাল করা, গণতন্ত্র করা, কুশপুত্তলিকাদাহ করা ইত্যাদি। তাই তাদের ভাল উপাধি বা নাম পরিবর্তন করে ‘শাইখুল হদছ’, ‘মাহিউদ্দীন’ ও ‘কমিনী’ উপাধি বা নাম প্রদান করাতে সুন্নত আদায় হয়েছে।
[এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৯৭তম সংখ্যা পাঠ করুন।]
[দলীলসমূহ : মাযহারী, ইবনে কাছীর, তাবারী, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত, কাযীখান, দুররুল মুখতার, ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন, কিমিয়ায়ে সায়াদাত, ফতওয়ায়ে আমীনিয়া, শরহে আক্বাইদে নছফী, তাকমীলুল ঈমান ইত্যাদি।]
৭৭. প্রসঙ্গ : উসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমর ও সাদ্দাম মুনাফিক ও সি.আই.-এর এজেন্ট
বাতিলপন্থীদের বক্তব্য : তারা উসামা বিন লাদেন, মোল্লা উমর ও সাদ্দাম হোসেনকে ওলীআল্লাহ, মর্দে মু’মিন, আমীরুল মু’মিনীন ইত্যাদি মনে করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ!
দ্বীন ইসলাম উনার ফতওয়া : অথচ উসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমর, সাদ্দামসহ মধ্য প্রাচ্যের অনেক রাজা-বাদশাই সি.আই.এর এজেন্ট বা আমেরিকার দালাল এবং চরম মুনাফিক। তারা আমেরিকার টাকা খেয়ে গোপনে এবং কুটকৌশলে মুসলমানের ছদ্মাবরণে ইসলাম ও মুসলমানদের একের পর এক ক্ষতি করে যাচ্ছে। তাই তাদেরকে সমর্থন করা, তাদের জন্যে দোয়া করা এবং তাদের প্রসংসা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়িয নেই। কেননা তারা চরম মুনাফিক, ফাসিক ও মিথ্যাবাদী।
[এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ১০৫তম সংখ্যা পাঠ করুন।]
[দলীলসমূহ : মাযহারী, তাবারী, ইবনে কাছীর, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত, মসনবী শরীফ, প্রটোকল ও দৈনিক পত্রিকাসমূহ ইত্যাদি]
পরিশিষ্ট
উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও অনুরূপ আরো অনেক মাসয়ালা-মাসায়িলের ক্ষেত্রেই তারা ভুল আক্বীদা পোষণ করে শরীয়ত বিরোধী মনগড়া সিদ্ধান্ত পেশ করে থাকে। বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত’-এ বাতিলপন্থীদের সকল ভুল মাসয়ালাগুলোর সঠিক ফায়ছালা দলীলের মাধ্যমে তুলে ধরেন মানুষের আক্বীদা ও আমলকে হিফাযত করার অনিবার্য প্রয়োজনে। কিন্তু তারা তা খ-ন করতে না পেরে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থে রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নাহক্ব বিরোধিতা করে এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার করে থাকে। অথচ তাদেরকে বহুবার বলা হয়েছে যে, তোমরা প্রকাশ্য ময়দানে জনসম্মুখে আমাদের সাথে আলোচনায় বসো। তোমাদের আক্বীদা ও আমলের দলীল পেশ করো। আমাদের আক্বীদা আমলের দলীলও আমরা জনগণের সামনে পেশ করবো। (ইনশাআল্লাহ) আর তখনই জনগণ জানতে পারবে যে, কে হক্ব আর কে নাহক্ব। অথচ তারা আমাদের সে আহবানে কখনোই সাড়া দেয় না।
আমরা এখনো বলছি, পৃথিবীর যে কোন স্থানে শর্ত-শারায়িত মুতাবিক যে কোন বিষয়ে বাহাছ করতে প্রস্তুত আছি। (ইনশাআল্লাহ)