ঘটনা থেকে শিক্ষা
একমাত্র খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই ইবাদত করতে হবে
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি একবার এক ইহুদীর সাথে মল্লযুদ্ধে লিপ্ত হয়ে একে একে তিনদিন জিহাদ করার পরে ইহুদীকে পরাস্ত করে তাকে মাটিতে শোয়ালেন এবং ইহুদীর গর্দানে তরবারী চালানোর ইচ্ছা করলেন। সে মুহূর্তে সেই ইহুদী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার চেহারা মুবারকের দিকে থুথু নিক্ষেপ করলো। আর তখনই হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ইহুদীকে ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। এতে ইহুদী আশ্চর্যান্বিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলো যে- হুযূর! আপনি একে একে তিন দিন জিহাদ করে অনেক কোশেশ করে, আমাকে যমীনে শোয়ালেন। আর আমি আপনার শরীর মুবারকে থুথু নিক্ষেপ করার সাথে সাথে আমাকে ছেড়ে দিলেন। এর কারণ কি? সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “তোমার থুথু নিক্ষেপের পূর্ব পর্যন্ত তিন দিনই খালিছভাবে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্যই তোমার সাথে জিহাদ করেছি। যখনই তুমি আমার গায়ে থুথু নিক্ষেপ করলে, তখনই আমার মধ্যে গোস্সা পয়দা হলো। গোস্সা নিয়ে আমি যদি তোমার সাথে জিহাদ করি, তবে তা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য হবে না, বরং তা হবে আমার গোস্সার কারণে। তাই আমি তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি।”
উপরোক্ত ঘটনা থেকে সহজেই অনুমেয় যে, হাক্বীক্বীভাবে কামিয়াবী হাছিল করতে হলে কতটুকু ইখলাছ হাছিল করা আবশ্যক। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا اُمِرُوا اِلَّا لِيَعْبُدُوا اللهَ مُـخْلِصِينَ.
অর্থ: “তাদেরকে নির্দেশ করা হয়েছে- তারা যেন একমাত্র খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই ইবাদত করে।” (পবিত্র সূরা বাইয়্যিনাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৫)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হাক্বীক্বী ইখলাছ হাছিল করে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার সম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের সন্তুষ্টি, রেজামন্দী মুবারক হাছিল করার তাওফিক দান করুন।