✴️সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,


অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, একদা একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসলেন এবং বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে সৎ ব্যবহার পাওয়ার সর্বাধিক হক্বদার কে? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার মাতা। তিনি বললেন তারপর কে? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার মাতা। তিনি বললেন, অতঃপর কে? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার মাতা। তিনি বললেন, অতঃপর কে? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার মাতা। তিনি বললেন, অতঃপর কে? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- আপনার পিতা। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুতহ্হারাহ্, মুতহ্হিরাহ্, হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় যা বলেছেন তা থেকে আমরা যা বুঝতে পেরেছিÑ তা হলো তিনটি কারণে মায়ের হক্বকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে:

১. সন্তানকে রেহেমে ধারণ করেন

২. সন্তান আগমনের সময় যে কষ্ট ও বেদনা সহ্য করেন

৩. সন্তানকে দু’বছর দুধ পান করান।

এছাড়া মানুষ দুনিয়াতে মায়ের মাধ্যমেই আসে। মায়ের মাধ্যমেই দুনিয়া চিনতে পারে। এমনকি বাবাকেও চিনতে পারে। অন্যথায় বাবাকে চিনাও মুশকিল। আপরদিকে শিশুকালে যখন সন্তানের কোন বুঝ শক্তি থাকে না তখন সে মাকে দেখে দেখেই সবকিছু শিখে। এজন্য মাকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কারণ মা যদি দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত না হন তাহলে সন্তানকেও দ্বীনি শিক্ষা দিতে পারবে না। আর সন্তান যদি শিশুকাল থেকে দ্বীনি শিক্ষা না পায় তাহলে সে বড় হওয়ার পর তাকে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যেমন- মাটি দিয়ে কেউ যদি কোন বস্তু তৈরী করতে চায় তাহলে মাটি কাঁচা থাকা অবস্থায়ই সেটা দিয়ে তৈসংরী করতে হবে। অন্যথায় মাটি শুকিয়ে গেলে সেটা দিয়ে কোন বস্তু তৈরী করা যাবে না। ঠিক তদ্রুপ সন্তানকেও শিশুকাল থেকেই দ্বীন ইসলাম উনার বিষয়গুলি শিক্ষা দিতে হবে। অন্যথায় সন্তানকে আল্লাহওয়ালা বানানো কঠিন হয়ে যাবে। সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া পিতা-মাতা উভয়েরই দায়িত্ব।

একটি ঘটনা দ্বারা বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত কালে এক পিতা এসে মামলা দায়ের করল যে, তার (উক্ত পিতা) সন্তান তার কোন হক্ব আদায় করে না। সেই সন্তানকে ডাকা হলো এবং তার বাবার অভিযোগ ঠিক কিনা জানতে চাওয়া হলো। ছেলেটি বলল যে, ঠিক কথা বলেছে তার বাবা। কিন্তু ছেলেটি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার নিকট জানতে চাইলো, একজন সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার কী হক্ব বা দায়িত্ব রয়েছে। তখন তিনি জবাবে বললেনÑ একজন সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার তিনটি হক্ব বা দায়িত্ব রয়েছে-

১. একজন দ্বীনদার পরহেযগার মেয়েকে বিয়ে করা

২. সন্তান জন্ম নেওয়ার পর তার একটি সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা

৩. সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করা।

জবাব শুনে ছেলেটি বলল, “হে হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম! আমার বাবা এই তিনটি হক্বের মধ্যে একটি হক্বও আদায় করেনি। প্রথমত: আমার মা একজন বাদী, যিনি দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত নন। দ্বিতীয়ত: আমার নাম হচ্ছে জুল, যারঅর্থ গোবরের পোকা। তৃতীয়ত: আমাকে কোন দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া হয়নি তখন হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, এ মামলা খারিজ করে দেয়া হলো। কেননা সন্তানের কোন হক্ব আদায় করা হয়নি। সুতরাং এ ঘটনা দ্বারা বুঝা যায়, বাবা-মা উভয়কেই দ্বীনি ইলম অর্জন করে দ্বীনদার হওয়ার কোশেশ করতে হবে।