//প্রতিরক্ষা রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য তুরস্কের//

পশ্চিমা দেশগুলো যখন সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করছে, তখন তুরস্ক প্রতিরক্ষা খাতে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।

গত দুই দশকে রাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফলে তুরস্ক ড্রোন, গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।

➡️ ২০২১ সালের তুলনায় দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে গত বছর ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

এই খাত বর্তমানে তুরস্কের মোট রপ্তানির প্রায় ৩.৭ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে।

➡️ একই সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে তুরস্কের প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে Baykar, Turkish Aerospace Industries এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা নির্মাতারা তুলনামূলক কম খরচে, দ্রুত সরবরাহযোগ্য এবং ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তনযোগ্য পণ্য সরবরাহ করে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।

➡️ বর্তমানে তুরস্ক বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।

বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী সশস্ত্র ড্রোন রপ্তানির প্রায় ৬৫ শতাংশ তুরস্কের দখলে রয়েছে।

ইতোমধ্যে তুর্কি কোম্পানিগুলো পোল্যান্ড, স্পেন, পর্তুগাল এবং রোমানিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

এছাড়া বায়কার ইতালির Piaggio Aerospace অধিগ্রহণ করেছে এবং Leonardo-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে।

➡️ আঙ্কারার আশা, আগামী মাসের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন পশ্চিমা বিশ্বের নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করবে এবং বিশেষ করে ইউরোপে যৌথ উৎপাদন প্রকল্প সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।

যদিও ইউরোপীয় বাজারে তুর্কি কোম্পানিগুলো এখনো বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নিয়ন্ত্রক বাধার মুখোমুখি হচ্ছে।

➡️ তুরস্ক আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিরক্ষা রপ্তানি দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশটি একদিকে ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি, অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চায়।

সূত্র: রয়টার্স