বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (৩২)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
আল্লামা হযরত ইমাম আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মাহমূদ হাফিযুদ্দীন নাসাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৭১০ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাক্বাইকুত তা’ওইল বা তাফসীরে নাসাফী শরীফ’ উনার মধ্যে বলেন,
{ثُمَّ اسْتَوٰى} اِسْتَوْلٰى {عَلَى الْعَرْشِ} اَضَافَ الْاِسْتِيْلَاءَ اِلَى الْعَرْشِ وَاِنْ كَانَ سُبْحَانَهٗ وَتَعَالٰى مُسْتَوْلِيًا عَلٰى جَمِيْعِ الْمَخْلُوْقَاتِ لِاَنَّ الْعَرْشَ اَعْظَمُهَا وَاَعْلَاهَا وَتَفْسِيْرُ الْعَرْشِ بِالسَّرِيْرِ وَالْاِسْتِوَاءِ بِالْاِسْتِقْرَارِ كَمَا تَقُوْلُهُ الْمُشَبِّهَةُ بَاطِلٌ لِاَنَّهٗ تَعَالٰى كَانَ قَبْلَ الْعَرْشِ وَلَا مَكَانَ وَهُوَ الْاٰنَ كَمَا كَانَ لِاَنَّ التَّغَيُّرَ مِنْ صِفَاتِ الْاَكْوَانِ وَالْمَنْقُوْلُ عَنْ حَضْرَتْ اَلْاِمَامِ اَلصَّادِقِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ اَلْحَسَنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ مَالِكٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّ الْاِسْتِوَاءَ مَعْلُوْمٌ وَالتَّكْيِيْفَ فِيْهِ مَجْهُوْلٌ وَالْاِيْمَانَ بِهٖ وَاجِبٌ وَالْجُحُوْدَ لَهٗ كُفْرٌ وَالسُّؤَالَ عَنْهُ بِدْعَةٌ
অর্থ: “(অতঃপর তিনি ইস্তাওয়া করলেন) আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলেন (পবিত্র আরশ উনার উপর)। মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মাখলূকাতের উপরই পূর্ণ আধিপত্যশীল, তবুও তিনি পবিত্র আরশ উনার সঙ্গে উনার ইস্তীলা বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করাকে বিশেষভাবে সম্পর্কিত করেছেন। কারণ, আরশ হচ্ছেন মাখলূক্বাসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ। আর ‘আরশ’ উনাকে কেবলমাত্র ‘সিংহাসন’ এবং ‘ইস্তিওয়া’ উনাকে ‘বসা’ বা ‘স্থায়ী হওয়া’ বলে ব্যাখ্যা করা, যেমনটা ‘মুশাব্বিহাহ’ ফিরক্বার লোকেরা বলে থাকে— এটি বাতিল। কারণ, মহান আল্লাহ পাক তিনি আরশ সৃষ্টির আগেও ছিলেন, তখন কোনো স্থান ছিল না। আর এখনো তিনি তেমনই আছেন যেমন তিনি তখন ছিলেন। কেননা, পরিবর্তন ও রূপান্তর সৃষ্টি জগতের বৈশিষ্ট্য, মহান আল্লাহ পাক উনার নয়। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার, ইমামে আ’যম হযরত ইমাম আবূ হানীফাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ উনাদের থেকে যা বর্ণিত রয়েছেন তা হলো—
اَلْاِسْتِوَاءَ مَعْلُوْمٌ وَالتَّكْيِيْفَ فِيْهِ مَجْهُوْلٌ وَالْاِيْمَانَ بِهٖ وَاجِبٌ وَالْجُحُوْدَ لَهٗ كُفْرٌ وَالسُّؤَالَ عَنْهُ بِدْعَةٌ
অর্থাৎ ‘ইস্তিওয়া’ উনার অর্থ সকলের জানা; কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে হয়েছেন— তা অজানা। ‘ইস্তিওয়া’ উনার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। তা অস্বীকার করা কুফরী। আর এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত।” (তাফসীরে নাসাফী ১/৫৭৩)