ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে ফল গ্রহণ (আহার মুবারক) করেছেন এবং তিনি অত্যন্ত পছন্দ মুবারক করতেন। এমনকি তিনি হযরত ছাহবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকেও ফল খাওয়ার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। অর্থাৎ ফল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক।
স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনিও ফল খাওয়ার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
كُلُوْا مِنْ ثَمَرِهٖ اِذَا اَثْمَرَ وَاٰتُوْا حَقَّهٗ يَوْمَ حَصَادِهٖ وَلَا تُسْرِفُوْا اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِيْنَ ﴿١٤١﴾
অর্থ: “যখন বৃক্ষ ফলবান হয় তখন তোমরা ফল ভক্ষণ করো। এবং ফল-ফসল কাটার সময় তার হক্ব (উশর) আদায় করো। এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনআম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪১)
আর ফলমূল নিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّاسُ اِذَا رَأَوْا أَوَّلَ الثَّمَرِ جَاءُوْا بِهٖ اِلٰى رَسُوْلِ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا أَخَذَهُ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْ ثِمَارِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِيْ مَدِيْنَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَمُدِّنَا.
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা (উনাদের বাগানে) সর্বপ্রথম পাকা ফল দেখলে তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট (হাদিয়া মুবারক স্বরূপ) নিয়ে আসতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফলটি নিজ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরত মুবারকে (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাত মুবারকে) নিয়ে ইরশাদ মুবারক করতেন, আয় বারে ইলাহী! আমাদের ফলমূলে আমাদেরকে বরকত দিন, আমাদের শহরে আমাদেরকে বরকত দান করুন এবং আমাদের ছা’ ও মুদে অর্থাৎ পরিমাপের পাত্রে আমাদেরকে বরকত দান করুন। (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মুসলিম শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـيْ ذَرٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ كُلُوا التِّينَ فَلَوْ قُلْتُ إِنَّ فاكِهَةً نَزَلَتْ مِنَ الجَنّةِ بِلَا عَجَمٍ لَقُلْتُ هِيَ التِّيْنُ وَإِنَّهٗ يَذْهَبُ بِالْبَوَاسِيْرِ وَيَنْفَعُ مِنَ النِّقْرِسِ.
অর্থ: “হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে তীন ফল (ডুমুর ফল) নিয়ে আসেন। তখন তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের খাওয়ার জন্য দিলেন এবং নিজেও গ্রহণ (আহার মুবারক) করলেন এবং ইরশাদ মুবারক করলেন, যদি জান্নাত থেকে কোন ফল যমীনে এসে থাকে তবে সেটা তীন (ডুমুর) ফল। কারণ জান্নাতের ফল হবে বীজমুক্ত।” (জামিউছ ছগীর লিস সুয়ূতী; মুসনাদে ফিরদাঊস লি দায়লামী)
-আহমদ হুসাইন