ফতওয়া
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১১)

পবিত্র সুন্নত মুবারক ও আদেশ মুবারক এবং ওয়াছিয়ত মুবারক পালন করা ফরয যা ক্বেতঈ দলীল দ্বারাই সাব্যস্ত হয়েছে
৩য় দলীল
কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন, একবার সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি একখানা ফলক উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার কিছু সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং কিছু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ লিখে টাঙ্গিয়ে দিলেন; যার শিরোনামে লিখা ছিলো— ‘মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক’। ঐ ফলকখানা দেখে একজন হাফেযে কুরআন বিশিষ্ট তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি যে এখানে শিরোনাম লিখেছেন— ‘মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক’; কিন্তু এখানে তো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার কিছু সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং কিছু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ লিখিত রয়েছেন। তাহলে এর শিরোনাম কিভাবে ‘মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক’ হতে পারে? কারণ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ কি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক?
তখন জবাবে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনি কি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ পড়েছেন, তখন সে ব্যক্তি বললেন আমি তো একজন হাফিযে কুরআন শরীফ। তখন হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তাই যদি হয়, তাহলে আপনি কি ঐ সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফখানা তিলাওয়াত করেননি? তখন হাফিজ সাহেব জানতে চাইলেন, কোন সে আয়াত শরীফ? হযরত সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَمَاۤ اٰتٰىكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَـهٰىكُمْ عَنْهُ فَانْـتَـهُوْا. وَاتَّـقُوا اللهَ. اِنَّ اللهَ شَدِيْدُ الْعِقَابِ
“নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা নিয়ে এসেছেন, তা আঁকড়িয়ে ধরো এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন, তা থেকে বিরত থাকো। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠোর শাস্তিদাতা।” না‘ঊযুবিল্লাহ!