ইবলীস মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু


শয়তান মানুষের মধ্যে ফেৎনা তৈরি করে কিভাবে? তার একটা মেছাল কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক বুযূর্গ ব্যক্তি, ওলীআল্লাহ তিনি বর্ণনা করেন, তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখলেন, ইবলীস এক জায়গায় দাঁড়ানো।

তিনি ইবলীসকে দেখে বললেন, ইবলীস! তুমি এখানে কি করো? নিশ্চয়ই তোমার আশে-পাশে ফেতনা লাগিয়েছ।

সে বললো- না হুযূর! সে কোন ফেতনা করেনি। সেই বুযূর্গ ব্যক্তি একটু সামনে গেলেন। গিয়ে দেখেন মারামারি হচ্ছে।

তিনি বললেন, হে ইবলীস! তুমি নিশ্চয়ই মারামারির মূল। সে বললো- হুযূর! সে মারামারি লাগায়নি। কি করেছ তুমি?

সে বললো, সে- শুধু ছোট্ট একটা কাজ করেছে, আর কিছুই করেনি। কাজটা হলো এই যে, দুই বাড়ীতে মারামারি হচ্ছে, দুই বাড়ীর সীমানার মধ্যে এক ফোঁটা মিষ্টির রস ফেলে দিয়েছিল। যার কারণে সেখানে পিঁপড়া আসলো, পোকা-মাকড় আসলো। তা দেখে ঈঁদুর আসলো, ঈঁদুর দেখে বিড়াল আসলো। বিড়াল দেখে প্রতিবেশীর কুকুরটা আসলো। কুকুর বিড়ালকে কামড় দিল, আর বিড়ালওয়ালা কুকুরের মাথায় বারি দিল। তখন কুকুরওয়ালা উত্তেজিত হয়ে বিড়ালওয়ালার মাথায় বারি দিয়ে তাকে হত্যা করে ফেললো।

মূলতঃ ইবলীস শুধু একফোঁটা রস ফেলেছিল। কিন্তু বিরাট একটা ফেতনা পয়দা হয়ে গেল। ঠিক ইবলীসের কাজগুলি এরকমই হয়ে থাকে।

মূলতঃ বড় কাজটা তো সে করেনি, সে শুধু শুরু করে দেয়। এরপরে আর তার কিছু করা লাগে না। ইবলীস মানুষের মধ্যে প্রবেশ করে ওয়াস্ওয়াসা দেয়।

পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ইবলীস নিজে বর্ণনা করেছে যে, মানুষকে সে যখন গোস্বার মধ্যে পায়, বলের মত তাকে সে চক্কর খাওয়াতে থাকে। সে তখন তার তাবেদার হয়ে সে কি করে, তার নিজেরও হুঁশ থাকে না।

কাজেই ইবলীস হলো মানুষের শত্রু।

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, তাকে প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে গ্রহণ করো।

হযরত হাতেম আসেম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, এ বিষয়টি বুঝতে পেরে তখন থেকে আমি সমস্ত শত্রুতা, সমস্ত হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি যত বদ খাছলত রয়েছে, তা ছেড়ে দিয়ে একমাত্র মনে করলাম, শয়তানই আমাদের শত্রু, আর কারো সাথে আমাদের শত্রুতা নেই। সবার সাথে মুহব্বত, আমি তা জারি করে দিলাম।