ঐতিহাসিক খন্দক জিহাদ ও ইহুদী বনূ কুরাইজাদের পরাজিত ও তাদেরকে হত্যা করার পর অবশিষ্ট থাকলো সালাম বিন আবিল হুক্বাইক। যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে মানুষকে প্ররোচিত করতো।
কাট্টা কাফির সালাম বিন আবিল হুক্বাইকের উপনাম ছিলো আবূ রাফি’। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি বিদ্বেষী ও বৈরীভাবাপন্ন ইহুদী প্রধানদের সে ছিলো অন্যতম। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের প্ররোচিত ও প্রলোভিত করার ব্যাপারে সে সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতো এবং ধন সম্পদ ও রসদ সরবরাহ করে তাদের সাহায্য করতো। নাউযুবিল্লাহ! এছাড়া স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারকে কষ্ট দেয়ার ব্যাপারে সর্বক্ষণ সে উদ্বাহু থাকতো। বিভিন্ন সমাবেশে, মঞ্চে, মেলায় সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে কষ্ট দেয়ার জন্য কুৎসা রটনা করতো, অবমাননাকর কথা-বার্তা বলতো। নাউযুবিল্লাহ! তথা সে সবচেয়ে বড় শাতিমে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলো। নাউযুবিল্লাহ!
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যখন বনু কুরাইজার সমস্যাবলী থেকে মুক্ত হয়ে কিছুটা বিরতি নিচ্ছিলেন তখন খাযরাজ গোত্রের কতিপয় হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে অনুমতি মুবারকের আর্জি পেশ করে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইতোপূর্বে আউস গোত্রের কয়েকজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কাট্টা কাফির কা‘ব বিন আশরাফকে হত্যা করেছেন। কাজেই আমরা খাযরাজ গোত্রও অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের দুশমন, কাট্টা কাফির আবূ রাফি’কে হত্যা করতে চাই। উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুমতি মুবারকে জন্য আর্জি পেশ করতে লাগলেন। উনাদের আর্জি মুবারক পেশের পরিপ্রেক্ষিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে অনুমতি মুবারক দান করলেন এবং বিশেষভাবে নির্দেশ মুবারক দিলেন যে, মহিলা এবং শিশুদের যেন হত্যা করা না হয়। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুমতি মুবারক লাভের পর পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি দল অভীষ্ট গন্তব্য অভিমুখে রওয়ানা হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ!