#কারবালারহৃদয়বিদারকইতিহাস -৩
মুঝে কুফা ওয়ালো মুসাফির না সামঝো❓
📌সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ﷺ উনার কাছে কুফাবাসী কর্তৃক চিঠি প্রেরণ ও হযরত মুসলিম বিন আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কুফা গমন:-৩
পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে তাশরীফ মুবারক আনার পর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ﷺ উনার কাছে কূফা থেকে লাগাতার চিঠি-পত্র এবং সংবাদ বাহক আসতে শুরু করলো। অল্প সময়ের মধ্যে উনার কাছে দেড়শত চিঠি এসে পৌঁছল।
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ﷺ উনার কাছে দেড়শত চিঠি পৌঁছেছিল। প্রত্যেক চিঠির বিষয়বস্তু ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ।
💬 প্রেরিত চিঠি-পত্রের বিষয়বস্তুগুলো হচ্ছে-
“হে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ﷺ ! আমরা আপনার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনারই অনুসারী এবং হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ভক্ত। আমরা তো ইয়াযীদ লা'নতুল্লাহি আলাইহিকে সমর্থন করিনি। আর তাকে মানার তো প্রশ্নই উঠতে পারে না। আমরা আপনার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম ও আপনার সম্মানিত ভাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ﷺ উনাদের সমর্থনকারী।
আমরা ইয়াযীদ লা'নতুল্লাহি আলাইহির অনুসারী নই। ইয়াযীদ লা'নতুল্লাহি আলাইহি এখন ক্ষমতা লাভ করেছে, কিন্তু আমরা ইয়াযীদ লা'নতুল্লাহি আলাইহিকে খলীফা বা ইমাম মানতে পারি না। আপনাকেই বরহক্ব ইমাম মনে করি। আপনি মেহেরবানী করে কুফায় তাশরীফ মুবারক আনুন। আমরা আপনার পবিত্র হাত মুবারক-এ বাইয়াত গ্রহণ করবো এবং আপনাকে মনে-প্রাণে সম্মানিত ইমাম হিসেবে গ্রহণ করবো। আপনার জন্য আমাদের মাল-জান কুরবান করতে প্রস্তুত এবং আপনার হাত মুবারক-এ বাইয়াত গ্রহণ করে, আপনার অনুসরণ করে আমরা বাকি জিন্দেগী অতিবাহিত করতে ইচ্ছুক।
তাই আপনি আমাদের নিকট তাশরীফ মুবারক আনুন। আমাদের প্রতি মেহেরবানী করুন এবং আমাদেরকে আপনার মুবারক ছোহবতে রেখে আপনার ফয়েয-বরকত মুবারক দ্বারা আমাদেরকে উপকৃত করুন।” সমস্ত কবিলা ও খান্দানের পক্ষ থেকে উনার কাছে এই ধরনের চিঠি এসেছিল।
💬 অনেকে আবার এ ধরনের চিঠিও লিখেছিল-
“হে মহান ইমাম আলাইহিস সালাম! আপনি যদি আমাদের কাছে তাশরীফ মুবারক না আনেন; তাহলে আমাদেরকে বাধ্য হয়ে ইয়াযীদ লা'নতুল্লাহি আলাইহির হাতে বাইয়াত গ্রহণ করতে হবে। কারণ ইয়াযীদ লা'নতুল্লাহি আলাইহির মোকাবেলা করা আমাদের পক্ষে কিছুতেই সম্ভব নয়। আর যদি ইয়াযীদ লা'নতুল্লাহি আলাইহির হাতে বাইয়াত গ্রহণ করতে হয়, তাহলে কাল ক্বিয়ামতের ময়দানে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যখন আমাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন- 'আমরা কেন নালায়েক ইয়াযীদ লা'নতুল্লাহি আলাইহির হাতে বাইয়াত গ্রহণ করলাম?' তখন আমরা পরিষ্কার বলে দিব, 'হে মাওলা! আমরা আপনার পেয়ারা হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ﷺ উনার মহাসম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার কাছে অসংখ্য চিঠি লিখেছিলাম, সংবাদ পাঠিয়েছিলাম, মাল-জান কুরবানী করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলাম।
কিন্তু তিনি আমাদের নিকট তাশরীফ মুবারক আনেননি এবং আমাদের দাওয়াতও কবুল করেননি। তিনি যখন অগ্রাহ্য করলেন তখন আমরা বাধ্য হয়ে ইয়াযীদ লা'নতুল্লাহি আলাইহির হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছি।' অতএব, হে মহাসম্মানিত ইমাম আলাইহিস সালাম! আপনি স্মরণ রাখবেন, ইয়াযীদ লা'নতুল্লাহি আলাইহির নিকট আমাদের এ বাইয়াত গ্রহণের জন্য আপনিই দায়ী হবেন।” নাঊযুবিল্লাহ!
কুফাবাসীদের পক্ষ থেকে এ ধরনের চিঠি লিখার পরিপ্রেক্ষিতে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার বিধান অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ﷺ তিনি চিন্তা করলেন যে, সেখানে তিনি যাবেন কিনা। তিনি অনেকের সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করলেন এবং শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, প্রথমে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে পাঠাবেন, যিনি সেখানে গিয়ে স্বচক্ষে কূফার সার্বিক অবস্থা যাচাই করে দেখবেন যে, ওরা বাস্তবিকই উনাকে চায় কিনা? উনার প্রতি সত্যিই আন্তরিক মুহব্বত ও বিশ্বাস আছে কিনা? সঠিক সংবাদ পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন, তিনি যাবেন কি যাবেন না।
অতঃপর তিনি উনার আপন চাচাতো ভাই হযরত মুসলিম বিন আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এ কাজের জন্য মনোনীত করলেন। উনাকে বললেন- আপনি যাচাই করে যদি অবস্থা বাস্তবিকই সন্তোষজনক মনে করেন, তাহলে আমার কাছে চিঠি লিখবেন। চিঠি পাওয়ার পর আমি কূফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবো, অন্যথায় আপনি সেখান থেকে চলে আসবেন।”
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ﷺ তিনি কুফাবাসীদের কাছে একটি চিঠি মুবারক লিখলেন-
“ওহে কুফাবাসী! পরপর তোমাদের অনেক চিঠি আমার কাছে পৌঁছেছে। তাই আমি আমার চাচাতো ভাই হযরত মুসলিম বিন আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে আমার সম্মানিত প্রতিনিধি করে তোমাদের কাছে পাঠালাম। তোমরা সবাই উনার হাত মুবারক-এ বাইয়াত গ্রহণ করো এবং উনার খিদমত মুবারক করো।
তিনি তোমাদের মনোভাব যাচাই করে আমার কাছে চিঠি লিখবেন। যদি তোমাদের মনোভাব সন্তোষজনক হয়, তাহলে উনার চিঠি আসার পর পরই আমিও তোমাদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে যাব।”
এভাবে চিঠি মুবারক লিখে সীল মোহর লাগিয়ে হযরত মুসলিম বিন আকীল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দিয়ে রওয়ানা হওয়ারও মুবারক অনুমতি দিলেন। অতঃপর তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে পবিত্র মদীনা শরীফ গেলেন এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা-সাক্ষাত করার পর কূফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন।
#ashura2026
#muharram2026
#ahlebayt
#চলবেই…