ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (২৭)
মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, উনাদের প্রতিও আমি পূর্ব থেকেই আমার সন্তুষ্টি ঘোষণা করে দিলাম। সুবহানাল্লাহ!
এ আয়াত শরীফের তাফসীরে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি তো ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, হযরত ছাহাবী উনাদেরকে যারা উত্তমভাবে অনুসরণ করবে উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্টি ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন যে দেখ, আমি আফদ্বালুন নাস, বা’দাল আম্বিয়া, হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম উনাকে সুক্ষèাতিসুক্ষè ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করেছি।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেখানে পা মুবারক রেখেছেন আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সেখানে উনার মাথা মুবারক রেখেছেন।
আফদ্বালুল আওলিয়া হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দ্বিতীয় হাজারের মুজাদ্দিদ। যাঁর সম্পর্কে হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতি রহমতুল্লাহি আলাইহি সে হাদীছ শরীফগুলো বর্ণনা করেন। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি যেখানে পা মুবারক রেখেছেন, সেখানে আমি আমার মাথা মুবারক রেখেছি। অর্থাৎ উনাকে সুক্ষèাতিসুক্ষè পুঙ্খানুপুঙ্খ আমি অনুসরণ-অনুকরণ করেছি। তার ফলশ্রুতিতে কি হল! তার ফলশ্রুতিতে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে নিয়ামত দান করলেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি যে ঘোষণা দিয়েছেন-
رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ
“আল্লাহ পাক তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট তাঁরাও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট।” এর ফলশ্রুতিতে কি দেয়া হল, মহান আল্লাহ পাক ঘোষণা করলেন হাজার হাজার বার। ঘোষণা করার পর আমি সন্দেহহীন হলাম, নিশ্চিন্ত হলাম, কি?
غَفَرْتُ لَكَ، وَمَنْ تَوَسَّلَ بِكَ بِوَاسِطَةٍ أَوْ بِغَيْرِ وَاسِطَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
“মহান আল্লাহ পাক আমার প্রতি হাজার হাজার বার ইলহাম-ইলক্বা করলেন, হে মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি!
غَفَرْتُ لَكَ، وَمَنْ تَوَسَّلَ بِكَ بِوَاسِطَةٍ أَوْ بِغَيْرِ وَاسِطَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
“আপনাকে ক্ষমা করা হল, আর আপনাকে যারা উত্তমভাবে ক্বিয়ামত পর্যন্ত মধ্যস্ততায় অথবা বিনা মধ্যস্ততায়, অনুসরণ করবে, ওসীলা করবে আমি তাদেরকেও ক্ষমা করে দিলাম।” সুবহানাল্লাহ।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাঁরা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মর্যাদার তো শেষ নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি কত মর্যাদা দিয়েছেন? বেমেছাল মর্যাদা। উনাদেরকে যারা অনুসরণ করবে, উনাদেরকে যারা অনুসরণ করবে উনাদের জন্যও মহান আল্লাহ পাক তিনি মাগফিরাত ঘোষণা করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
সেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, একাধিক হাদীছ শরীফে একাধিক ঈদের কথা ঘোষণা করেছেন। এখন একাধিক ঈদ যদি কেউ না মানে তাহলে বলতে হবে সে মহান আল্লাহ পাক উনাকে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনাদেরকে অর্থাৎ কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ তথা ইসলামকেই পরিপূর্ণ অস্বীকার করল। সে কাট্টা কাফির, চির জাহান্নামী হয়ে গেল। নাঊযুবিল্লাহ!
আর বিশেষ করে যে হাদীছ শরীফগুলো বর্ণনা করেছেন। তারমধ্যে একটা হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম। উনার ছানা-ছিফতের কোন প্রয়োজন নেই। নূরে মুজাসসাম হবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে ফারূক লক্বব দিয়েছেন। সত্য-মিথ্যা পার্থক্যকারী। উনার সম্পর্কে অনেক হাদীছ শরীফ রয়েছে।
তাফসীরে বর্ণিত রয়েছে, হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি প্রস্তাব দেয়ার পর বাইশটারো বেশি বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি আয়াত শরীফ নাযিল করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিতো ওহী মুবারক ছাড়া কোনকিছু বলতেন না।