পবিত্র মুহররমুল হারাম মাসকে একমাত্র বিদয়াতী ধর্মব্যবসায়ীরাই নববর্ষ হিসেবে উদযাপন করতে বলে
হিজরী বর্ষের প্রথম মাস পবিত্র মুহররমুল হারামকে কথিত ‘হিজরী নববর্ষ’ হিসেবে উদযাপন করার জন্য কতিপয় নব্য বিদয়াতী ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে ‘সূ’ যেন কোমর বেঁধে নেমেছে। তাদের কথা হলো, বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেনো এদেশে হিজরী নববর্ষকে বরণ করতে উলামায়ে কিরাম ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন না।
তারা পত্রিকায় “স্বাগতম হিজরী নববর্ষ” শিরোনামে লিখা পত্রস্থ করে বলে যে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আলিম উলামা, পীর-মাশায়িখ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের বুদ্ধিজীবিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে হিজরী নববর্ষ পালনের আয়োজন করতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
অথচ ইসলামী শরীয়তে কোনো ধরনেরই নববর্ষ পালন করা, সেটাকে সমর্থন করা, নববর্ষের জন্য সাহায্য সহযোগিতা করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। তাই কোনোকালেই মুসলমানদের মধ্যে হিজরী নববর্ষ পালনের কোনো রেওয়াজ চালু হয়নি। হিজরী বর্ষের প্রথম মাস পবিত্র মুহররম মাসের যে গুরুত্ব-তাৎপর্য তা মূলত পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনার সুস্পষ্ট নির্দেশনার আলোকেই। কারণ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যে চারটি মাসকে হারাম বা পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন তার মধ্যে পবিত্র মুহররমুল হারাম অন্যতম।
উল্লেখ্য, এই পবিত্র মুহররম মাসের ১০ তারিখ এমন একটি ঐতিহ্যম-িত বরকতময় দিন যার সাথে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা জড়িত। যার কারণে ১০ তারিখ অর্থাৎ পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম শরীফ উদযাপনের রীতি আদি যুগ থেকেই হয়ে আসছে। অপরদিকে বিভিন্ন জাতির মধ্যে নববর্ষ উদযাপনের যে বেশরা রীতি চালু আছে তার উদ্ভব ঘটেছে মজুসী-মুশরিকদের দ্বারা। সেটাকেই এখন মুসলমানগণ নিজেদের মাঝে হিজরী নববর্ষ উৎসব নামে চালু করার আধুনিক বিদয়াতে লিপ্ত হয়েছে। আর এর যার প্রবর্তক হচ্ছে, ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে ‘সূ’ গং। মুসলমানদেরকে এই নব্য ফিতনা বর্জন করে পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম শরীফ পালন করার জন্য জোর প্রস্তুতি গ্রহণের ঈমানী আহবান জানাচ্ছি।
- মেহরোমা।