সুন্নত মুবারক তা’লীম
হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করতে হবে
হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, একদিন তিনজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আসলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আমল (ইবাদত) মুবারক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। উনাদেরকে যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আমল (ইবাদত) মুবারক সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হলো, তখন উনারা নিজেদের আমলগুলো কম মনে করলেন এবং বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনিতো উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পুত-পবিত্র রেখেছেন।
অতঃপর উনাদের মধ্যে একজন বললেন, আমি সারা রাত্র নামায পড়ব একটুও ঘুমাব না। আরেকজন বললেন, আমি সারা বৎসর রোযা রাখবো একদিনও ভাঙ্গব না। আরেক জন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি বিবাহ-শাদী করবো না, আহলিয়াদের নিকট যাব না।
এমন সময় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের নিকট মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন এবং বলেন, ‘হে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আপনারাই কি এরূপ কথা বলেছেন যে, সারারাত্র নামায পড়বেন, সারা জীবন রোযা রাখবেন এবং বিবাহ করবেন না।’ তখন উনারা বললেন, হ্যাঁ আমরা এগুলো বলেছি।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সাবধান! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, আমি আপনাদের চেয়ে সব চাইতে মহান আল্লাহ পাক উনাকে বেশী ভয় করি এবং আপনাদের চেয়ে আমি বেশী মুত্তাকী পরহেযগার। তথাপি আমি রাত্রে নামায পড়ি, আবার ঘুমাই, রোযা রাখি ও ভঙ্গ করি এবং আমি মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ (মহাসম্মানিত শাদী মুবারক) করেছি। এটাই আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক, সুতরাং যে আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হতে ফিরে যাবে সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (মিশকাত শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي.
অর্থ: যারা আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক থেকে বিমুখ থাকবে তারা আমার (উম্মতের) অন্তর্ভুক্ত নয়। (বুখারী শরীফ)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, সম্মানিত দ্বীন-ইসলাম উনার মধ্যে তাফরীত এবং ইফরাত অর্থাৎ বাড়ানো ও কমানোর অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। কাজেই, আমাদের সকল আমল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আদর্শ মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বায় করতে হবে, কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণ করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরযে আইন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সর্বাবস্থায় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!