২,
আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম।
এটি একটি গোমরাহিমূলক বক্তব্য। এখানে বলা হচ্ছে, যিনি খালিক, যিনি মালিক, রহমত, তিনি ইরশাদ করেছেন আমার হাবীব, মাহবুব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি সমস্ত সৃষ্টিকে আইয়্যামুল্লাহ শরীফ সম্পর্কে ইলমে মোবারক দান করুন—'ওয়াজাক্কিরহুম বিআইয়্যামিল্লাহ'।
কেন দান করতে হবে? তার তো অনেক অসংখ্য অগণিত কারণ। তার একটা হচ্ছে—
> إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ
(নিশ্চয়ই এর মধ্যে রয়েছে নিদর্শনাবলী)
রহমত, বরকত, সাকিনাহ, মাগফিরাত ইত্যাদি সবকিছুই রয়েছে।
> لِكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ
> (প্রত্যেক ধৈর্যশীল এবং শুকরগুজার বান্দা-বান্দীদের জন্য)
অর্থাৎ, যে সমস্ত বান্দা-বান্দীরা ধৈর্য ধারণ করে এ আইয়্যামুল হাশর পালন করবে এবং পালন করার পরে সে যে পালন করতে পারল, সেজন্য সে যদি শুকরগুজারি করে, তাহলে তার জন্য এখানে সমস্ত রহমত, বরকত, সাকিনাহ, মাগফিরাত সব রয়েছে।
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
> (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী)
>
এখানে আইয়্যামুল হাশর পালন করতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে। করে দৃঢ়তার সাথে পালন কর। পালন করতে পারলে শুকরগুজারি করতে হবে। কারণ হচ্ছে—
> إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
> (নিশ্চয়ই খালিক, মালিক, রহমান আল্লাহ তিনি যারা ধৈর্যশীল, তাদের সাথে রয়েছেন)
>
আবার শুকরগুজারি সম্পর্কে বলা হচ্ছে, একখানা অংশ হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
> مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ لَمْ يَشْكُرِ اللَّهَ
> (যে মানুষের শুকরগুজারি করতে পারে না, সে খালিক, মালিক, রহমান আল্লাহ উনার শুকরগুজারি করতে পারে না)
>
নাউযুবিল্লাহ! এখন কোনো মানুষ কারও উপকার করলে তার শুকরগুজারি করাটা, এটাও কিন্তু আদেশ মোবারক রয়েছে।
এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্মানার্থে আমরা এই সমস্ত নেয়ামত লাভ করেছি।
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
> (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী)
>
তাহলে এই আইয়্যামুল হাশর পালন করতে হবে, ধৈর্য্যের অন্তরে পালন করার পরে শুকরগুজারি করতে হবে। আর শুকরগুজারি না করলে কঠিন বিপদ।
কারণ কালামুল্লাহ শরীফে যিনি খালিক, যিনি মালিক, রহমান তিনি বলেন—
> وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ
> (স্মরণ কর, যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিচ্ছেন)
>
এখানে যিনি খালিক, যিনি মালিক, রহমান তিনি নিজে ইরশাদ মোবারক করেন যে, তোমাদের যিনি রব তা’আলা, যিনি খালিক, যিনি মালিক, মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ঘোষণা দিচ্ছেন— যপদি তোমরা নেয়ামত লাভ কর, শুকরগুজারি কর—
> لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ
> (যদি তোমরা শুকরগুজারি কর, তবে অবশ্যই আমি নেয়ামত বৃদ্ধি করে দিব। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী! আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নাশোকরি কর, তবে নিশ্চয়ই আমার আজাব বড় কঠিন, অর্থাৎ তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দিব)
>
নাউযুবিল্লাহ! কত শাস্তি দিবেন? এটাও কিন্তু কোরআন শরীফে ইরশাদ মোবারক করা হয়েছে।
যিনি খালিক, যিনি মালিক, রহমান তিনি বলেন—
> إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا سَوْفَ نُصْلِيهِمْ نَارًا
> (নিশ্চয়ই যারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করবে, অচিরেই আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব)
>
নাউযুবিল্লাহ! কেমন?
> كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُمْ بَدَّلْنَاهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا لِيَذُوقُوا الْعَذَابَ
> (তাদের চামড়া যখনই জ্বলে যাবে, আমি তা বদলে দেব অন্য চামড়া দ্বারা, যেন তারা আজাব আস্বাদন করতে পারে)
>
তাদের তো জাহান্নামে প্রবেশ করাব, করানোর পরে আগুন দিয়ে তাদেরকে পোড়াব। এই পোড়ানোর জন্য, যখন পোড়ানো হবে, তাদের চামড়া যখন জ্বলে যাবে, আমি চামড়া পাল্টে আবার নতুন চামড়া দেব। আবার সেটাকে পোড়াব, যেন আজাবটা, এই শাস্তিটা—পুরোপুরি তাদের জন্য জারি হয়।
> إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَزِيزًا حَكِيمًا
> (নিশ্চয়ই খালিক, যিনি মালিক, রহমান আল্লাহ পাক তিনি পরাক্রমশীল এবং বিজ্ঞ মহাজ্ঞানী ইত্যাদি)
>
এখন কতটুকু শাস্তি দেবেন? এটার ব্যাখ্যায় বলা হয়, ওই যে বলা হচ্ছে—'কুল্লামা নাদিজাত জুলুদুহুম', চামড়া পুড়ে যাবে। বলা হচ্ছে, প্রতি ঘণ্টায় সত্তর হাজার বার চামড়াটাকে বন্দনা, পোড়ানো হবে।
নাউযুবিল্লাহ! এখন এটা হচ্ছে ভাষাগত সত্তর হাজার বার। এর চেয়ে কত লক্ষ-কোটি বার যে হবে, সেটার কোনো হিসাব নেই। নাউযুবিল্লাহ! যারা এই নিদর্শনসমূহ পালন করবে না, অস্বীকার করবে।
এখন এই আইয়্যামুল্লাহ শরীফ নিদর্শন মোবারক। পালন করার উম্মতের জন্য আম্বিয়ায়ে সুন্নত, খাস এটা ফরজ। কারণ এই আইয়্যামুল্লাহ শরীফ পালন করলে সে রহমত, বরকত, সাকিনাহ, মাগফিরাত, দয়া, জান্নাতুল ফেরদৌস লাভ করবে। আর যদি সে এটাকে অস্বীকার করে, তবে সে শাস্তির সম্মুখীন হবে।
নাউযুবিল্লাহ! আর শাস্তি থেকে তো বেঁচে থাকাটা ফরজ। সেই হিসেবে এটা ফরজ। এটা ফিকিরের বিষয়।
এখন আইয়্যামুল্লাহ শরীফ—আখিরী চার সোমওয়ার শরীফ। এর মূল বিষয় তো অকেয়া একটা, সেটাই আমি আগে বলব, এর পরে এর খুসুসী ওয়াক্তটা বলব।
আখিরী চার সোমওয়ার শরীফ—এর খুসুসী হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবীয়ীন হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বিদায় হজ মোবারক করেন দশ হিজরীতে। হজ ফরজ হয়েছে নবম হিজরীতে। যখন নবম হিজরীতে হজ ফরজ হলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আফযালুন্নাস বাদাল আম্বিয়া হযরত সিদ্দিকে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে আমীরুল হজ করে পাঠালেন হজটা সম্পন্ন করার জন্য, সবকিছু তর্তীব বলে দিলেন।
উনি যাওয়ার পরে কিছু নতুন হুকুম জারি হলো, ওহী মোবারক নাযিল হলো, সেটা আবার পরবর্তীতে হযরত ইমামুল আউয়াল আলাইহিস সালাম উনাকে সেই সমস্ত হুকুম-আহকাম মোবারকসহ উনাকে আবার পাঠালেন সেখানে। সেই বৎসর আমীরুল হজ হযরত আফযালুন্নাস বাদাল আম্বিয়া সিদ্দিকে আকবর উনি হজটা সম্পন্ন করেছেন সবাইকে নিয়ে।
এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবীয়ীন হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করলেন, হজ তো উম্মতদেরকে শিক্ষা দিতে হবে। সেজন্য তিনি দশ হিজরী শরীফে হজ মোবারক সম্পন্ন করবেন।
সুবহানাল্লাহ! তিনি যখন বলেন—'সল্লু কামা রায়তুমুউসসাল্লী' (তোমরা যেভাবে নামাজ পড়েছ, তোমরা সেভাবে নামাজ পড়ো দেখে দেখে)। ঠিক আমি যেভাবে হজ মোবারক করব, আপনারা সেভাবে হজ মোবারক করবেন। সেজন্য তিনি হিজরী শরীফে হজ মোবারক করার জন্য রওনা হলেন, সেটা হচ্ছে—যিলক্বদ শরীফ মাসের, যিলক্বদ শরীফ মাসের পঁচিশ তারিখে। পঁচিশ তারিখে তিনি মদীনা শরীফ থেকে মক্কা শরীফ তাশরিফ নেওয়ার জন্য বের হলেন। দশ দিন সময় ব্যয় হলো মক্কা শরীফে পৌঁছলেন, এখানে পাঁচ তারিখ।
সেখান থেকে পনেরো তারিখ, দশ দিন হজ সম্পন্ন করলেন। হজের কাজগুলি মূলত সাত তারিখ থেকে শুরু হয়, তেরো তারিখ পর্যন্ত মূল। তো সম্পন্ন করে, তিনি আবার পনেরো তারিখে রওনা দিলেন মক্কা শরীফ থেকে মদীনা শরীফ।
