✴️ ইলমে তাছাউফ
ষষ্ঠ অধ্যায়: তাযকিয়ায়ে নফস
মহান আল্লাহ পাক মানুষকে দেহ ও আত্মা—উভয়ের সমন্বয়ে সৃষ্টি করেছেন। দেহের যেমন খাদ্য, চিকিৎসা ও পরিচর্যার প্রয়োজন, তেমনি আত্মারও খাদ্য ও পরিচর্যার প্রয়োজন।
আত্মার রোগগুলো হলো:
অহংকার, রিয়া, হিংসা, কৃপণতা, দুনিয়ার মোহ, আত্মপ্রশংসা, গাফিলতি, নফসের অনুসরণ।
এই রোগগুলো দূর করার নামই তাযকিয়ায়ে নফস।
নফসে আম্মারা মানুষকে গুনাহের দিকে আহ্বান করে। এটি নেতৃত্ব ও সম্মানের লোভে মানুষকে বিপথে নিতে চায়।
নফসে মুতমাইন্নাহ প্রশান্ত নফস, যা মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরে শান্তি লাভ করে।
সপ্তম অধ্যায়: কামিল শায়েখ উনার ফযীলত, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
মহান আল্লাহ পাক যুগে যুগে নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে হিদায়াত দান করেছেন। উনাদের পরে আউলিয়ায়ে কিরাম আত্মশুদ্ধির শিক্ষা প্রদান করেছেন।
যারা শরীয়ত ও ত্বরীক্বতের পূর্ণতা লাভ করেছেন, তাঁদের কামিল শায়েখ বলা হয়।
মানুষ নিজের দোষ নিজে অনেক সময় দেখতে পায় না। একজন অভিজ্ঞ আত্মিক শিক্ষক তা চিহ্নিত করতে সাহায্য করেন। কামিল শায়েখ কুরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা প্রদান করেন এবং মুরীদের নফসের রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করেন।
কামিল শায়েখের তত্ত্বাবধানে মুরীদগণ নফসের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার পথে অগ্রসর হন। ওলীআল্লাহগণ তাঁদের মুরীদদের ইছলাহ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তরবিয়ত প্রদান করেন।
তবে কোনো ব্যক্তিকে কেবল দাবি বা জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে কামিল শায়েখ মনে করা উচিত নয়; বরং তাঁর আকীদা ও আমল যাচাই করা জরুরি। প্রকৃত কামিল শায়েখ কখনো কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী শিক্ষা দেন না।