মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৮)
পবিত্র সালাম শরীফ :
সবশেষে ডানে-বাঁয়ে সালাম ফিরিয়ে পবিত্র নামায শেষ করতে হবে।
اَلسَّلامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ.
অর্থ : আপনার উপর মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত সালাম মুবারক ও সম্মানিত রহমত মুবারক বর্ষিত হোক।
পবিত্র ছলাতুত তাসবীহ নামাযের তাসবীহ মুবারক :
سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمدُ لِلّٰهِ وَلَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبرُ.
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র থেকে পবিত্রতম। সমস্ত প্রশংসা মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোন ইলাহ বা মা’বূদ নেই। আল্লাহ পাক তিনি মহান।
চার রাকাআত নামায ‘ছলাতুত তাসবীহ’ উনার নিয়তে, প্রত্যেক রাকাআতে ৭৫ বার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ এই পবিত্র তাসবীহ মুবারক পড়তে হয়।
পবিত্র ছানা শরীফ পাঠ করার পরে অর্থাৎ পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ পাঠ করার পূর্বে ১৫ বার, পবিত্র সূরা শরীফ পাঠ করার পর অর্থাৎ রুকূতে যাওয়ার পূর্বে ১০ বার, রুকূতে গিয়ে রুকূর তাসবীহ পাঠ করার পর ১০ বার, রুকূ হতে উঠে ক্বওমায় অর্থাৎ দাঁড়ানো অবস্থায় “রব্বানা লাকাল হাম্দ্” বলার পর ১০ বার, অতঃপর প্রথম সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পাঠ করার পর ১০ বার, প্রথম সিজদা হতে উঠে জলসায় অর্থাৎ দুই সিজদার মাঝখানে বসে, জলসার তাসবীহ পাঠ করার পর ১০ বার, অতঃপর দ্বিতীয় সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পাঠ করার পর ১০ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করতে হবে।
এভাবে প্রতি রাকাআতে ৭৫ বার করে মোট ৩০০ বার উক্ত তাসবীহ পাঠ করতে হবে।
পবিত্র হজ্জ পালন সংক্রান্ত দোয়া মুবারকসমূহ :
পবিত্র ইহরাম বাঁধার পর যে দোয়া মুবারক পাঠ করতে হয় :
اَللَّهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ رِضَاكَ وَالْجَنَّةَ وَاَعُوْذُبِكَ مِنْ غَضَبِكَ وَالنَّارِ.
অর্থ: আয় মহান আল্লাহ পাক! আমি আপনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক ও পবিত্র জান্নাতের আশা বা আরজু করছি এবং আপনার অসন্তুষ্টি ও জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
অথবা নিম্নোক্ত দোয়া মুবারক পাঠ করবে-
হযরত ইমাম কুদূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নি¤েœাক্ত দোয়া মুবারক পাঠ করতেন এবং পাঠ করার জন্য বলতেন-
اَللَّهُمَّ اِنِّي اُرِيْدُ (العُمْرَةَ - الْحَجَّ) فَيَسِّرْهُ لِيْ وَتَقَبَّلْهُ مِنِّي.
অর্থ: আয় মহান আল্লাহ পাক! আমি পবিত্র উমরাহ্/পবিত্র হজ্ব করার ইচ্ছা করছি; আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।
মুহরিম ব্যক্তি পবিত্র হজ্জ এবং পবিত্র উমরার জন্য যেভাবে তালবিয়াহ পাঠ করবে
لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ.
অর্থ : আয় মহান আল্লাহ পাক! আমি হাযির আছি, আমি হাযির আছি, আমি হাযির আছি, আপনার কোন শরীক নেই, আমি হাযির হয়েছি। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা মুবারক এবং সমস্ত নিয়ামত মুবারক সবই আপনার জন্য, সর্বকালে ও সর্বত্র আপনারই মহান ক্ষমতা মুবারক, আপনার কোন শরীক নেই। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
পবিত্র হাজরে আসওয়াদ উনার (পবিত্র কালো পাথরের) সামনে তাকবীর বলা
“নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উটের ওপর আরোহন মুবারক করে পবিত্র কা’বা শরীফ তাওয়াফ মুবারক করেছেন। যখন তিনি পবিত্র হাজরে আসওয়াদ উনার নিকট মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করতেন তখন সেদিকে কোন জিনিস দ্বারা ইঙ্গিত মুবারক করতেন এবং اللهُ أَكْبَرُ (আল্লাহু আকবার)“তাকবীর মুবারক” পাঠ করতেন। (বুখারী শরীফ,ফতহুল বারী)
পবিত্র হাজরে আসওয়াদ উনার ও পবিত্র রুকনে ইয়ামানীর মধ্যবর্তী স্থানে পঠিত দোয়া মুবারক :
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাজরে আসওয়াদ ও পবিত্র রুকনে ইয়ামানীর মধ্যবর্তী স্থানে নি¤েœাক্ত পবিত্র দোয়া মুবারক পাঠ করতেন। অর্থাৎ নি¤েœাক্ত পবিত্র দোয়া মুবারক পাঠ করা শিক্ষা মুবারক দিয়েছেন।
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ.
অর্থ : আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি দয়া করে আমাদেরকে ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে হিফাযত করুন। (আবু দাউদ শরীফ, আহমদ শরীফ)