হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশিষ্ট মুরীদ, মোল্লা আহমদ বার্কী তার হাল বা অবস্থা সম্পর্কে স্বীয় শায়েখকে অবহিত করে লিখেন- “ইতোপূর্বে যেরূপ উৎসাহ উদ্দীপনা, আশা আকাঙ্খা ছিলো, বর্তমানে তা নিজের মধ্যে পাচ্ছি না এবং এটাকে নিজের অবনতি বলে ধারণা করছি। ”
তার জাওয়াবে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন যে, “বৎস! অবগত হও, ইতোপূর্বে তোমার যে অবস্থা ছিলো তা লম্ফ-ঝম্ফধারী এবং গান-বাদ্যকারীদের অবস্থার অনুরূপ। এখন দেহের যে অবস্থা এসেছে তাতে দেহের কোন অংশ নেই। কল্ব্, রূহ বা অন্তঃকরণ ও আত্মার সহিত তার সম্পর্ক অধিক। অর্থাৎ দ্বিতীয় অবস্থা প্রথম অবস্থা হতে উচ্চতর। সুতরাং আকাঙ্খা ও মনের প্রফুল্লতা এখন অনুভব না হওয়াটাই অনুভব হওয়া অপেক্ষা বহুগুণ উর্ধ্বে। কেননা নিসবত বা সম্বন্ধ যতই অজ্ঞতা ও অস্থিরতার দিকে ধাবিত হয় এবং দেহ হতে যত দূরেই নিক্ষিপ্ত হয়, ততই শ্রেষ্ঠত্ব ও কাঙ্খিত বস্তু প্রাপ্তির নিকটবর্তী হয়ে থাকে। তথায় (মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট) অক্ষমতা ও অজ্ঞতা ব্যতীত অন্য কিছুর অবকাশ নেই। সেখানে অজ্ঞতাকেই “পরিচয়” প্রাপ্তি বলা হয় এবং অক্ষমতাকেই “অনুভূতি” নাম প্রদান করা হয়।