ফতওয়া
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১০)
পবিত্র সুন্নত মুবারক ও আদেশ মুবারক এবং ওয়াছিয়ত মুবারক পালন করা ফরয যা ক্বেতঈ দলীল দ্বারাই সাব্যস্ত হয়েছে
২য় দলীল
নিম্নোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে এই ফতওয়াটি আরো শক্তিশালী হয়,
عَنْ حَضْرَتْ عَلْقَمَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ لَعَنَ اللهُ الْوَاشِـمَاتِ وَالْمُوْتَشِمَاتِ وَالْمُتَـنَمِّصَاتِ وَالْمُتَـفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّـرَاتِ خَلْقَ اللهِ فَـبَـلَغَ ذٰلِكَ اِمْرَاَةً مِّنْ بَۢـنِـىْ اَسَدٍ يُـقَالُ لَـهَا حَضْرَتْ اُمُّ يَـعْقُوْبَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَـنْـهَا فَجَاءَتْ فَـقَالَتْ اِنَّهٗ بَـلَغَنِـىْ عَنْكَ اَنَّكَ لَعَنْتَ كَـيْتَ وَكَـيْتَ فَـقَالَ وَمَا لِـىْ اَلْعَنُ مَنْ لَّعَنَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ هُوَ فِـىْ كِـتَابِ اللهِ فَـقَالَتْ لَقَدْ قَـرَأْتُ مَا بَـيْـنَ اللَّوْحَـيْـنِ فَمَا وَجَدْتُ فِيْهِ مَا تَـقُوْلُ قَالَ لَئِنْ كُـنْتِ قَـرَأْتِـيْهِ لَقَدْ وَجَدْتِـيْهِ اَمَا قَـرَأْتِ [وَمَاۤ اٰتٰىكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَـهٰىكُمْ عَنْهُ فَانْـتَـهُوْا] قَالَتْ بَـلـٰى قَالَ فَاِنَّهٗ قَدْ نَـهٰى عَنْهُ
“বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত আলকামা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ সমস্ত মহিলাদের উপর লা’নত করেছেন, যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকন করে ও নিজ শরীরে উল্কি অংকন করায় এবং যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রম্ন—চুল উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে নিজ থেকে ফাঁক সৃষ্টি করে। এসব মহিলা মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টিতে বিকৃতি সাধনকারী। উনার এই কথা মুবারক বনূ আসাদ গোত্রের একজন মহিলা ছাহাবিয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার নিকট পেঁৗছলো। যাঁকে হযরত উম্মে ইয়া’কূব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা বলা হতো। তিনি হযরত ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট এসে বললেন, আমি জানতে পেরেছি, আপনি নাকি (যারা অন্যের শরীরে উল্কি অংকন করে ও নিজ শরীরে উল্কি অংকন করায় এবং যারা সৌন্দর্যের জন্য ভ্রম্ন—চুল উপড়িয়ে ফেলে ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে।) এমন মহিলাদের প্রতি লা’নত করেন। হযরত ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি কেন এমন মহিলাদের প্রতি লা’নত করব না, যাদের প্রতি স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি লা’নত করেছেন এবং যাদের কথা মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাবে রয়েছে? মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি বললেন, আমি তো দুই ফলকের মাঝে যা আছে অর্থাৎ সম্পূর্ণ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ পড়েছি; কিন্তু আপনি যা বলছেন সেটা তো পাইনি। তিনি বললেন, আপনি যদি (ভালোভাবে বুঝে—শুনে) পড়তেন, তবে অবশ্যই পেতেন। আপনি কি পড়েননি?
وَمَاۤ اٰتٰىكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ وَمَا نَـهٰىكُمْ عَنْهُ فَانْـتَـهُوْا
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা নিয়ে এসেছেন, তা আঁকড়িয়ে ধরো এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন, তা থেকে বিরত থাকো।’
উক্ত মহিলা ছাহাবিয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি বললেন, হঁ্যা; পেয়েছি। তখন হযরত ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই তো এটা থেকে নিষেধ করেছেন।”
তখন হযরত মহিলা ছাহাবিয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি তা মেনে নিলেন।