কুতুবুল আলম, আমীরুশ শরীয়ত, মাহতাবে তরীকত, মাহিউল বিদয়াহ, মুহ্ইস সুন্নাহ, মুজাদ্দিদুয যামান, হুজ্জাতুল ইসলাম, রঈসুল মুহাদ্দিছীন, ফখরুল ফুক্বাহা, তাজুল মুফাসসিরীন, সুলতানুল আরিফীন,
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (২য় পর্ব)
তা’লীম তরবিয়ত:
লোহার পুল মসজিদের অনতিদূরে (মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম পার্শে) একটি বাড়ীতে তিনি স্বপরিবারে অবস্থান মুবারক করতেন। বর্ষার দিনে বাড়ীর রাস্তায় পানি উঠে যেতো। প্রবল বর্ষায় মসজিদ থেকে বাড়ী পর্যন্ত যেতে হাঁটু পানি ডিঙ্গিয়ে যেতে হতো। উক্ত ঘরে দু’টি কামরা ছিলো। একটি কামরায় একটি বড় চৌকি ছিলো, যা কামরাটির অধিকাংশ স্থান দখল করে রেখেছিলো। নীচে বসার বিশেষ জায়গা ছিলো না। শুধু চলাচল করার মত জায়গা ছিলো। এই কামরাটি “হুজরা শরীফ” হিসাবে ব্যবহƒত হতো। মুরীদান বা মেহমান কেউ গেলে এখানেই বসতেন। কেউ বাইয়াত হওয়ার জন্য গেলে এখানে এই চৌকির উপর বসেই বাইয়াত গ্রহণ করতেন। মেহমানদের খাবার পরিবেশনও করা হতো।
পার্শবর্তী অপর কামরাটিতে সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আহলিয়া ও আওলাদগণ উনারা থাকতেন। উক্ত কামরার প্রবেশদ্বারে পর্দা ঝুলিয়ে রাখা হতো। এই বাড়ীটির সামনে প্রশস্ত উঠান ছিলো। কোন কোন মুরীদান হাদিয়া হিসাবে মোরগ নিয়ে আসতেন। মাঝে মাঝে দু’একটি মোরগ বাড়ীতে পালন করা হতো।
ফানা ফিশশায়েখ:
সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত মুর্শিদ কিবলা হযরত ন’হুযূর কিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুহব্বতে প্রায়ই গরক থাকতেন। তিনি সত্যিকারের ফানা ফিশ-শায়খ ছিলেন। যিকিরের মজলিসে মাঝে মাঝে এই শে’রটি অত্যন্ত আশিক্ব হয়ে সুললতি কন্ঠে আওড়াতে থাকতেন-
“আয় মুরশিদে তরীকত, এক রং সে রাঙ্গা দে,
যিস্ রং সে তু রাঙ্গা হ্যায়, উস রং সে রাঙ্গা দে।”
সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত হযরত মুর্শিদ কিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শেষ জীবনে যখন অসুস্থ হয়ে যান, তখন উনার আরোগ্যের জন্য যিকিরের মজলিসে খতমে শিফা এবং খতমে খাজেগান পড়াতেন। এই খতমের সময় ছিলো আছর থেকে মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত। খতমের জন্য অনেকগুলি তেতুলের বীচি রাখা হতো। যাকিরীনদের যে কেউ আছর থেকে মাগরিবের পূর্বে আসতো, এই খতম পড়ায় শামিল হয়ে যেতো। সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র ইশা উনার নামাযের আযানের মুনাজাতে হাত তুলে দোয়া করতেন। আযানের দোয়া (বিস্তৃতভাবে) উক্ত মুনাজাতে আদায় করে একসঙ্গে ছওয়াব রেসানীর মুনাজাত শেষ করতেন।
স্বীয় মুর্শিদ কিবলা উনার ছানা ছিফত:
সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্মানিত মুর্শিদ কিবলা উনার অনেক ছানা ছিফত করতেন। তিনি বলেন- প্রত্যেক লোকের কথা বলার একটি নিয়ম আছে। আমার সম্মানিত মুর্শিদ কিবলা তিনি যখন “আল্লাহ” নাম উচ্চারণ করতেন, তিনি বলতেন মহান আল্লাহ পাক। তিনি উনার কথাবার্তায় শুধু ‘আল্লাহ’ না বলে, বলতেন ‘আল্লাহ-পাক’। সেই নিয়ম আমিও মেনে চলি। সুবহানাল্লাহ!
সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমার সম্মানিত মুর্শিদ কিবলা হযরত ন’হুযূর কিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন মাদারজাদ ওলী। তিনি প্রথম জীবনে অত্যন্ত জালালী তবীয়তের ছিলেন। সচরাচর লোক উনার নিকটে ভয়ে আসতো না। যদি কারো আচার আচরণে তিনি অসন্তুষ্ট হতেন, তৎক্ষণাৎ তার ক্ষতি হয়ে যেতো। আমি উনার মুরীদ হওয়ার পর দেখতে পেলাম তিনি ইলমে মা’রিফাতের এক বিরাট সমুদ্র, এত সব নিয়ামত নিয়ে বসে আছেন, অথচ লোক উনার জালালিয়তের কারণে যথোপযুক্তভাবে উপকৃত হতে পারছে না, আমি উনার নিকট আর্জি পেশ করলাম তিনি যেন এই জালালী ভাব জামালীভাবে রূপান্তরিত করেন। অতঃপর তিনি জামালী ভাব ধারণ করেন। এরপর লোকজন উনার মুরীদ হয়ে উনার ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ হাছিল করেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ন’হুযূর কিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ঢাকার গেন্ডারিয়ার বাড়ীতে অবস্থানকালে (এ বাড়ীতে তিনি দীর্ঘদিন বসবাস করেছিলেন। পরে এ বাড়ীতে উনার ছাহেবজাদা হুজ্জাতুল্লাহ ছাহেবকে রেখে তিনি ফুরফুরা শরীফ চলে যান।) সুলতানুল আরিফীন যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত করতেন এবং সব সময় উনার নিকটে বসাতেন। এটা দেখে উনার অনেক পুরাতন মুরীদ উনাকে ঈর্ষা করতেন।
-আলহাজ্জ ছূফী সাঈদ আহমদ গজনবী।