বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (২৮)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
হযরত ইমাম শায়েখ সাইয়্যিদ আহমাদ কবীর রেফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল বুরহানুল মুআইয়্যাদ’ উনার মধ্যে বলেন,
سَاَلَ رَجُلٌ حَضْرَتْ اَلْاِمَامَ مَالِكَ بْنَ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنْ قَوْلِهٖ تَعَالٰى اَلرَّحْمٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوٰى فَقَالَ اَلْاِسْتِوَاءُ غَيْرُ مَجْهُوْلٍ وَالْكَيْفُ غَيْرُ مَعْقُوْلٍ وَالْاِيْمَانُ بِهٖ وَاجِبٌ وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ وَمَا اَرَاكَ اِلَّا مُبْتَدِعًا وَاَمَرَ بِهٖ اَنْ يُّخْرِجَ وَقَالَ اِمَامُنَا حَضْرَتْ اَلشَّافِعِىُّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ لَمَّا سُئِلَ عَنْ ذٰلِكَ اٰمَنْتُ بِلَا تَشْبِيْهٍ وَصَدَّقْتُ بَلَا تَمْثِيْلٍ وَاِتَّهَمْتُ نَفْسِىْ فِى الْاِدْرَاكِ وَاَمْسَكْتُ عَنِ الْخَوْضِ فِيْهِ كُلَّ الْاِمْسَاكِ وَقَالَ حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ اَبُوْ حَنِيْفَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ مَنْ قَالَ لَا اَعْرِفُ اللهَ اَفِى السَّمَاءِ هُوَ اَمْ فِى الْاَرْضِ فَقَدْ كَفَرَ لِاَنَّ هٰذَا الْقَوْلَ يُوْهَمُ اَنَّ لِلْحَقِّ مَكَانًا وَمَنْ تَوَهَّمَ اَنَّ لِلْحَقِّ مَكَانًا فَهُوَ مُشَبِّهٌ وَسُئِلَ حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ اَحْمَدُ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ الْاِسْتِوَاءِ فَقَالَ اِسْتَوٰى كَمَا اَخْبَرَ لَا كَمَا يَخْطُرُ لِلْبَشَرِ
অর্থ: “এক ব্যক্তি হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক— (আর রহমানু ‘আলাল ‘আরশিস্তাওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। জবাবে হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ইস্তিওয়াটা সকলের জানা। এর কাইফিয়াত বা ধরন সবার আক্বল বা বুঝের বাইরে। এই বিষয়ে ঈমান রাখা ওয়াজিব। আর এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদা‘য়াত অর্থাৎ গোমরাহী। আমি তোমাকে গোমরাহ্ মনে করি। তারপর তিনি সুওয়ালকারীকে বের করে দেয়ার জন্য নির্দেশ মুবারক দেন। আর আমাদের সম্মানিত ইমাম হযরত শাফি‘য়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে যখন ইস্তাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, তখন তিনি বলেছিলেন— ‘(ইস্তাওয়ার ব্যাপারে) আমি ঈমান এনেছি (তা) তাশবীহ ব্যতীত। বিশ্বাস করেছি (তা) সাদৃশ্যতা ব্যতীত। (এ বিষয়ে) জানার ব্যাপারে আমি নিজেকে অভিযুক্ত করেছি অর্থাৎ এই বিষয়ে আমার জানা নেই এবং এই ব্যাপারে সমস্ত প্রকার অনর্থক কথা—বার্তা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি।’ আর হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি বলবে, আমি জানি না মহান আল্লাহ পাক তিনি কি আসমানে আছেন, নাকি যমীনে? তাহলে নিঃসন্দেহে সে কুফরী করলো। কেননা, এর মাধ্যমে ধারণা করা হয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার একটি নির্দিষ্ট মাকান বা স্থান রয়েছে। আর যে ব্যক্তি এরূপ ধারণা করবে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার একটি নির্দিষ্ট মাকান বা স্থান রয়েছে, সে মুশাব্বিহা ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত।’ হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ‘ইস্তাওয়া’ সম্পর্কে সুওয়াল করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐভাবে ইস্তাওয়া হয়েছেন, যেমন তিনি সংবাদ দিয়েছেন। ঐ রকম না, যেরূপ মানুষের অন্তরে উদয় হয়’।” (আল বুরহানুল মুআইয়্যাদ ১/১৮—১৯)