#সম্মানিত ইসলাম উনার দ্বিতীয় হিজরী শতকেও পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ﷺ পালন হয়েছেন সুবহানাল্লাহ।
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পরে সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন হযরত তাবেয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পরবর্তী তাবেয়ীন উনাদের যুগে এবং তৎপরবর্তী প্রত্যেক যুগেই অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি—যিনি শতাধিক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাক্ষাৎ মুবারক পেয়েছিলেন এবং যিনি দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত চতুর্থ খলীফা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহ্ আলাইহিস সালাম উনার খলীফা ও ছাত্র ছিলেন—তিনি বলেন:
وَدِدْتُ لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ جَبَلِ أَحُدٍ ذَهَبًا فَانْفَقْتُهُ عَلَى قِرَاءَةِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমার যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকতো, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ উপলক্ষ্যে আমি তা ব্যয় করতাম।”
সুবহানাল্লাহ!
(আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উইলদি আদম—৮ম পৃষ্ঠা)
#মাযহাবের ইমামগণের বক্তব্য
মাযহাবের ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করেছেন।
কিতাবে বর্ণিত আছে:
قَالَ حَضْرَتِ الْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللهُ مَنْ جَمَعَ لِمَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِخْوَانًا وَهَيَّا طَعَامًا وَأَخْلَى مَكَانًا وَعَمَلَ إِحْسَانًا وَصَارَ سَبَبًا لِّقِرَانَتِهِ بَعَثَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الصَّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ وَيَكُونُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ.
অর্থ: শাফিয়ী মাযহাবের ইমাম হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ উপলক্ষ্যে লোকজন একত্রিত করলো এবং খাদ্য তৈরি করলো ও জায়গা নির্দিষ্ট করলো এবং উত্তমভাবে (তথা সুন্নাহভিত্তিক) আমল করলো, তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি হাশরের দিন ছিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও ছালিহীনগণ উনাদের সাথে উঠাবেন এবং উনার ঠিকানা হবে জান্নাতুন নায়ীমে।”সুবহানাল্লাহ!
(আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উইলদি আদম)
#মহান আল্লাহ পাক উনার বিশিষ্ট ওলী হযরত ইমাম মারূফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের ফযীলত বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন:
مَنْ هَيَّا طَعَامًا لِأَجْلِ قِرَائَةِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَمَعَ إِخْوَانًا وَأَوْقَدَ سِرَاجًا وَلَبِسَ حَدِيدًا وَتَبَخَّرَ وَتَعَطَّرَ تَعْظِيمًا لِمَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَشَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الْفِرْقَةِ الأولى مِنَ النَّبِيِّنَ وَكَانَ فِي أَعْلَى عِلَّتِيْنَ.
অর্থ: “যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ উপলক্ষ্যে খাদ্য প্রস্তুত করবেন এবং আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মুসলমান ভাইদের একত্রিত করবেন, (আলো দানের উদ্দেশ্যে) প্রদীপ বা বাতি জ্বালাবেন, নতুন পোশাক পরিধান করবেন, (সুগন্ধির উদ্দেশ্যে) ধূপ জ্বালাবেন এবং আতর-গোলাপ মাখবেন, ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাশর-নশর করবেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম দলের সাথে এবং তিনি সুউচ্চ ইল্লীনে অবস্থান করবেন।”সুবহানাল্লাহ!
(আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উইলদি আদম)
#হযরত সাররী সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি
মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী হযরত সাররী সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন:
مَنْ قَصَدَ مَوْضِعًا يُقْرَأُ فِيْهِ مَوْلِدُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ قَصَدَ رَوْضَةً مِنْ رِّيَاضِ الْجَنَّةِ لِأَنَّهُ مَا قَصَدَ ذَلِكَ الْمَوْضِعَ إِلَّا لِمُحَبَّةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ বা পবিত্র মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করল, সে যেন তাঁর জন্য জান্নাতে রওযা বা বাগান নির্দিষ্ট করলো। কেননা সে তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত থাকার জন্যেই করেছে।”সুবহানাল্লাহ!
(আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উইলদি আদম)
#উপরোক্ত বর্ণনাগুলোতে তাবিয়ী, ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পক্ষ থেকে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ ও এর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফের মর্যাদা, মুহব্বত ও আদব-সম্মান বজায় রাখার তাওফীক দান করুন। আমীন। @highlight