এখানে এসে পৌঁছলেন আবার পঁচিশ তারিখে, মোট এক মাস সময়। এখানে কতগুলো বিষয় রয়ে গেছে, সেটা হলো—এই আখিরী চার সোমওয়ার শরীফ এটা বারোই শরীফের সম্পর্ক আছে।
অর্থাৎ, এখানে এই ওলামায়ে সূহ খারিজে এদের সমস্ত কিতাবে অনেক কুফরী এবং ভুল বক্তব্য আছে। এরা কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার যে বিষয়টা—এই বারোই শরীফ, উনার যে তিনি যে দিদার মোবারক তাশরিফ নিলেন, এটা নিয়ে তারা চুউ-চারা কি লোকাল? কেউ দুই তারিখ, আট তারিখ, নয় তারিখ, তেরো তারিখ—অনেক কিছু বলে। আসলে গণ্য মূর্খ।
মূর্খ এইজন্য—এরা কিন্তু চাঁদের বিষয়টা জানে না। অধিকাংশ কথিত আলেম যারা, আবার অনেকে যারা কিতাবাদি রচনা করছে, এরা কিন্তু চাঁদের বিষয়টা জানেই না।
এখানে সমস্যাটা হচ্ছে—যে ইওমে আরাফা, অর্থাৎ আরাফাত হলো নবম তারিখ, ছিল জুমার দিন। এটা খুব ফিকিরের বিষয়, মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।
ইওমে আরা হচ্ছে জুমার দিন। তো জুমার দিন যদি ইওমে আরাফা হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনামী যে বারোই শরীফ দ্বীনের তাসরিফ নিয়ে, এটা কোনদিন মিলবে না, কেয়ামত পর্যন্ত মিলবে না। এইজন্য তারা মিলাইতে পারে নাই।
তারা দুই তারিখ, আট তারিখ, নয় তারিখ, চার বলছে। শেষে বলেছে বারো তারিখ হলো মশুর। আসলে মশুর না, বারো তারিখ হলো সহীহ। এরা তা জানে না, সেটা হলো—চারটা যে উঠেছিল, মক্কা শরীফে চাঁদ দেখা গিয়েছিল, মদীনা শরীফে চাঁদ দেখা যায় নাই। যার কারণে একদিন তারা আগে গেছে, সেজন্য মক্কা শরীফের নয় তারিখে হলো জুমার দিন হয়ে গেছে। আর মদীনা শরীফে কিন্তু সেটা না।
মদীনা শরীফে যিলক্বদ শরীফ, যিলহজ্জ শরীফ, মহররম হারাম শরীফ এবং সফর শরীফ—এই চার মাস একাধারে ত্রিশ দিন হয়েছে। একাধারে ত্রিশ দিন।
সেজন্য আখিরী চার সোমওয়ার শরীফ ইওমে আরবিয়া বুধবার। বুধবার যদি ত্রিশ তারিখ হয়, তাহলে এক তারিখ খমিছ, জুন তো এক তারিখ, আট তারিখ খমিছ। নয় তারিখ জুমা, দশ তারিখ সাত, এগারো, বারো, ইসনাইন, বারো। এটা বারো তারিখ হয়।
এটা সেটা মিলাইতে পারে নাই যে, তাদের ইওমে আরাফা নয় তারিখ, তারা হিসাব করে নয় তারিখ ধরে। নয় তারিখ ধরলে কোনদিন কেয়ামত পর্যন্ত মিলবে না। যতই হিসাবই করুক, এইজন্য তারা মিলাইতে পারে না, তার তো জানে না। তো চারটা যে দেখা যায়নি, মক্কা শরীফ, মদীনা শরীফ একদিন পার্থক্য হয়ে গেছে।
যার কারণে এই বিষয়টা এরা মিলাইতে পারে নাই। এইজন্য মদীনা শরীফে একাধারে চারটা মাস ত্রিশ দিন হয়েছে—যিলক্বদ শরীফ, যিলহজ্জ শরীফ, মহররম হারাম শরীফ এবং সফর শরীফ মাস।
এটা একটা বিষয়। আর হচ্ছে—যে আখিরী চার সোমওয়ার শরীফ। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি যখন হজ মোবারক সম্পন্ন করে মদীনা শরীফ তাশরিফ আনলেন, এখানে আবার আরেকটা বিষয় আছে। এটা শিয়ারা পালন করে 'গাদীরে খুম', গাদীরে খুম।
গাদীরে খুম হচ্ছে—মক্কা শরীফ, মদীনা শরীফের মাঝামাঝি, বিশেষ করে মক্কা শরীফের কাছাকাছি একটা স্থান, সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুদবা মোবারক দিয়েছিলেন। হযরত আহলে বাইত শরীফ উনাদের ফজিলত বর্ণনা করেছিলেন।
'উয়াজাকুকুমুল্লাহ ফি আহলে বাইতী, উয়াজাকুমিকুম ফি আহলে বাইতী, উয়াজাকুমিকুম ফি আহলে বাইতী।' নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লম্বা হাদিস শরীফে শেষে বললেন, 'আমি আপনাদেরকে সাবধান করে দিচ্ছি, আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ সম্পর্কে আপনারা আল্লাহপাককে ভয় করবেন।'
একবার, দুইবার, তিনবার—এখানে নসিহত করেছেন।