ইযহারু হাক্বীক্বতিল কুদ্রত আউওয়ালা র্মারাতিন ফী তারীখি খ্বালক্বিল্লাহ্ ‘আলা লিসানি সাইয়্যিদিনা সুলত্বানিন নাছীর মামদূহ্ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলাহ্ আলাইহিস সালাম
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৫০
পবিত্র কুদরত মুবারক উনার কাইফিয়্যাত মুবারক সম্পর্কে কল্পনাতীত বেমেছাল খোদায়ী ইলিম মুবারক বিতরণ:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَاللهُ يَـخْتَصُّ بِرَحْـمَتِهٖ مَنْ يَّشَآءُ
“মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁকে ইচ্ছা স্বীয় রহমত মুবারক দ্বারা খাছ করে নেন।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: ১০৫)
কাজেই, মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁকে চান, উনাকে খাছ করে এই বুঝগুলো দেন। সবাই বুঝে না এগুলি। বুঝবে না। এটা কোনো দিন বুঝা সম্ভব না।
তারপর যেমন- মুসলিম শরীফসহ আরো অন্যান্য কিতাবে রয়েছে,
مَا مِنْكُمْ مِنْ اَحَدٍ اِلَّا وَقَدْ وُكِّلَ بِهٖ قَرِيْنُهٗ مِنَ الْجِنِّ وَقَرِيْنُهٗ مِنَ الْمَلَائِكَةِ قَالُوْا وَاِيَّاكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَاِيَّاىَ وَلٰكِنَّ اللهَ اَعَانَنِىْ عَلَيْهِ فَاَسْلَمَ فَلَا يَاْمُرُنِىْ اِلَّا بِخَيْرٍ
“তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই একটি করে জিন শয়তান এবং একজন করে হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম নিযুক্ত রয়েছে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম আরয করলেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার সাথেও কি?’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ইরশাদ করলেন, ‘হ্যাঁ; আমার সাথেও আছে। তবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করেছেন। সে মুসলমান হয়ে গেছে। ফলে, সে আমাকে ভালো কাজ ছাড়া কোনো হুকুম দেয় না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!
‘মাকতূবাত শরীফ’-এ রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
اَسْلَمَ شَيْطَانِىْ
“আমার শয়তানটি মুসলমান হয়ে গেছে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! (মাকতূবাত শরীফ ১ম খ- ২৩৪ নং মাকতূবাত)
তাহলে পবিত্র ওহী মুবারক গেলো কোথায়? তাহলে বুঝা যাচ্ছে এই জিনও কথিত ওহী করে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! অথবা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই জিনের হুকুম মুতাবেক আমল করেছেন ওহী মুবারক ব্যতীত। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!
প্রকৃতপক্ষে এটা একটি হাক্বীক্বী মওযূ হাদীছ। তাদের বক্তব্য হচ্ছে- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একটা জিন শয়তান ছিলো। এটা কাফির ছিলো।’ এটা কাফির থাকাকালীন তাহলে কী হুকুম করতো? না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! ‘পরে মুসলমান হয়ে গেছে।’ মুসলমান হওয়ার পর কী হুকুম করেছে? না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!
উনার সাথে একটা কাফির থাকে কিভাবে? হ্যাঁ? কিভাবে থাকে? এটা কেমন হলো? হ্যাঁ? বলে- ‘ছিক্বাহ্ রাবী বর্ণনা করেছে।’ বলো। এটা ব্যাখ্যা দাও। বুঝো কিছু এগুলি? তাহলে কি বুঝো? কিছুই বুঝো না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুশ শিফা মুবারক (ছোট ইস্তেঞ্জা মুবারক), পবিত্র নূরুল গায়িব মুবারক (বড় ইস্তিঞ্জা মুবারক) সবকিছু পবিত্র থেকে পবিত্রতম। আর ভিতরে একটা শয়তান বসে রয়েছে! হ্যাঁ? কেমন হলো এটা? ছিক্বাহ্ রাবী বর্ণনা করেছে। এখন বলো। কয়দিন পরে মুসলমান হয়েছে? তাহলে কয়দিন পরে মুসলমান হলো ঐটা? তাহলে কতদিন ছিলো ঐ কাফিরটা? উনার মধ্যে আবার কাফির থাকে কিভাবে? উনি তো নূর মুবারক। এখানে কাফির প্রবেশ করে কিভাবে? হ্যাঁ? তাহলে মানুষ কি বুঝলো? আমার বলার বিষয় হলো এটা। মানুষ কেউ কিছুই বুঝেনি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান মুবারক কিছুই বুঝেনি। একদম বকলম। বললে শুনতে খারাপ শুনা যায়। বলে- ‘আপনি কী বলেন এগুলি?’ এটাই ঠিক আছে। একটা মানুষের সাথে শয়তান থাকতে পারে, একটা উম্মতের সাথে থাকতে পারে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে থাকে কিভাবে?
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র করার মত পবিত্র করে পবিত্র নূরুল ইযহার মুবারক (সৃষ্টি মুবারক) করেছেন। এখন পবিত্র বললে তো শব্দটা কম হয়। তাহলে উনার মাঝে নাপাকীর স্পর্শ থাকে কোথায়? যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামান্য পবিত্র নূরুত তাবাররুক মুবারক (স্পর্শ মুবারক) উনার কারণে একটা ধুলা-বালি হোক বা যেটাই হোক, সেটা পবিত্র আরশে আযীম থেকে সম্মানিত হয়ে যান, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভিতরে একটা শয়তান থাকে কিভাবে? এই জন্যই তো তারা লিখেছে যে, ‘পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার সময় ভিতর থেকে নাপাকীটা ফেলে দিয়েছে।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
وَمِنْهُ شُرْبُ حَضْرَتْ مَالِكِ بْنِ سِنَانٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ دَمَهٗ يَـوْمَ اُحُدٍ وَمَصُّهٗ اِيَّاهُ وَتَسْوِيْـغُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ ذٰلِكَ لَهٗ وَقَـوْلُهٗ لَهٗ لَنْ تُصِيْـبَهُ النَّارُ
অর্থাৎ উহুদের সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল ইস্তিক্বামত মুবারক (জিহাদে আহত হওয়া শান মুবারক) প্রকাশ করার পর হযরত মালিক বিন সিনান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার জিহ্বা মুবারক দিয়ে চুষে চুষে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুন নাজাত মুবারক (রক্ত মুবারক) পান করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত মালিক বিন সিনান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন-
لَنْ تُصِيْـبَهُ النَّارُ
‘উনাকে কখনো দোযখের আগুন স্পর্শ করবে না।’ সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরাকে হাকিম ৩/৬৩৮, মা’রিফতুছ ছাহাবা লি আবী না‘ঈম ১১/৪৬৮, দারু কুতনী ১/২২৮)