মীলাদ শরীফ বিরোধীদের মিথ্যাচার

পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস আসলে মীলাদ শরীফ বিরোধিরা যতগুলো মিথ্যাচার করে তারমধ্যে অন্যতম হলো ৬০০ হিজরীর পর পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চালু হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
তাদের এই কথা যে চরম মিথ্যা তার অনেক দলীল রয়েছে। এই লেখায় ২টা বিষয় উল্লেখ করবো।

১। হযরত ইমাম আল্লামা খতীব আবূ ইয়াহইয়া আব্দুর রহীম বিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন নুবাতাহ্ ফারূক্বী যিনি ইবনু নুবাতাহ্ রহমাতুল্লাহি আলাইহি নামে শাশহূর। যার বিলাদত : ৩৩৫ হিজরী, বিছাল : ৩৭৪ হিজরী। উনার خَطَبَةُ إِبْنِ نُبَاتُةُ 'খুৎবাতে ইবনে নুবাতাহ্' কিতাবের মধ্যে পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের ২য় খুৎবায় উল্লেখ রয়েছে-
فَمَنْ عَظَمَ لَيْلَةَ مُوْلِدِهِ بِمَا أَمْكَنَه مِنَ التَّعْظِيمِ وَالْإِكْرَامِ كَانَ مِنَ الْفَائِزِينَ بِدَارِ السَّلام
"যে ব্যক্তি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ায় শুভাগমনের রাত মুবারককে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দিবে, সে চিরস্থায়ী শান্তিময় জান্নাত লাভে সৌভাগ্যবান হবে।” সুবহানাল্লাহ্!
একটু লক্ষ্য করুন, উনার বিলাদত শরীফ হচ্ছে ৩৩৫ হিজরীতে আর বিছাল শরীফ হচ্ছে ৩৭৪ হিজরীতে। আমরা যদি উনার বিছাল শরীফ থেকেও ধরি তাহলেও দেখা যাচ্ছে তাদের দাবীর ২২৬ বছর পূর্বেই পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফকে সম্মান করার বিষয়ে ফযীলত বর্ণিত রয়েছে।

২। শায়েখ, ইমাম, আল্লামা, হাফিয, মুফাসসির, মুহাদ্দিছ, মুয়াররিখ, শায়খুল ইসলাম, আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ ইবনুল জাওযী বাগদাদী হাম্বলী আশয়ারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। যিনি ইবনে জাওযী নামে পরিচিত। যার বিলাদত: ৫০৮ হিজরী, বিছাল: ৫৯৭ হিজরী।
তিনি পবিত্র মীলাদ শরীফ ‍উনার উপর একটি কিতাব রচনা করেছেন। যার নাম দিয়েছেন ( مَوْلِدُ الْعَرُوسِ) 'মাওলিদুল আরূস'। উক্ত কিতাবের ২৭১ নং পৃষ্ঠায় তিনি উল্লেখ করেছেন-
وجَعَلَ لِمَنْ فَرِحَ بِمَوْلِدِهِ حِجَابًا مِنَ النَّارِ وَستراً، وَمَنْ أَنْفَقَ فِي موْلِدِهِ دِرْهَما كَانَ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَه شَافِعًا وَمِشفَّعاً واخْلف اللهُ عَلَيْهِ بِكُلِّ دِرْهَم عَشْرًا
“যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে ঈদ বা আনন্দ করবে, এই আনন্দ বা খুশি প্রকাশ করাটাই তার জন্য জাহান্নামে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। সুবহানাল্লাহ্! আর যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদ শরীফ উপলক্ষ্যে এক দিরহাম ব্যয় করবে, নবীজী মুতফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে শাফায়াত করবেন ও শাফায়াতকারী বানাবেন। আর মহান আল্লাহ্ তায়ালা প্রতিটি দিরহামকে দশগুণ বৃদ্ধি করে সওয়াব দান করবেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ৫৯৭ হিজরীতে বিছাল শরীফ গ্রহণ করেছেন। আমরা যদি উনার বিছাল শরীফের সন-ই ধরি তাহলেও দেখা যাচ্ছে ৬০০ হিজরী পূর্বেই পবিত্র মীলাদ শরীফের উপর স্বতন্ত্র কিতাবই রচনা হয়ে গেছে। তাহলে মীলাদ শরীফের সূচনা কখন থেকে হয়েছে?

মূলত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানা থেকেই মীলাদ শরীফ সূচনা হয়েছে। আরো সূক্ষ্মভাবে বললে সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই মীলাদ শরীফ শুরু হয়েছে।

কাজেই যারা দাবী করে ৬০০ হিজরীর পর মীলাদ শরীফ শুরু হয়েছে তাদের এই দাবীটি সম্পূর্ণ বানোয়াট, ধোকাপূর্ণ। তাদের মূলত কোনো দলীল নেই তাই তারা এসব আযগুবী কথা প্রচার করে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে ছহীহ বুঝ দান করুন এবং অধিক পরিমানে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে মীলাদ শরীফ পাঠ করার, উদযাপন করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

এইচ এম ইমাম (Hm Imam)
পবিত্র ৬ই রবীউল আউওয়াল শরীফ-১৪৪৮ হিজরী।

image