সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় জীবনী মুবারক
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পর্ব- ১৮)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ ওছিয়ত মুবারক:
দ্বিতীয় ওছিয়ত মুবারক:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ كَعْبِ ۣ الْاَحْبَارِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ اِنَّ اللهَ اَنْزَلَ عَلـٰى حَضْرَتْ اٰدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ عِصِيًّا بِعَدَدِ الْاَنْۢبِيَاءِ الْـمُرْسَلِيْنَ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ ثُـمَّ اَقْبَلَ عَلٰى اِبْنِهٖ حَضْرَتْ شِيْثٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ اَىْ بُنَـىَّ اَنْتَ خَلِيْفَتِـىْ مِنْ بَۢعْدِىْ فَخُذْهَا بِعِمَارَةِ التَّقْوٰى وَالْعُرْوَةِ الْوُثْقٰى وَكُلَّمَا ذَكَرْتَ اللهَ فَاذْكُرْ اِلـٰى جَنْۢبِهٖ اِسْمَ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاِنِّـىْ رَاَيْتُ اِسْـمَهٗ مَكْتُوْبًا عَلـٰى سَاقِ الْعَرْشِ وَاَنَا بَيْنَ الرُّوْحِ وَالطِّيْنِ كَمَا اَنِّـىْ طُفْتُ السَّمَاوَاتِ فَلَمْ اَرَ فِـى السَّمَاوَاتِ مَوْضِعًا اِلَّا رَاَيْتُ اِسْمَ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا عَلَيْهِ وَاِنَّ رَبِّـىْ اَسْكَنَنِـىَ الْـجَنَّةَ فَلَمْ اَرَ فِـى الْـجَنَّةِ قَصْرًا وَّلَا غُرْفَةً اِلَّا اِسْمَ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا وَلَقَدْ رَاَيْتُ اِسْمَ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا عَلـٰى نُـحُوْرِ الْـحُوْرِ الْعِيْنِ وَعَلـٰى وَرَقِ قَصَبِ اٰجَامِ الْـجَنَّةِ وَعَلـٰى وَرَقِ شَجَرَةٍ طُوْبـٰى وَعَلـٰى وَرَقِ سِدْرَةِ الْـمُنْتَهٰى وَعَلـٰى اَطْرَافِ الْـحِجَبِ وَبَيْنَ اَعْيُنِ الْـمَلَائِكَةِ فَاَكْثِرْ ذِكْرَهٗ فَاِنَّ الْـمَلَائِكَةَ تَذْكُرُهٗ فِـىْ كُلِّ سَاعَاتِـهَا
অর্থ: “হযরত কা’ব আহ্বার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সমসংখ্যক (অর্থাৎ উনারা যতজন ততখানা) সম্মানিত ‘আছা মুবারক নাযিল করেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম উনার নিকট অগ্রসর হয়ে বলেন, হে আমার প্রিয় আওলাদ আলাইহিস সালাম! আপনি আমার পর আমার সম্মানিত খলীফা অর্থাৎ সম্মানিত নায়িব হবেন। তাই, আপনি উক্ত সম্মানিত দায়িত্ব মুবারক সম্মানিত তাক্বওয়া মুবারক উনার ভিত্তি দ্বারা এবং সুদৃঢ় হাতল মুবারক দ্বারা শক্তভাবে আঁকড়িয়ে ধরুন। আর আপনি যখনই মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিকির মুবারক করবেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক করবেন, তখনই মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিকির মুবারক করবেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ! কেননা, নিশ্চয়ই আমি সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার স্তম্ভ মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক লিখিত দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! আর আমি যখন রূহ ও মাটির মাঝে ছিলাম (অর্থাৎ আমার সৃষ্টির অনেক পূর্বে) মহান আল্লাহ পাক তিনি তা লিপিবদ্ধ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর আমি আসমানসমূহ (সপ্ত আসমান) ঘুরে দেখেছি; কিন্তু আসমানসমূহে এমন কোনো জায়গা দেখিনি, যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ নেই। অর্থাৎ সপ্ত আসমানের সমস্ত জায়গায় لَآ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লিপিবদ্ধ রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বসবাস করিয়েছেন; কিন্তু আমি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার এমন কোনো সম্মানিত বালাখানা মুবারক এবং সম্মানিত কামরা বা কক্ষ মুবারক পাইনি, যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ নেই। সুবহানাল্লাহ! আর আমি অবশ্যই সমস্ত সম্মানিত জান্নাতী হূর উনাদের সম্মানিত গলা মুবারক-এ, উনাদের বুক মুবারক উনার উপরিভাগে (এবং উনাদের চোখের ভিতরে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার প্রতিটি গাছের ডালে ডালে, পাতায় পাতায়, সম্মানিত তূবা বৃক্ষের পাতায় পাতায়, সিদ্রাতুল মুন্তাহার পাতায় পাতায়, সম্মানিত হিজাব মুবারক উনার কিনারে কিনারে এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের চোখসমূহে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! কাজেই, আপনি অধিক পরিমাণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিকির মুবারক করুন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক করুন। কেননা, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সবসময় দায়িমীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিকির মুবারক করেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (খছাইছুল কুবরা, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্, শরহুয যারক্বানী, ইবনে আসাকির, শরহুল বুখারী, আল হাওই শরীফ ইত্যাদি)