ইলমে তাছাউফ মানে বাদ দেওয়া বা বর্জন করা
ইলমে তাছাউফের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার জন্য অকল্যাণকর বিষয়গুলো বর্জন করা।
১. আল্লাহ তা'আলা ছাড়া সবকিছু থেকে অন্তরকে মুক্ত করা
হযরত যুননুন মিসরী রহমতুল্লাহ আলাইহি তাসাউফের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন:
আল্লাহ তা'আলা ছাড়া আর সবকিছু বর্জন করাই তাসাউফ।"
অর্থাৎ, অন্তর থেকে খালিক্ব মালিক্ব রব মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকল জাগতিক মোহ, আসক্তি ও নির্ভরতা দূর করে একমাত্র আল্লাহ তা'আলার দিকে মনোনিবেশ করাই তাসাউফের মূল লক্ষ্য।
২. মন্দ স্বভাব বর্জন
তাসাউফের পরিভাষায় অন্তর থেকে মন্দ স্বভাব, কুপ্রবৃত্তি ও চারিত্রিক ত্রুটি দূর করার নাম তাখলিয়া।
৩. আমিত্ব, অহংকার ও অহমিকা বর্জন
তাসাউফের পথে অগ্রসর হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো নিজের আমিত্ব, অহংকার ও আত্মগর্ব পরিত্যাগ করা।
বায়আতের প্রকৃত উদ্দেশ্যও হলো নিজের আমিত্বকে আল্লাহ তা'আলার রাহে সমর্পণ করা এবং আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে মুক্ত হওয়া।
৪. দুনিয়ার মোহ ত্যাগ (যুহুদ)
আধ্যাত্মিকতার একটি সুপরিচিত পরিভাষা হলো যুহুদ।যার অর্থ দুনিয়ার মোহ, ভোগ-বিলাস ও অতিরিক্ত আসক্তি ত্যাগ করা।
আল্লাহর নেক বান্দাগণ দুনিয়ার মোহমুক্ত জীবনযাপনের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য অর্জন করেছেন।
৫. নফসের কুমন্ত্রণা বর্জন
ইলমে তাছাউফের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং তার কুমন্ত্রণা ও কুপ্রবৃত্তিগুলো দূর করা।
নফসের যেসব রোগ মানুষকে আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, সেগুলো বর্জনের মাধ্যমেই আত্মিক উন্নতি অর্জিত হয়।
৬. গুনাহ ও গায়রুল্লাহ থেকে অন্তরকে মুক্ত করা
হযরত ইমাম গাজালী রহমতুল্লাহ আলাইহি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আধ্যাত্মিকতার উচ্চতম স্তর হলো এমন অবস্থায় পৌঁছা, যেখানে বান্দার অন্তরে আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্য কোনো আসক্তি বা নির্ভরতা স্থান পায় না।
সারসংক্ষেপ
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, ইলমে তাছাউফ মানে শুধু কিছু আমল করা নয়; বরং অন্তর থেকে গায়রুল্লাহ, গুনাহ, মন্দ স্বভাব, নফসের কুমন্ত্রণা, অহংকার, আমিত্ব এবং অনর্থক দুনিয়াবী মোহ বর্জন করে অন্তরকে আল্লাহ তা'আলার জন্য পরিশুদ্ধ করা।