Ahmod Ali Chadmia shared a post  
1 h

1 h

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (১৯)
হযরত সা’দ ইবনে রাবী’ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার বেনযীর দৃষ্টান্ত মুবারক:
হযরত সা’দ ইবনে রাবী’ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উহুদের সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ অনেক কঠিনভাবে আহত হন| শরীর মুবারক-এ ১২টি বর্শা বিদ্ধ হয়ে শরীর ঝাঝড়া হয়ে গেছেন| তাছাড়া প্রায় ৭০টি তরবারী ও তীরের আঘাত ছিলো উনার শরীর মুবারক-এ| নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘আপনাদের মধ্যে কে আছেন যিনি হযরত সা’দ ইবনে রাবী’ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সংবাদ নিতে পারবেন? তখন হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি হযরত সা’দ ইবনে রাবী’ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে খুঁজতে বের হলেন| খুঁজতে খুঁজতে যাঁরা শহীদ হয়েছেন উনাদের মধ্যে উনাকে অনেক কঠিনভাবে আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় পেলেন এবং বললেন, ‘¯^য়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে আমাকে পাঠিয়েছেন আপনাকে খুঁজে বের করার জন্য| তখন মুমূর্ষ অবস্থায় তিনি উনার আকুতি প্রকাশ করলেন এভাবে-
فَاذْهَبْ إِلَيْهِ فَاقْرَأْهُ مِنِّي السَّلَامَ وَأَخْبِرْهُ أَنِّي قَدْ طُعِنْتُ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ طَعْنَةً وَأَنِّي قَدْ أُنْفِذَتْ مَقَائِلِي وَأَخْبِرْ قَوْمَكَ أَنَّهُ لَا عُذْرَ هُمْ عِنْدَ اللَّهِ إِنْ قُتِلَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم وَوَاحِدٌ مِنْهُمْ حَيُّ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গিয়ে উনাকে আপনি আমার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সালাম মুবারক পেশ করবেন| আর বলবেন, ‘বর্শার ১২টি আঘাত আমাকে স্পর্শ করেছে এবং আমিও কাফিরদেরকে বর্শার আঘাতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছি| আর আমার গোত্রের লোকজন উনাদের নিকট গিয়ে বলবেন, আপনাদের মধ্যে একজনও হায়াতে থাকা অবস্থায় যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন (যদি উনার কিছু হয়), তাহলে ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দরবার শরীফ-এ আপনাদের কোনো ওযরই গ্রহণযোগ্য হবে না|” (আল মুআত্তা, আল ইস্তিআব, আত তামহীদ, আত ত্ববাক্বাতুল কুবরা, ছিফাতুছ ছফওয়া, আল ইছাবাহ&, শরহুল মুআত্তা ইত্যাদি)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত মুবারক এমনই ছিলেন যে, নিজের শরীর মুবারক ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পরেও, জীবনের একেবারে শেষ প্রান্তে এসেও নিজের ব্যাপারে কোনো চিন্তা নেই; অথচ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চিন্তায় ব্যাকুল, উনার মুহব্বত মুবারক-এ ফানা ও বাক্বা| শুধু তাই নয়; এমনকি নিজ গোত্রের লোকজন উনাদের নিকট সতর্কবার্তা পাঠালেন যে, আপনারা বিশেষভাবে স্মরণ রাখবেন যে, আপনারা হায়াতে থাকতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যদি কিছু হয়, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কখনোই আপনাদেরকে ছাড় দিবেন না; বরং কঠিনভাবে পাকড়াও করবেন|