গাজা ও গাজীপুর

গাজার জনসংখ্যা তেইশ লাখের মতো। ঢাকার অনেক থানার জনসংখ্যা এর চেয়ে বেশি। ঢাকার সবচেয়ে ছোট থানার একটি কামরাঙ্গীরচর, সেখানেও প্রায় পনের লাখ মানুষের বসবাস। গাজা আয়তনে গাজীপুর জেলার মতো। এত ছোট জায়গায়, মাত্র বিশ লাখ মানুষ ইজরাইলের প্রতিরোধ করছে। জনসংখ্যা ও আয়তন না জানলে এই প্রতিরোধের মহত্ব বুঝবেন না।

মুসলমানদের পতনের একশো বছরের মতো হয়ে গেল। আগে বিচ্ছিন্ন পরাজয় থাকলেও উসমানী খেলাফতের প্রভাব টিকে ছিল। গত একশো বছরে হতাশাজনক অনেককিছু সংঘটিত হলেও দুটি বিষয় অত্যন্ত ইতিবাচক।

খেয়াল করবেন, ইউরোপিয়ানরা দেশ জয় করলেও ব্যাপকভাবে ধর্মান্তর করতে পারেনি। হাজার হাজার আলেম-ধর্মপ্রিয় জনগণের চেষ্টায় ধর্মান্তর ঠেকানো গেছে। ফলে পশ্চিমা উপনিবেশ স্থায়ী হয়নি। পক্ষান্তরে আর্য বা মুসলমানদের বিজয় স্থায়ী হয়েছে। কেননা তারা মানুষকে তাদের আদর্শে সন্তুষ্ট করতে পেরেছে। খালদুন লেখেন, ধর্মান্তর ছাড়া স্থায়ীবিজয় সম্ভব নয়।

পাশাপাশি গত একশো বছরে মুসলিম জনসংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একশো বছর আগে মুসলমানদের জনসংখ্যা হিন্দুদের থেকেও অনেক কম ছিল। এখন সুন্নি ইসলাম সবচেয়ে বেশি অনুসারী বিশিষ্ট সম্প্রদায়। দুই হাজার ষাট সত্তরের দিকে মুসলিম জনসংখ্যা খৃস্টানদের চেয়ে বেশি হবে। বেশকিছু ইউরোপিয়ান সিটিতে মুসলমানরা হবে সংখ্যাগড়িষ্ঠ।

শুধু একটা জায়গাতেই মুসলমানরা পিছিয়ে। সেটি হচ্ছে তাদের বিশেষ কোন রাষ্ট্র নাই। ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সে শক্তিশালী রাষ্ট্র নাই। তবে কোন সভ্যতা সামগ্রিক পরাজয়ের একশো বছরের মধ্যে এতটা ঘুরে দাড়িয়েছে : ধর্মবিশ্বাস ও জনসংখ্যায়, এর দৃষ্টান্তও অত্যন্ত বিরল।