1 d

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৫৪)

গাজী মুহম্মদ ছিদ্দীকের ফাঁসির রায়:

রায় কামাল লিখেন- নিম্ন আদালতে মামলার রায়ের দিন হাফিয মুহম্মদ ছিদ্দীক্ব শহীদের আম্মা তরুণ ছেলের কপালে বুছা খেয়ে অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, বেটা আমি অনেক খুশি। যেই মহাসম্মানিত রসূলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান ও মান মুবারক রক্ষার জন্য তুমি কুরবানির স্থলে যাচ্ছো, তার জন্য যদি তোমার মত আরো বিশটি ছেলে আমাকে কুরবান করতে হয়, তবে রব্বে কা’বা মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! তাতে আমি বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবো না।

দৈনিক ইনকিলাবসহ অন্যান্য মুসলিম সংবাদপত্রগুলোতে গাজী সাহেবের মায়ের এই দুঃসাহসিকতা ও ঈমানদীপ্ত বক্তব্য ও গাজী ছিদ্দীক শহীদ সম্পর্কে লেখা হয়েছে। গাজী সাহেব আপন মমতাময়ী মায়ের এই কথা শোনার পর তাকবীর ধ্বনি দিলেন এবং মায়ের কাছ থেকে জীবনের সকল অন্যায় অপরাধের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিলেন। এরপর বললেন, যেই মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক রক্ষার জন্য আমি মালউন পালামলকে হত্যা করে নিজেকে কুরবানীর জন্য পেশ করেছি। উনার জন্য যদি আমাকে হাজার বারও মরতে হয় তাহলে আমি প্রতিবারই উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক রক্ষার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবো এবং এটাকে আমার ফরয দায়িত্ব মনে করবো।

নিম্ন আদালতে গাজী মুহম্মদ ছিদ্দীক্বের ফাঁসির রায় দেয়া হলো। আম্মাজানকে বললেন, মুহব্বত শুধু পবিত্র কুরআন শরীফ এবং যিনি আমাদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফ হাদিয়া করেছেন অর্থাৎ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে। আপনি সর্বদা উনাদের সঙ্গেই আপনার দিল লাগিয়ে রাখবেন। আমার কবরে যেন কখনো শরীয়ত পরিপন্থী কোন কাজ না হয় এবং কাউকেও যেন তার অনুমতি দেয়া না হয়। সেটা খেয়াল রাখবেন।

জেল কর্তৃপক্ষের বর্ণনা হলো, ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ার পর উনার মুখে যে শব্দগুলো উচ্চারিত হচ্ছিলো তা হলো, হে আমার আল্লাহ! আপনার হাজার শোকর। আপনি আপনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক হিফাযতের কাজে কোটি কোটি মুসলমান থেকে আমার মত অধমকে নির্বাচন করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ!

হাফিয মুহম্মদ ছিদ্দীক শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করে মাহবুবে আলা উনার সান্নিধ্যে গমন করেন, তখন উনার বয়স ছিলো মাত্র একুশ বছর। (সমাপ্ত)