সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেন-إِنْ كَانَ رَافِضِيُّ بِحُبِّ آلِ رَسُوْلِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلْيَشْهَدِ التَّقَلَانِ آتِي رَافِضِي.

অর্থ : "যদি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করার কারণে কেউ রাফিজী হয়, তবে জ্বীন- ইনসান তথা আসমান-যমীন স্বাক্ষী থাকুক যে, নিশ্চয়ই আমি রাফিজী।" (হিলইয়াতুল আউলিয়া)

এ প্রসঙ্গে আরো “তাফসীরে কাশশাফ ও তাফসীরে কাবীরে" হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কবিতার একটি পংক্তি উল্লেখ আছে।

عَنْ حَضْرَتِ الرَّبِيعِ بْنِ سُلَيْمَانَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ حَضْرَتِ الشَّافِعِيِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مِنْ مَّكَّةَ نُرِيدُ مِنَى فَلَمْ يَنْزِلْ وَادِيًا وَلَمْ يَصْعَدُ شِعْبًا إِلَّا وَهُوَ يَقُوْلُ يَا رَاكِبًا قِفْ بِالْمُحَصَّبِ مِنْ مِّنَى وَاهْتَفَ بِقَاعِدِ خَيْفِهَا وَالنَّاهِضِ سِحْرًا إِذَا فَاضَ الْحَجِيجُ إِلَى مِنَى فَيْضًا كَمُلْتَطِمِ الْفُرَاتِ الْفَائِضِ إِنْ كَانَ رَفْضًا حُبُّ آلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلْيَشْهَدِ الثَّقَلَانِ أَنِّي رَافِضِيُّ.

অর্থ: "হযরত রবী বিন সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে পবিত্র মক্কা শরীফ হতে মীনায় যাওয়ার ইরাদা করলাম। এমতাবস্থায় ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উপত্যকার সন্নিকটে গিয়ে বললেন, হে অশ্বারোহী! আপনি মহাস্রাব উপত্যকার অদূরে গিয়ে অবস্থান করে লক্ষ করুন, প্রত্যুষে যখন হাজীগণের স্রোত- সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গের ন্যায়; পবিত্র মিনা উনার দিকে রওনা হবে, তখন সেখানকার প্রত্যেক বাসিন্দা ও পথচারীগণকে ডেকে আপনি ঘোষণা করুন, যদি কেবল- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম বংশধর তথা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি মুহব্বত রাখলেই মানুষ যদি রাফেজী হয়, তবে কায়িনাতের সমস্ত মাখলুকাত তথা জীন-ইনসান সাক্ষী থাকুক, আমি পবিত্রতম আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে আমার জীবনের চেয়েও অত্যধিক মুহব্বত করি। তাহলে আমিও তথা আমিই রাফিজী।” (তাফসীরে কবীর)

হযরত কাজী হামিদুদ্দীন নাগুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন-

علی را محبت دارم خلق + گوید را فضی

پس خدا و رسول + و جبریل باشد را فضی

অর্থ: আমি হযরত মাওলা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত করি বলে লোকেরা আমাকে রাফিজী (শিয়া) বলে দোষারোপ করে। তাহলে মহান আল্লাহ পাক ও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও হযরত জিব্রীল আলাইহিস সালাম উনারাও রাফিজী (শিয়া)। নাউযুবিল্লাহ! অর্থাৎ আমি যেমন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহি সালাম উনাকে মুহব্বত করি আমা হতে শত গুণে বেশি মুহব্বত করেন মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত জিব্রীল আলাইহিস সালাম। তাহলে উনারা বড় শিয়া। নাউযুবিল্লাহ!

যারা উক্ত আক্বীদা পোষণ করবে তারা কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হয়ে যাবে। ঠিক অনুরূপভাবে যারা অন্যান্য হযরত ছাহাবা-ই কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনাদরকে দোষারোপ করে- খারাপ ধারণা পোষণ করে শুধু নামকা ওয়াস্তে মৌখিকভাবে মহাসম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত দেখায় অথচ উনাদের প্রশংসা শুনলে ভ্রু-কুঞ্চিত করে তারাও কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী, তারা যে সম্প্রদায়েরই হোক না কেন। নাঊযুবিল্লাহ!

image