বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (৩৩)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
আল্লামা হযরত ইমাম আবুল লাইছ নছর ইবনে মুহম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহীম সমরক্বন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৩৭৩ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে বাহরুল উলূম’ উনার মধ্যে বলেন,
ثُمَّ اسْتَوٰى عَلَى الْعَرْشِ قَالَ بَعْضُهُمْ هٰذَا مِنَ الْمُتَشَابِهٖ اَلَّذِىْ لَا يَعْلَمُ تَاْوِيْلَهٗ اِلَّا اللهُ وَذُكِرَ عَنْ حَضْرَتْ يَزِيْدَ بْنِ هَارُوْنَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّهٗ سُئِلَ عَنْ تَاْوِيْلِهٖ فَقَالَ تَاْوِيْلُهٗ اَلْاِيْمَانُ بِهٖ وَذُكِرَ اَنَّ رَجُلًا دَخَلَ عَلٰى حَضْرَتْ مَالِكِ بْنِ اَنَسٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَسَاَلَهٗ عَنْ قَوْلِهٖ ﴿اَلرَّحْمٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوٰى﴾ [طه: ٥] فَقَالَ اَلْاِسْتِوَاءُ غَيْرُ مَجْهُوْلٍ وَالْكَيْفِيَّةُ غَيْرُ مَعْقُوْلَةٍ وَالْاِيْمَانُ بِهٖ وَاجِبٌ وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ وَمَا اَرَاكَ اِلَّا ضَالًّا فَاَخْرِجُوْهُ
অর্থ: “ ثُمَّ اسْتَوٰى عَلَى الْعَرْشِ(এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায়) কেউ কেউ বলেন, ‘এটি এমন মুতাশাবিহাত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অন্তভুর্ক্ত, যার প্রকৃত অর্থ মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কেউ জানে না।’ আর হযরত ইয়াযীদ ইবনে হারূন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যখন উনাকে এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বলেছিলেন— ‘সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যা হলো এতে ঈমান রাখা।’ আরো বলা হয়েছে যে, এক ব্যক্তি হযরত ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট এসে মহান আল্লাহ পাক উনার এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক—
اَلرَّحْمٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوٰى
(সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ত্বহা শরীফ উনার ৫ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলো। তখন তিনি বলেছেন—
اَلْاِسْتِوَاءُ غَيْرُ مَجْهُوْلٍ وَالْكَيْفِيَّةُ غَيْرُ مَعْقُوْلَةٍ وَالْاِيْمَانُ بِهٖ وَاجِبٌ وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ وَمَا اَرَاكَ اِلَّا ضَالًّا
‘ইস্তাওয়া’ উনার শব্দগত অর্থ সকলের জানা। কাইফিয়াত বা ধরন অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে ইস্তাওয়া হয়েছেন, এটা সবার আক্বল বা বুঝের বাইরে। এই বিষয়ে ঈমান রাখা ওয়াজিব। আর এ বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদা‘য়াত অর্থাৎ গোমরাহী। আমি তোমাকে গোমরাহ্ মনে করছি।’
তারপর সকলে মিলে ঐ ব্যক্তিকে (মজলিস থেকে) বের করে দেয়।” (তাফসীরে সামরক্বান্দী ১/৫২০)