ব্যক্তিত্ব:
মানে হলো "ইনসানে কামেল" — পূর্ণ মানুষ হওয়া।
তাছাউফের নজরে বাহিরের পরিপাটি না, অন্তর কতটা পরিষ্কার সেটাই আসল ব্যক্তিত্ব।
তাছাউফের মতে ব্যক্তিত্ব গঠনের ৫টা স্তর:
১. তাজকিয়া:নফসের পরিশুদ্ধি: হিংসা, অহংকার, রিয়া, দুনিয়ার লোভ — অন্তরের এই রোগগুলা ধোয়া।লক্ষণ: রাগ কমে যায়, মাফ করতে মন চায় ।
২. তাহলিয়া :সদগুণে সাজানো:সবর, শোকর, তাওয়াক্কুল, ইখলাস, হুজুরী অন্তরে বসানো:লক্ষণ:বিপদে ঘাবড়ায় না, নিয়ামতে অহংকার করে না
৩. ফানা:নিজেকে বিলীন করা:"আমি" "আমার" — এই ভাবটা শেষ হয়ে যায়। সব আল্লাহর।লক্ষণ:প্রশংসা-নিন্দায় সমান থাকে
৪,. বাকা:আল্লাহর সাথে টিকে থাকা :তখন বান্দা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হয় — রহমদিল, মাফকারী, ইনসাফকারী হয়:লক্ষণ:মানুষ তার কাছে শান্তি পায়
৫, খিদমতে খালক:সৃষ্টির সেবা:এত উঁচুতে উঠেও মাটির মানুষ থাকে। সবার খেদমত করে:লক্ষণ:
জুতা সোজা করে দেয়, অভাবীর খবর নেয়
সূফীদের চোখে আসল ব্যক্তিত্ববান কে?
১,ইমাম জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহ বলতেন:"তাছাউফ হলো, তুমি কোনো গুণে নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করবে না, আর কোনো দোষে অন্যের চেয়ে ছোট মনে করবে না।"
২,মাওলানা রুমী রহমতুল্লাহ বলতেন:"পাহাড়ের মতো অটল হও সবরে, নদীর মতো দানশীল হও, মাটির মতো বিনয়ী হও — তবেই তুমি মানুষ।"
খুলুছিয়াত, হুজুরী, আদব — তাছাউফে এগুলার স্থান
খুলুছিয়াত = তাছাউফের প্রথম সবক। বুযুর্গরা বলতেন: "একটা নিঃশ্বাসও যদি আল্লাহর জন্য না হয়, সেটা লস।"
হুজুরী = তাছাউফের রূহ। "আল-ইহসান" — এমনভাবে ইবাদত করো যেন তুমি আল্লাহকে দেখতেছো। না দেখলেও তিনি তো তোমাকে দেখতেছেন।
আদব = তাছাউফের সিঁড়ি। বায়েজিদ বোস্তামী রহ. বলতেন: "বে-আদব আল্লাহর রহমত থেকে মাহরুম।"
তাহলে তাছাউফের ব্যক্তিত্ব কীভাবে বানাবো?
৩টা কাজ:
মহাসম্মানীত মহাপবিত্র শায়খ ও মহাসম্মানীত মহাপবিত্র মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিসসালাম উনার ছোহবত
দৈনিক ১ঘন্টা জিকির
আমলনামা পুরণ করা