- حديث: ((يأتي زمان على أمتي يحبون خمسًا، وينسَون خمسًا: يحبون الدنيا، وينسون الآخرة، يحبون المال، وينسون الحساب، يحبون المخلوق، وينسون الخالق، يحبون القصور، وينسون القبور، يحبون المعصية، وينسون التوبة، فإنْ كان الأمر كذلك، ابتلاهم الله بالغلاء، والوباء، وموت الفجأة، وجَور الحكَّام)).
“আমার উম্মতের উপর এমন এক সময় আসবে--
, যখন তারা পাঁচটি জিনিসকে ভালোবাসবে এবং পাঁচটি জিনিসকে ভুলে যাবে:--যথা
১. দুনিয়াকে ভালোবাসবে, আখিরাতকে ভুলে যাবে।
২.সম্পদকে ভালোবাসবে, হিসাব-নিকাশের দিনকে ভুলে যাবে।
৩. সৃষ্টিকে ভালোবাসবে, স্রষ্টাকে ভুলে যাবে।
৪. অট্টালিকা ও প্রাসাদকে ভালোবাসবে, কবরকে ভুলে যাবে।
৫. পাপাচারকে ভালোবাসবে, তওবাকে ভুলে যাবে।

যখন এমন অবস্থা হবে, তখন আল্লাহ তাদেরকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মহামারি, আকস্মিক মৃত্যু (স্ট্রোক)এবং শাসকদের জুলুমের মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলবেন।”

উপরের কথাগুলোর মর্মার্থ পবিত্র কুরআন শরীফ ও সহীহ হাদিস শরীফ এরও বিভিন্ন স্থানে এসেছে।

১. বুদ্ধিমান ব্যক্তি কে?
হাদীস (সুনান তিরমিযী, 2459):
عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ:
«الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ، وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ، وَالْعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا، وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ الْأَمَانِيَّ»
অর্থ: “বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমল করে...”

২. সম্পদের মোহে আখিরাত ভুলে যাওয়া

পবিত্র কুরআন শরীফ (সূরা আত-তাকাসুর ১০২:১-২):
أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ ۝١ حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ ۝٢
অর্থ: “প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে গাফেল করে রেখেছে, যতক্ষণ না তোমরা কবরস্থানে উপনীত হলে।”

হাদীস শরীফ (সুনান তিরমিযী, 2417):
«لَا تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ أَرْبَعٍ ... وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ»
অর্থ: “কিয়ামতের দিন বান্দার দুই পা নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে ... তার সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে।”

৩. সৃষ্টির চেয়ে স্রষ্টাকে বেশি ভালোবাসা
পবিত্র কুরআন শরীফ (সূরা আল-বাকারা ২:১৬৫):
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ ۖ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ
অর্থ: “আর মুমিনগণ আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।”
৪. ঘরবাড়ি ও দুনিয়ার মোহ, মৃত্যুকে ভুলে যাওয়া

পবিত্র হাদীস শরীফ (সুনান তিরমিযী, 2307):
«أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَادِمِ اللَّذَّاتِ»
অর্থ: “তোমরা বেশি বেশি সেই জিনিসকে স্মরণ করো, যা সকল স্বাদ-আনন্দকে ধ্বংস করে দেয়।” অর্থাৎ মৃত্যু।

৫. পাপে লিপ্ত হওয়া, তওবা ভুলে যাওয়া

কুরআন (সূরা আন-নূর ২৪:৩১):
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।”
পবিত্র হাদীস শরীফ (সুনান তিরমিযী, 2499):
«كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ»
অর্থ: “প্রত্যেক আদমসন্তানই পাপী, আর পাপীদের মধ্যে উত্তম তারা, যারা তওবাকারী।”
৬. আকস্মিক মৃত্যু সম্পর্কে
হাদীস (সুনান আবু দাউদ, 311
«مَوْتُ الْفُجَاءَةِ رَاحَةٌ لِلْمُؤْمِنِ»
অর্থ: “আকস্মিক মৃত্যু মুমিনের জন্য স্বস্তি (রাহাত) স্বরূপ।”
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আত্মসমালোচনা, তওবা, মৃত্যুচিন্তা এবং আখিরাতের প্রস্তুতির তাওফীক দান করুন। আমীন।