ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৯৭)

وَلٰكِنْ يَا حَضْرَتْ حَنْظَلَةُ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ سَاعَةً وَّسَاعَةً ثَلَاثَ مَرَّاتٍ.

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! যে, হ্যাঁ ঠিকই আছে। কখনও আমার মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করলে এ রকম অবস্থা হবে আর কখনও দূরে গেলে এরকম হবে। আর এটিই হচ্ছে স্বাভাবিক। এটাই হচ্ছে স্বাভাবিক একটা অবস্থা। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

তিনি এ মহাসম্মানিত কথা মুবারক তিনবার বললেন। এখন বলার বিষয় হচ্ছে, এটা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পবিত্র হাল মুবারক। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত হাল মুবারক কি তাহলে? উনারা ক্ষেত-খামার করেননি, উনারা কারো কাছে অবস্থান করেননি। তাহলে উনাদের অবস্থাটা কি? উনাদের মহাসম্মানিত হাল মুবারকটা কি? সেটাইতো বলা হচ্ছে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-

لِيْ مَعَ اللهِ وَقْتٌ لَا يَسْعٰنِي فِيْهِ مَلَكٌ مُّقَرَّبٌ، وَلَا نَبِيٌّ مُّرْسَلٌ،

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে এমন মহাসম্মানিত অবস্থান মুবারক, এমন মহাসম্মানিত নিছবত মুবারক যেখানে কারো প্রবেশ করার কোন সুযোগ নেই। উনারা হোক হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম অথবা হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এখানে কারো প্রবেশ করার কোন সুযোগ নেই। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনিতো দায়েমীভাবে একই অবস্থায় রয়েছেন। ঠিক একইভাবে মহাসম্মানিত হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান মুবারক বলা হয়েছে-

لِى وَلَنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقْتٌ لَّا يَسْعٰنِى فِيْهِ مَلَكٌ مُّقَرَّبٌ وَّلَا نَبِىٌّ مُّرْسَلٌ

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার এবং আমাদের এমন একটি সময় রয়েছে অর্থাৎ দায়েমীভাবে এমন নিছবত মুবারক রয়েছেন যেখানে কোন নৈকট্যপ্রাপ্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের স্থান সঙ্কুলান হয় না। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!



অর্থাৎ মহাসম্মানিত হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের যে শান মুবারক, এমন সম্মানিত নৈকট্য মুবারক, এমন সম্মানিত নিছবত মুবারক, সম্মানিত কুরবত মুবারক দায়িমী ২৪ ঘন্টা। এর মধ্যে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম বা অন্য যেই হোক না কেন, কারো কোন প্রবেশ করার সুযোগ নেই। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে উনাদের সম্মানিত শান-মান কতটুকু, ফযীলত মুবারক মানুষ কি ব্যাখ্যা করবে? উনাদের সম্পর্কে মানুষ কি জানে ব্যাখ্যা? মানুষ জানে না। কখনই মানুষ জানে না। উনাদের সম্মানিত নিছবত মুবারক, সম্মানিত কুরবত মুবারক, সম্মানিত মহব্বত মুবারক কত গভীর এটা কল্পনাতীত একটা বিষয়। সেটাই বলা হচ্ছে, যেটা বলেছিলাম একটা মাক্বাম জাহির হয়েছে।

وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ

এর অর্থ মুবারক হচ্ছে, যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষের প্রাণ রগ থেকেও বেশি নিকটবর্তী। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এর হাক্বীক্বত মুবারক কি? ইহসানের যে দরজা বলা হয়। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছে জিবরীলে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

أَخْبِرْنِى عَنِ الْإِحْسَانِ.

হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আর্জি পেশ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে ইহসানের দরজা সম্পর্কে সংবাদ দান করুন।