মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ, পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উপস্থিত। সুবহানাল্লাহ! এবং কুল-কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ সমাগত। সুবহানাল্লাহ! যা আসতে আর মাত্র ৫ দিন বাকী।
তাই মুসলিম ও অমুসলিম সমস্ত দেশের সরকারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুবারক নছীহত-
এই সম্মানিত মাস ও তারিখ উনাদের সম্মানার্থে মুসলিম দেশসহ বিশ্বের সমস্ত দেশের সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে, এখন থেকেই সরকারিভাবে এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাস ও তারিখ উনাদের মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে দেশবাসীকে সম্যক অবগত করিয়ে সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী খুশি প্রকাশ করা ও করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
পাশাপাশি সরকারিভাবে মহাসমারোহে “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ” পালনের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা, সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করা ও পর্যাপ্ত ছুটির ব্যবস্থা করা।
স্মরণীয় যে, পুরো মাসব্যাপী সরকারি-বেসরকারি সর্বমহলে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করে অত্যন্ত খুশির সাথে, ব্যাপক আয়োজনে, বিপুল উৎসাহে, গভীর মূল্যায়নে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ” পালিত হওয়া ফরয উনার অন্তর্ভুক্ত।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানার্থে খুশি প্রকাশ করার মাঝেই মাখলুকাতের কামিয়াবী নিহিত। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ’ উনার ৫৮ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ফযল-করম এবং রহমত হিসেবে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন। সেজন্য তারা যেন খুশি প্রকাশ করে।” সুবহানাল্লাহ! মূলত দুনিয়ার যমীনে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক আগমন ও বিদায় এবং বিশেষ ঘটনা মুবারক সংঘটিত হওয়ার দিন তথা মাস উম্মাহর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ বা খুশির অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যেকোনো লোক, যেকোনো সময়, যেকোনো নিয়ামত লাভ করলে সে সন্তুষ্ট হয়, খুশি প্রকাশ করে। সাধারণ দুনিয়াবী কারণে যদি মানুষ এত খুশি হয়, তাহলে যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে কতটুকু খুশি প্রকাশ করতে হবে! মূলত, যার যতটুকু তাওফীক রয়েছে, ঠিক সেভাবে অর্থাৎ সর্বোচ্চটা দিয়ে সে খুশি প্রকাশ করবে; তাহলে তার জন্যে কামিয়াবী রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সরকারিভাবে ‘পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করা হয় ভিআইপি রাস্তায় সামান্য কিছু রঙিন পতাকা, ব্যানার ইত্যাদি টানিয়ে, বিচ্ছিন্নভাবে অন্তঃসারশূন্য কিছু মাহফিল, সেমিনার ইত্যাদির ব্যবস্থা করে। আর একেই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়। নাউযুবিল্লাহ! অথচ তুলনামূলক তথ্যে দেখা যায়, এদেশে বিধর্মীয় ও বিজাতীয় অনুষ্ঠানে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয় তার চেয়ে অনেক কম অর্থ কেবল নয়, বরং কম উৎসাহ ও কম আয়োজনের দ্বারা যেনতেনভাবে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার মতো মহাপবিত্র সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদের দিনকে অতিক্রান্ত করা হয়। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! অথচ পবিত্র ঈমান উনার একান্ত দাবির কারণে শুধু এ মুবারক দিনেই কেবল নয়, বরং পুরো পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসব্যাপী সরকারি-বেসরকারি সর্বমহলে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করে অত্যন্ত খুশির সাথে, ব্যাপক আয়োজনে, বিপুল উৎসাহে, গভীর মূল্যায়নে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর, পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা সকলের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কায়িনাতের সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই শরীফ সমাগত। এ বছরের জন্য আগামী ২৭শে ছালিছ ১৩৯৪ শামসী, ২৬শে অগাস্ট ২০২৬ খৃঃ. ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পালিত হবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ। সুবহানাল্লাহ! বৎসরের সর্বশ্রেষ্ঠ এ মুবারক দিনটি সর্বোত্তমভাবে পালনের জন্য সর্বোচ্চ তৎপর এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ তথা ব্যাপক জাঁকজমক, শান-শওকত ও মহা আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এদেশে বিশেষত রাষ্ট্রদ্বীন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার এদেশের সকলকে এখন থেকেই সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। জনগণ ও সরকার সকলকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করতে হবে।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ জনগণ মুসলমান, প্রেসিডেন্ট, প্রধান উপদেষ্টা মুসলমান। পাশাপাশি বাংলাদেশে পবিত্র ‘ইসলাম’ উনাকে রাষ্ট্রদ্বীন ঘোষণা করা হয়েছে। তাই বাংলাদেশ সরকারের জন্য আলাদাভাবে ফরয হচ্ছে- আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনী মাস অর্থাৎ সাইয়্যিদুশ শুহুর, শাহরুল আ’যম, পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার সম্মানার্থে এখন থেকেই সারা দেশব্যাপী ব্যাপক ও শান শওকতপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করা এবং যথাযথ তা’যীম-তাকরীম ও শান-শওকতের সাথে পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এবং সে লক্ষ্যে সব দেশে কমপক্ষে এক মাসব্যাপী অর্থাৎ সম্পূর্ণ পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসে ছুটি প্রদান করা। যাতে সকলেই মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ যথাযথভাবে পালন করতে পারে।